ইডি, সিবিআই, আয়কর বিভাগের মতো এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করেও বিশেষ ফল হচ্ছে না বাংলায়। রসদে ঘাটতি পড়তেই ভোটের আগে খোদ রাষ্ট্রপতিকে মাঠে নামাল বিজেপি! বঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে অপমানের অভিযোগ তুলে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপি ছোট-বড় নেতারা। ঠিক সেই সময় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে পালটা তোপ দাগল কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ দেশের বিরোধী দলগুলি।
আরও পড়ুন:
শনিবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে মুখ্যমন্ত্রীর না আসার ঘটনাকে, ‘রাষ্ট্রপতির অপমান’ ও ‘সীমা লঙ্ঘনের’ মতো চোখা চোখা শব্দে আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর সেই বার্তার পালটা এক্স হ্যান্ডেলে কংগ্রেস নেত্রী অলকা লম্বা লেখেন, ‘এতদিন তো সারেন্ডার জি ভোটে জিততে নির্বাচন কমিশন, আয়কর, সিবিআই, ইডিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে এসেছেন। কিন্তু উনি যখন দেখছেন বাংলায় এই সবকিছুই কম পড়ে যাচ্ছে তখন রাষ্ট্রপতি মুর্মুকেও ভোটের ময়দানে নামিয়ে দিলেন। রাষ্ট্রপতিভবন বিজেপি সরকারের নির্দেশ মেনে যেভাবে বাংলায় রাজনীতির আখড়ায় নেমে পড়ল। এভাবে রাষ্ট্রপতি পদের গরিমা খুন্ন করা মোটেই সঠিক হয়নি।’
अब तक तो सरेंडर जी आप चुनाव जीतने के लिए चुनाव आयोग का ,इनकम टैक्स विभाग का , CBI का , ED का इस्तेमाल अपने विरोधियों के ख़िलाफ़ करते रहे,बंगाल में जब यह सब जीत के लिए कम पड़ता दिखा तो राष्ट्रपति मुर्मू जी को चुनावी मैदान में उतार दिया –@rashtrapatibhvn ने भाजपा सरकार के कहने पर… https://t.co/TPQeG8DgjT
— Alka Lamba 🇮🇳 (@LambaAlka) March 7, 2026
এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হয়েছে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক দল ডিএমকে। দলের নেতা সারাভানা আন্নাদুরাই এক্স হ্যান্ডেলে রাষ্ট্রপতির সেই বিবৃতি তুলে ধরে লেখেন, ‘রাষ্ট্রপতি কবে থেকে বাংলায় বিজেপির প্রতিনিধি হয়ে উঠলেন? এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনাই প্রমাণ করে বিজেপি আসলে কতখানি মরিয়া হয়ে উঠেছে।’
When did the President of India develop into a proxy voice of the BJP Bengal?
Very unlucky.
Reveals how determined the BJP is. https://t.co/CCauniYWHR— Saravanan Annadurai (@saravofcl) March 7, 2026
উল্লেখ্য, বঙ্গ সফরে এলেও তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় শনিবার সরব হয়েছিলেন খোদ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও।” রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে মাঠে নামেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
এতদিন তো সারেন্ডার জি ভোটে জিততে নির্বাচন কমিশন, আয়কর, সিবিআই, ইডিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে এসেছেন। কিন্তু উনি যখন দেখছেন বাংলায় এই সবকিছুই কম পড়ে যাচ্ছে তখন রাষ্ট্রপতি মুর্মুকেও ভোটের ময়দানে নামিয়ে দিলেন।
এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘এটি লজ্জাজনক। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকাভাবে দেখছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’
আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় বিতর্ক মাথাচাড়া দিলে মুখ খোলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে ঘটা ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, ‘সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি শিলিগুড়িতে পা রাখার পর প্রোটোকল মেনেই সেখানে যান শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। প্রথা মেনেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা ও বিদায় জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে স্বাগত জানানো বা মঞ্চে থাকার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। জেলা প্রশাসন সেখানে উপস্থিত থাকায় প্রোটোকল ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না।’ এরপরই সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বিজেপি নিজেদের দলীয় স্বার্থে দেশের সর্বোচ্চ পদকে অসম্মান ও অপব্যবহার করছে। এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
সর্বশেষ খবর
