রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যর সাসপেনশন উঠলেও জেলায় পার্টির কাজ তিনি করতে পারবেন না। রাজ্য কমিটির অধীনে তাঁকে কাজ করতে হবে। সাসপেনশন তুলেও প্রবীন সিপিএম নেতাকে নিয়ন্ত্রণের ফাঁসে বেঁধে রাখল আলিমুদ্দিন। যা ব্যতিক্রমী বলেই মনে করা হচ্ছে।
এক মহিলা সাংবাদিকে হেনস্থার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল তন্ময় ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধে। তদন্ত রিপোর্টের পর গত ডিসেম্বরে তাঁকে ফের ছ’মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। সেই সাসপেনশন উঠে যাওযার বিষয়টি সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে ঘোষণা করেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। কিন্তু সেলিম জানান, তন্ময় রাজ্য কমিটির তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। সাসপেনশন উঠলে সাধারণত যেখানকার নেতৃত্ব সেখানে আবার পাঠানো হয় কাজ করার জন্য। কিন্তু এক্ষেত্রে রাজ্য কমিটির অধীনে তাঁকে কাজের জন রাখা হল। অর্থাৎ, রাজ্যদপ্তরের বাইরে তিনি অন্য কোথাও কাজ করতে পারবেন না। নিজের জেলা উত্তর ২৪ পরগনার কোনও দলীয় কাজেও তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। আর এখানেই প্রশ্ন, তাহলে কি তন্ময়ের উপর আরও কড়া হল আলিমুদ্দিন?
এদিকে, কালীগঞ্জে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে তৃতীয় হয়েছে বাম সমর্থিত কংগ্রেস বা জোট প্রার্থী। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী পেয়েছিলেন ১২ শতাংশ ভোট। এবার উপনির্বাচনে ১৫.২১ শতাংশ ভোট এসেছে বাম-কংগ্রেস জোটের ঝুলিতে। ভোট বাড়লেও ফলাফল সন্তোষজনক নয় বলেই এদিন রাজ্য কমিটির বৈঠকে উঠে এসেছে আলোচনায়। ফল সন্তোষজনক না হওয়ার পিছনে জোট প্রার্থী নিয়ে স্থানীয়স্তরে অসন্তোষ ছিল বলে মনে করছে সিপিএম। জোট প্রার্থী কাবিলউদ্দিনকে নিয়ে স্থানীয় সিপিএমের মধ্যে এবং কংগ্রেসের একাংশে অসন্তোষ ছিল। ফলে ভোটের কাজ মসৃণভাবে করা যায়নি বলে মেনে নিচ্ছে সিপিএম। এদিকে, কালীগঞ্জে বোমায় বালিকার নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ জুন কালীগঞ্জে সভা করবে সিপিএম। সভায় বক্তা মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ২৯ জুন বিমান বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্টের প্রতিনিধিদল যাবে কালীগঞ্জ।
