সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধের দামামা থামতেই চাঙ্গা দেশের শেয়ার বাজার। সোমবার বাজার খুলতেই ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির প্রভাব দেখা গেল দালাল স্ট্রিটে। অতীতের রেকর্ড ভেঙে একধাক্কায় ২ হাজার পয়েন্টের বেশি বাড়ল সেনসেক্স। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিফটিও। সবমিলিয়ে খুশির জোয়ারে ভেসেছেন বিনয়োগকারীরা।
ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতি যে শেয়ার বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে সে সম্ভাবনা ছিলই। তবে তা যে রকেটের গতিতে ছুটবে এমনটা আশা করেননি কেউই। সোমবার বাজার খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যে দেখা যায় সেনসেক্স ১৮০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও উপরে উঠতে থাকে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, ২২৮৩.৮৪ পয়েন্ট অর্থাৎ ২.৮৭ শতাংশ বেড়ে সেনসেক্স পৌঁছে গিয়েছে ৮১,৭৩৮.৩১ পয়েন্টে। পিছিয়ে নেই নিফটিও। রিপোর্ট বলছে, ৭১১.২৫ পয়েন্ট বেড়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিফটির সূচক। যার জেরে ২.৯৬ শতাংশ বেড়ে নিফটি পৌঁছে যায় ২৪,৭১৯.২৫তে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিফটি ও সেনসেক্সের সূচকে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি ৮১,৭০০ থেকে ৮১,৯০০ পয়েন্টের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে সেনসেক্স।
যে শেয়ারগুলিতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে সেগুলি হল, ইন্ডিগো অ্যাভিয়েশন, শ্রীরাম ফিনান্স, দ্য ইন্ডিয়ান হোটেল, আদানি গ্রিন, রিলায়েন্স পাওয়ার, আদানি পাওয়ার, আদানি এন্টারপ্রাইস-এর মতো শেয়ারগুলি। ৬ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এই শেয়ারগুলি। পাশাপাশি এই ভরা বাজারেও পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে ইন্ডাসিন্ড ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, হ্যাল, সান ফার্মার মতো শেয়ারগুলিতে। ১ থেকে ২ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে শেয়ারগুলিতে।
ভারতের শেয়ারবাজারের এই উত্থান প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের দাবি, মার্কিন শুল্ক নীতির পর ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি। চিনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতির সবুজ সংকেত অন্যতম কারণ। তবে এই বিরাট উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি। গত কয়েকদিনে দুই দেশের সামরিক সংঘাতের পর শনিবার বিকেলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। এই ঘটনা বিনিয়োগকারীদের মনে ভরসা যুগিয়েছে। এরপর সোমবার বাজার খুলতেই বিনিয়োগে জোয়ার এসেছে শেয়ারবাজারে।
