শহরে ফের ‘টার্গেট’ একাকী বৃদ্ধা, গলা কেটে খুনের চেষ্টার পর গয়না ডাকাতি, গ্রেপ্তার পরিচিত ফল ব্যবসায়ী

শহরে ফের ‘টার্গেট’ একাকী বৃদ্ধা, গলা কেটে খুনের চেষ্টার পর গয়না ডাকাতি, গ্রেপ্তার পরিচিত ফল ব্যবসায়ী

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


ফের শহরে সফট টার্গেট একাকী বৃদ্ধা। গলা কেটে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করল পরিচিত ফলের ব‌্যবসায়ী। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগর এলাকায়। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাণে বেঁচে যান ওই বৃদ্ধা।

এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ফল ব‌্যবসায়ী সুকুমার বৈদ‌্য বৃদ্ধার সোনার গয়না সঙ্গে নিয়েই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়ায়। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর এলাকার সূর্যপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার  করে নেতাজিনগর থানার পুলিশ। ধৃতের থেকে উদ্ধার হয়েছে লুঠ করা সোনার গয়না।

আরও পড়ুন:

পুলিশ জানিয়েছে, নেতাজিনগর এলাকার পল্লিশ্রীর বাসিন্দা ৭৬ বছরের বৃদ্ধা কৃষ্ণা রায়চৌধুরি বাড়িতে একাই থাকেন। তাঁর দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে পরিচারিকা কাজ করে চলে যান। পল্লিশ্রী এলাকায় সুকুমার ফল বিক্রি করতে আসত। বৃদ্ধা তার কাছ থেকে ফল কিনতেন। গাছের শখ থাকায় বৃদ্ধাকে সুকুমার গাছও এনে দিত।

এই অছিলায় ‘দিদিমা’ বলে ডেকে বৃদ্ধার বাড়ির ভিতর ঢুকতে শুরু করে সে। তার নজর ছিল বৃদ্ধার গয়নার উপর। গত শুক্রবার সুকুমার কাজের অছিলায় একটি ছুরি সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢোকে। বৃদ্ধা তাকে গাছে জল দিতে বলেন। রান্নাঘরে ব‌্যস্ত ছিলেন বৃদ্ধা। সে নিঃশব্দে বৃদ্ধার পিছনে এসে তাঁর গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। ছটফট করতে করতে তিনি মেঝেয় পড়ে যান। শরীর থেকে গয়না লুঠ করে পালিয়ে যায় সুকুমার।

ঘটনার মিনিট কুড়ি পর পরিচারিকা এসে দেখেন, দরজা খোলা। তাতে তাঁর সন্দেহ হয়। ভিতরে এসে বৃদ্ধাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি চেঁচামেচি শুরু করেন। প্রতিবেশীরা বৃদ্ধাকে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিবার ভর্তি করায়। বৃদ্ধার  চিকিৎসা চলছে। খবর গিয়েছে মেয়েদের কাছেও।

খবর পেয়ে তদন্তে নামে নেতাজিনগর থানার পুলিশ ও লালবাজারের গোয়েন্দারা। সিসিটিভি দেখে সুকুমারকে শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ ছিল। পুলিশ তার ঠিকানা জেনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে ধৃতের বাড়িতে পৌঁছয়। কিন্তু ততক্ষণে  বেগতিক বুঝে সে গোচরণ এলাকায় তার এক আত্মীয়র বাড়িতে চলে যায় অভিযুক্ত। সেখানেও বেশিক্ষণ থাকেনি সে।  প্রথমে নামখানা ও তারপর বকখালিতে পৌঁছয়। বকখালির সমুদ্রসৈকতে এক বেলা ঘুরে বেড়ায় সে। কিন্তু সেখানে পুলিশ পৌঁছনোর আগে সে ফের বাসে করে নামখানায় চলে আসে। সেখান থেকে ট্রেন ধরে বারুইপুরের সূর্যপুরে এসে পৌঁছয়। সেখান ঘোরাঘুরি করছিল সুকুমার। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় পুলিশের টিম। নতুন ডেরায় গা ঢাকা দেওয়ার আগেই সুকুমারকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *