শ্রীলঙ্কা ছাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতে হানা ‘দিতওয়া’ দৈত্যের! অন্ধ্র-তামিলনাড়ুতে প্রবল দুর্যোগ, মৃত ৩

শ্রীলঙ্কা ছাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতে হানা ‘দিতওয়া’ দৈত্যের! অন্ধ্র-তামিলনাড়ুতে প্রবল দুর্যোগ, মৃত ৩

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় তাণ্ডব চালানোর পর দক্ষিণ ভারতে হানা দিল ‘দিতওয়া’ দৈত্য। ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, পুদুচেরিতে। এই দুর্যোগের জেরে এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তামিলনাড়ুতে।

প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ঝড়টি চেন্নাই ও পুদুচেরির মাঝামাঝি অংশে সমুদ্রের মাঝে অবস্থান করছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ৭ কিলোমিটার বেগে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রবিবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড়টি কুড্ডালোর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে এবং চেন্নাই থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও নিম্নচাপের জেরে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে। দুর্যোগে দেওয়াল চাপা পড়ে তামিলনাড়ুর থুথুকুড়ি ও থানজাভুর এলাকায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তড়িদাহত হয়ে ২০ বছরের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে মায়িলাদুথুরাই এলাকায়। ভারী বৃষ্টি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করেছে নাগপট্টিনম জেলায়।

দুর্যোগের জেরে বিপর্যস্ত উড়ান পরিষেবাও। শনিবার চেন্নাই বিমানবন্দরে ৩৫টি উড়ান বাতিল করা হয়েছিল। রবিবার আরও ৪৭টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগ সামলাতে রেলের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলওয়ে বোর্ড, জোন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ওয়ার রুম সক্রিয় করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রেনও বাতিল করা হয়েছে। যে কোনও পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যালার্ট মোডে রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের জেরে ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে এবং সর্বোচ্চ ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া আছড়ে পড়েছিল দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায়। প্রবল বৃষ্টি, ঝড় ও ভূমিধসের জেরে সেখানে এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশের সংকটে পাশে দাঁড়িয়ে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’ শুরু করেছে ভারত। পাঠানো হয়েছে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল। সেখানে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছে ভারতীয় হাই কমিশন। চালু হয়েছে হেল্পলাইন নম্বর। খোলা হয়েছে জরুরি সহায়তা ডেস্কও। শ্রীলঙ্কায় আটকে পড়া ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে হাই কমিশন। খাবার, জল এবং অন্যান্য প্রাথমিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *