সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘হুমকি’তে মোটেই মাথা নোয়াচ্ছে না ভারত। বরং দীর্ঘদিনের বন্ধু রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভারতে রুশ আমদানি কমার কোনওরকম সম্ভাবনাই নেই। উল্লেখ্য, শুক্রবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের শীর্ষস্থানীয় চারটি তৈল শোধনাগার নাকি রুশ তেল আমদানি করা বন্ধ করে দিয়েছে। তারপর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।
শুক্রবার থেকে কার্যকর হয় ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি। তারপরেই মূলত রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে নানা সূত্র মারফত খবর ছড়ায়, এবার রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে ভারত। তার কারণ, রুশ তেলের দামে এতদিন পর্যন্ত যতটা পরিমাণ ছাড় মিলছিল সেটা বর্তমানে কমে গিয়েছে। তাছাড়া আমেরিকা সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারতের রুশ তেল কেনা নিয়ে। এই যুক্তি দেখিয়ে রয়টার্সের তরফে বলা হয়, ভারতের চারটি শোধনাগার নাকি গত এক সপ্তাহে রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এই চারটি শোধনাগার হল, ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রো কেমিক্যালস।
রয়টার্সের এই খবর ছড়াতেই তুমুল জল্পনা শুরু হয়, তাহলে কি ট্রাম্পের চাপের মুখে নতি স্বীকার করল ভারত? কারণ শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি। রাশিয়া থেকে অস্ত্র এবং তেল কেনার জন্য ভারতকে আলাদা করে শাস্তি পেতে হবে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ‘শক্তি সম্পদের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান সকলেই জানে। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের পরিস্থিতি দেখে শক্তিসম্পদ আমদানি করা হয়।”
তবে রয়টার্সের এই খবর দেখেই ট্রাম্প বলেন, “আমি শুনলাম ভারত নাকি আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। আপাতত এটুকুই শুনেছি, জানি না এই খবরটা সত্যি নাকি মিথ্যে। তবে এটা ভারতের পক্ষে ভালো পদক্ষেপ।” কিন্তু রুশ তেল আমদানি বন্ধের কথা ভাবছেই না ভারত, এমনটাই জানাচ্ছে সরকারি সূত্র। অর্থাৎ ট্রাম্পের দাবি খারিজ করল ভারত।
শোনা যাচ্ছে, শুক্রবারই বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, শক্তিসম্পদ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের কী অবস্থান। রুশ তেল কেনা বন্ধ হয়েছে, এমন কোনও খবর নেই কেন্দ্রের কাছে। উল্লেখ্য, জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিন ধরেই সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এখনই রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দেবে ভারত, এই দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
