বেশ কয়েক দফায় বিপুল সংখ্যায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পর হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল শুরু করেছে নারায়ণ মূর্তির সংস্থা ইনফোসিস। নয়া এই মডেলের মাধ্যমে কর্মীদের মাসে ২০ দিন বাড়িতে বসে কাজের (Work From House) সুযোগ রয়েছে। এই পদ্ধতিতে বাড়িতে কাজের জন্য কর্মীদের কত পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে তারও হিসেব রাখবে সংস্থা। সংস্থার দাবি, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কর্মীদের কাজের পরিবেশের সামগ্রিক পরিবেশগত প্রভাবের সঠিক মূল্যায়ন।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ইনফোসিস তার কর্মীদের মধ্যে এক সমীক্ষা শুরু করেছে। যেখানে কর্মীদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে তাঁরা যখন বাড়িতে বসে কাজ করেন সেই সময় কত পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়? ইনফোসিসের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, কর্মীদের এখন থেকে মাসে কমপক্ষে ১০ দিন অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। বাকি ২০ দিন তাঁরা চাইলে বাড়ি থেকে কাজ করতে পারেন। ফলে যেহেতু বিপুল সংখ্যায় কর্মী বাড়িতে বসে কাজ করছেন তাই বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের মোট কার্বন নির্গমনের হিসেব রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থা।
সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই কর্মীদের এই বিষয়ে ইমেল করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে ঘরে বসে কাজের সময় ব্যবহৃত বিদ্যুৎও কোম্পানির গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের অংশ হিসাবে বিবেচিত হবে। ইনফোসিসের সিএফও জয়েশ সংঘরাজকা এই উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, সংস্থা যেহেতু হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেলে কাজ করছে ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কার্বন নির্গমনের পরিবেশগত প্রভাব আর অফিস ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাড়িতে কাজের ফলে যে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে তা ইনফোসিসের মোট কার্বন নির্গমনেরই অংশ। তাই এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য সংস্থার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
আরও পড়ুন:
সমীক্ষায় সংস্থার তরফে কর্মীদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, কর্মচারীদের কাজের সময়ে তাঁদের পরিবারের বিদ্যুতের খরচ, অফিসের কাজের জন্য তাঁরা যে ডিভাইস ব্যবহার করেন যেমন ল্যাপটপ, মনিটর এবং ইন্টারনেট সেখানে কীভাবে তাঁরা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করেন। এই সমস্ত কিছু। উল্লেখ্য, হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেলে গত ১৫ বছর ধরে পরিবেশগত টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ইনফোসিস। নয়া নীতিতে কর্মীদের জন্য বাড়িতে বসে কাজের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে সংস্থার তরফে। এতদিন ইনফোসিস নিজেদের অফিসের কার্বন নির্গমনের খুঁটিনাটি ও তা কমানোর বিষয়ে সচেষ্ট ছিল এবার যেহেতু বাড়ি থেকে কাজের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে তাই পরিবেশগত দিককে গুরুত্ব দিয়ে সেখানেও বিদ্যুৎ খরচের হিসেব রাখতে চায় সংস্থা।
সর্বশেষ খবর
