নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: বিরোধীশূন্য রাজ্যসভাতে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বক্তব্য রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী রাজ্যসভায় উপস্থিত না থাকার প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেন বিরোধীরা। বুধবার আলোচনার শেষ বক্তা হিসেবে সন্ধ্যে সাতটার পরে শাহ ভাষণ শুরু করতেই প্রধানমন্ত্রীকে থাকতে হবে দাবি তোলেন বিরোধীরা।
বৃহস্পতিবার ‘প্রধানমন্ত্রী কো সদন মে লাও’ বলে স্লোগান দিয়েছেন বিরোধীরা। তাতে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা গিয়েছে তৃণমূলকেই। বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি সভার অপমান’ বলে সরব হন। তাতে পাল্টা শাহ বলেন, “যখন আমিই সামলাতে পারছি তখন তাঁকে কেন ডাকা হচ্ছে?” এই শুনেই রে রে করে ওঠেন বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রীকে হাজির থাকতে হবে বলে স্লোগানও দেন সম্মিলিত বিরোধীরা। তাতে শাহ বলেন, “বিরোধীরা জিজ্ঞাসা করছে প্রধানমন্ত্রী কোথায়? প্রধানমন্ত্রী এখন অফিসে আছেন, তিনি বেশি কিছু শুনতে আগ্রহী নন। আমিই যখন সামলাতে পারছি তাহলে আপানারা তাঁকে কেন ডাকছেন।”
শাহ একথা বলতেই খাড়গে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে থাকলেও তিনি এখানে আসছেন না, এটি সংসদের অপমান। সংসদের সদস্যদের অপমান করা ঠিক নয়।” এরপরেই রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ সমস্ত বিরোধী সাংসদরা। বিরোধীশূন্য রাজ্যসভাতে প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ভাষণ চালিয়ে যান শাহ। সেখানে তিনি বলেন, “পাকিস্তানি জঙ্গিরা যে ক্ষতি করেছে তার জবাবে ভারত সরকার এবং সেনাবাহিনী অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে কড়া জবাব দিয়েছে। অপারেশন মহাদেবে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণের পরে রাজ্যসভা মুলতুবি হয়। সংসদে অপারেশন সিঁদুরের উপর দু’দিনের বিশেষ আলেচনাও শেষ হয়ে গিয়েছে। শাহর আগে শাসক দলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার দলনেতা তথা বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন,”২০১৪ সালের আগে সর্বত্র বোমা বিস্ফোরণ হত, কিন্তু ইউপিএ সরকার পাকিস্তানিদের মিষ্টি খাওয়াত।” কংগ্রেসকে নিশানা করে আক্রমণ শানান তিনি।
