রং খেলা আটকাতে আরও কড়া পদক্ষেপ! শান্তিনিকেতন সোনাঝুরিতে দোলের দু’দিন বন্ধ থাকছে হাট

রং খেলা আটকাতে আরও কড়া পদক্ষেপ! শান্তিনিকেতন সোনাঝুরিতে দোলের দু’দিন বন্ধ থাকছে হাট

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


বোলপুরে দোলের দিন সোনাঝুরিতে হাট বসবে না। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাট কমিটি। শুধু তাই নয়, দোলের দিন যাতে কোনওভাবে সোনাঝুরির জঙ্গলে কোনওভাবে রং, আবির খেলা না হয়, সেজন্য প্রশাসনের কাছে আবেদনও করা হয়েছে। দোলের সময় শান্তিনিকেতনে প্রচুর সংখ্যায় পর্যটকরা ভিড় করেন। সেক্ষেত্রে হাট না বসলে পর্যটকদের একাংশ মুষড়ে পড়বেন, এমনই মনে করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।

সোনাঝুরি হাটে কোনওভাবেই দোল খেলা যাবে না। দোল ও পরের দিন অর্থাৎ ৩ ও ৪ মার্চ হাট বসবে না। এই সিদ্ধান্ত হাট কমিটির তরফেই নেওয়া হয়েছে। হাট কমিটির পক্ষ থেকে বোলপুর বন দপ্তরের রেঞ্জারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বীরভূমের জেলাশাসককেও এই বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সোনাঝুরির জঙ্গল এলাকায় এরপর দোল খেলা কীভাবে আটকানো হবে? সেই বিষয়ে প্রশাসন কড়া সিদ্ধান্ত নিক। এমনই জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। জেলা প্রশাসন এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে খবর।

আরও পড়ুন:

হাট কমিটির পক্ষ থেকে মহম্মদ আবুল ফজল ও কাউসার শেখ বলেন, “সোনাঝুরি জঙ্গলে আমরা কোনও দোল উৎসব করছি না। দোলের দিন অর্থাৎ ৩ ও ৪ মার্চ পরিবেশ রক্ষার্থে হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দোলের দিন প্রচুর মানুষ জঙ্গলে ঢুকে আবির খেলে পরিবেশের ক্ষতি করেন।”

খোয়াই হাট কমিটির পক্ষ থেকে মহম্মদ আবুল ফজল ও কাউসার শেখ বলেন, “সোনাঝুরি জঙ্গলে আমরা কোনও দোল উৎসব করছি না। দোলের দিন অর্থাৎ ৩ ও ৪ মার্চ পরিবেশ রক্ষার্থে হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দোলের দিন প্রচুর মানুষ জঙ্গলে ঢুকে আবির খেলে পরিবেশের ক্ষতি করেন। ব্যবসার ক্ষতি হলেও পরিবেশ রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার।”

প্রসঙ্গত, ২০২০ সাল থেকে দোলের দিন শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে বিপুল ভিড়ের ছবি সামনে এসেছে। অভিযোগ, উচ্ছৃঙ্খল পর্যটকরা বন আইনের তোয়াক্কা না করে আবির-রঙ খেলায় মেতে ওঠেন। এমনকী চারচাকা গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে বলেও অভিযোগ বিস্তর। বোলপুর বনদপ্তরের আধিকারিক জ্যোতিষ বর্মণ বলেন, “হস্তশিল্পীদের আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ীই পদক্ষেপ করা হবে। দোল উপলক্ষে সোনাঝুরি জঙ্গলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।”  

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবারও দোলের দিন ৩ মার্চ বসন্ত উৎসব করছে না। পরিবর্তে ঘরোয়াভাবে আগামী ৬ মার্চ বসন্ত বন্দনার আয়োজন করা হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানে কোনও বাইরের লোকজনকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, জঙ্গলের ক্ষতি কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে জেলাশাসককে চিঠিও দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। খোয়াই হাট কমিটির সম্পাদক তন্ময় মিত্র বলেন, “দোলের দিন আমরা কোনও উৎসবের আয়োজন করছি না। মানুষ যাতে জঙ্গলে প্রবেশ না করেন, সে বিষয়ে বন দপ্তর ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।”

অন্যদিকে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবারও দোলের দিন ৩ মার্চ বসন্ত উৎসব করছে না। পরিবর্তে ঘরোয়াভাবে ৬ মার্চ বসন্ত বন্দনার আয়োজন করা হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানে কোনও বাইরের লোকজনকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত হবে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *