- পূর্বা সেনগুপ্ত
গৃহদেবতার ইতিহাস বর্ণনায় আমরা এখন ময়নাগড়ে আছি। এ প্রসঙ্গে দুটি শব্দের ব্যবহার আমরা দেখি। ময়নাগড় বা ময়নাচর। লাউ সেনের নির্মিত রাজবাটী ও রাজত্ব জলদস্যুর অধীনস্থ হলে এই অঞ্চলে দৃঢ় গড় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। সেই গড় থেকেই আসলে ময়নাগড়ের সৃষ্টি।
আবার দুটি নদীর সংযোগ স্থলে, বা উদ্ভূত চরের ওপর এই গড় অঞ্চল গঠিত বলে এই স্থানকে ময়নাচর বা ময়নাচৌরার কেল্লাও বলা হয়।
আমরা আলোচনাকে একেবারে প্রথম থেকে শুরু করব। লাউ সেনের রাজত্বের শেষ ভাগ। এই সময় মগ, পর্তুগিজ ও দেশীয় জলদস্যুর অত্যাচারে বিস্তীর্ণ নৌপথ জর্জরিত ছিল। চট্টগ্রাম থেকে বালাসোর পর্যন্ত এদের দস্যুগিরি চলত। এর মধ্যে বাংলার বন্দর অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ময়নাগড়ের কাছেই তাম্রলিপ্ত বন্দর তখনই বৌদ্ধধর্ম প্রচারে উল্লেখযোগ্যভাবে বিখ্যাত ছিল। শ্রীধর হুই নামে এক দুর্দান্ত জলদস্যু এই অঞ্চলের নদীপথ শাসন করতেন। তিনি লাউ সেনের ময়নাগড় অধিকার করে সেই গড় থেকে চারপাশে দস্যুবৃত্তি করতে শুরু করলেন। এর সঙ্গে সে পর্তুগিজ ও মগদেরও নানাভাবে সাহায্য করা হতে লাগল।
একে দস্যু তার ওপর সুরক্ষার জন্য গড় থাকলে সাহস বৃদ্ধি হয়, সুযোগও বেড়ে যায়। ডাকাত ও দস্যুরা সর্বদা দেবী আরাধনায় মনোযোগী ছিল চিরকাল। শ্রীধর তাদের মতোই শাক্তভাবাপন্ন হওয়ায় লাউ সেনের প্রতিষ্ঠিত রঙ্কিণী দেবী তাঁর প্রিয় হয়ে উঠল। কার্তিকী অমাবস্যায় অতি ধুমধামের সঙ্গে তিনি রঙ্কিণী দেবীর বিশেষ পুজো করতেন, এই দিন নরবলিও দেওয়া হত। সঙ্গে ছিল বৌদ্ধভাবে গড়ে ওঠা লাউ সেনের ধর্মপুজো। এই অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব থাকায় ধর্মপুজোরও প্রচলন ছিল। মানুষ আদরের সঙ্গে ধর্মঠাকুরকে মান্য করতেন। শ্রীধর হুই শাক্ত হলেও তিনি ধর্মঠাকুরের থানের ওপর খড়্গহস্ত হননি। তাই লাউ সেন প্রতিষ্ঠিত দুটি ধারাই অত্যন্ত সমাদরের সঙ্গে পালিত হতে লাগল।
জলদস্যু শ্রীধর হুই ময়নাগড় ও ময়নার সাধারণ মানুষের ওপর কখনও অত্যাচার করেননি। কিন্তু শ্রীধর ধীরে ধীরে উৎকলবংশীয় রাজাদের অসুবিধের কারণ হয়ে দাঁড়ালেন। উৎকলের গজপতিবংশীয় রাজবংশের অধীনে সামন্ত রাজা ছিলেন কালিন্দীরাম। কালিন্দীরামের ষষ্ঠ উত্তরপুরুষ ছিলেন গোবর্ধন সামন্ত। এই গোবর্ধন সামন্ত শ্রীধর হুইকে পরাজিত করে ময়নাগড় দখল করেন। এখানে উৎকলের সঙ্গে বঙ্গভূমির একটি সংযোগ দেখা যায়, যা ছিল খুবই বক্রগতিতে প্রবাহিত ইতিহাস। আমরা তার খানিকটা তুলে ধরব, তাহলে সেই যুগটি এবং ময়নাগড়ের ইতিহাস আমাদের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
গঙ্গাবংশানুচরিতম গ্রন্থ অনুযায়ী গঙ্গাবংশীয় নরপতি চতুর্থ ভানুদেব তাঁর মন্ত্রী কপিলেন্দ্র দেব (১৪৩৫-১৪৬৬)-এর মাধ্যমে সিংহাসনচ্যুত হন। তাঁর অধীনে বালিসীতাগড়ে, অধুনা সবং অঞ্চলে কালিন্দীরাম সামন্ত নামে এক সেনাপতি বাস করতেন। মহাভারতের যুগে তাম্রধ্বজ রাজার অধীনে ছিল এই সবং বা বালিসীতাগড়। সেই যুগেই এখানে একটি গড় নির্মিত হয়। সেই গড়ে বসবাসকারী কালিন্দীরামই ছিলেন বর্তমান ময়নাগড়ের রাজা বাহুবলীন্দ্রদের পূর্বপুরুষ।
কালিন্দীরামের থেকেই এঁদের ইতিহাস পাওয়া যায়। এই বাহুবলীন্দ্র পরিবার মূলত উৎকলদেশীয় বলে মনে হয়। কারণ, এঁদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন উৎকল সাম্রাজ্যের জলৌতি নামে একটি দণ্ডপাট বা প্রদেশের শাসনকর্তা। ‘জলৌতি’-র শাসনকেন্দ্র ছিল বালিসীতাগড় বা সবং। এদের বংশলতিকা যা গদাধর ভট্ট সংগৃহীত, তা হল এইরকম।- কালিন্দীরাম সামন্ত (১৪৩৪-’৫৩) ধরণীধর সামন্ত (১৪৫৩-’৭৪) বৈষ্ণবচরণ সামন্ত (১৪৭৪-১৫১৬) চৈতন্যচরণ সামন্ত (১৫১৬-’৪০) নন্দীরাম (১৫৪০-’৬১) গোবর্ধন সামন্ত (১৫৬১-১৬০৭)। শোনা যায় মহাপ্রভু ১৫২০-তে নীলাচলে যাওয়ার পথে বৈষ্ণবচরণ সামন্ত তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বৈষ্ণবচরণ তাঁর সাধুচরিত্র ও ভগবদ্ভক্তির জন্য খ্যাত ছিলেন।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন তাঁকে এতটাই প্রভাবিত করে যে নিজের পুত্রের নাম পরিবর্তন করে ‘চৈতন্যচরণ’ রাখেন। এই সময় উৎকলের শাসক ছিলেন প্রতাপরুদ্র দেব (১৪৯৭-১৫৪০)। তিনিও শ্রীচৈতন্যদেবের অনুগত হয়ে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতাপরুদ্র দেবের জীবনের কষ্টদায়ক দিকটি ইতিহাসপ্রসিদ্ধ। তিনি তাঁর মন্ত্রী গোবিন্দ বিদ্যাধরের কাছে পরাজিত হন। মন্ত্রী তাঁকে শুধু সিংহাসনচ্যুত করলেন না, তাঁর আঠারোটি পুত্রকে হত্যাও করলেন। নীলাচলের আঠারো নালা আজও সেই দুঃখপ্রদ ঘটনার সাক্ষী।
প্রতাপরুদ্র দেবের পরাজয় উৎকলের রাজত্বে ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটাল। দিন এগিয়ে গেল, যখন নন্দীরাম সামন্ত ও তাঁর পুত্র গোবর্ধন সামন্ত দণ্ডপাট শাসন করছেন তখন দ্রাবিড় দেশের তেলেঙ্গানা থেকে এসে, মুকুন্দ হরিচন্দন বা হরিশ্চন্দ্র, গোবিন্দ বিদ্যাধরের পৌত্র নরসিংহ বিদ্যাধরকে সিংহাসনচ্যুত করে উৎকলের সিংহাসনে আরোহণ করলেন। তখন ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দ। এদিকে, শ্রীধর হুইয়ের অত্যাচারে ব্যতিব্যস্ত পিংলার তিলদাগঞ্জ বা তিলেশ্বরীগঞ্জের বণিকগণ ক্রমাগত গোবর্ধন সামন্তকে সেই অঞ্চলে শাসনকেন্দ্র স্থাপনের জন্য অনুরোধ করতে থাকেন।
গোবর্ধন ছিলেন অসামান্য গুণের অধিকারী। তিনি সেই তিলদাগঞ্জে একটি গড় তৈরি করেন। অর্থাৎ, বালিসীতাগড় বা সবং অঞ্চলে একটি গড় ছিল। আবার তিলদাগঞ্জ অঞ্চলে আরেকটি গড় নির্মিত হল। শুধু তাই নয়, গোবর্ধন সামন্ত শ্রীধর হুই-এর অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাধারণ কৃষকদের অস্ত্রশিক্ষায় নিপুণ করে তুললেন। গোবর্ধন সামন্ত মেদিনীপুরের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব তাতে সন্দেহ নেই।
তেলেঙ্গানার হরিশ্চন্দ্র যেই উৎকলের শাসক রূপে প্রতিষ্ঠিত হলেন সঙ্গে সঙ্গে সবং-এর গড়ে থেকে গোবর্ধন নিজেকে স্বাধীন রূপে ঘোষণা করলেন এবং উৎকল রাজকে কর দিতে অগ্রাহ্য করলেন। তাঁকে অধীনে আনার জন্য সৈন্য প্রেরিত হল। প্রচণ্ড যুদ্ধ করা সত্ত্বেও গোবর্ধন সামন্ত যুদ্ধে পরাজিত হলেন এবং বন্দি হলেন।
রাজমহলের অদূরেই ছিল বন্দিশালা। রাতে সেই বন্দিশালায় গোবর্ধন সামন্তের গান শুনে মুগ্ধ হলেন উৎকলরাজ। যখন জানলেন তখন গোবর্ধন সামন্তের দেবদুর্লভ চেহারা, মল্লযুদ্ধে ও খড়্গচালনায় নিপুণতা, উপরন্তু সংগীতবিদ্যায় পারদর্শিতা দেখে উপলব্ধি করলেন এইরকম গুণী ও বীর মানুষের সঙ্গে মিত্রতা বন্ধনে আবদ্ধ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই তিনি গোবর্ধন সামন্তকে রাজচ্ছত্র, চামর, বাণ, ডঙ্কা, যজ্ঞোপবীত রাজচিহ্ন আর রাজা, আনন্দ, বাহুবলীন্দ্র -এই তিনটি উপাধি প্রদান করেন। সেই থেকে গোবর্ধন সামন্ত হন রাজা গোবর্ধনানন্দ বাহুবলীন্দ্র।
নতুন উৎকল রাজের আগমনে গোবর্ধন বাহুবলীন্দ্র যেমন স্বাধীন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, ঠিক তেমনিই শ্রীধর হুইও উৎকলরাজকে কর দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। উৎকলরাজ্য এতদিন নৌশক্তিতে দুর্বল ছিল। এখন গোবর্ধনানন্দ বাহুবলীন্দ্র এর সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনের পরে তা আর দুর্বল রইল না। উৎকলরাজ গোবর্ধন বাহুবলীন্দ্রকে শ্রীধর হুইকে পরাস্ত করার জন্য অনুরোধ করলেন। এইবার গোবর্ধনানন্দ বাহুবলীন্দ্র শ্রীধরকে হটিয়ে ময়নাগড় দখল করলেন। স্মরণে রাখতে হবে, এই বাহুবলীন্দ্র পরিবারের সঙ্গে তিনটি দুর্গের ইতিহাস জড়িয়ে আছে, সবং বা বালিসীতাগড়, তিলদাগঞ্জ ও শেষ ময়নাগড়। তবে একথা বলাই যায়, ময়নাগড়ই এই পরিবারের প্রকৃত গড় হয়ে ওঠে।
গোবর্ধনানন্দ ময়নাগড় দখল করে ওই গড়ের নতুন সংস্কারকার্য শুরু করেন। তিনি পরিখা খননের মাধ্যমে দুর্গটিকে দুর্ভেদ্য করে গড়ে তোলেন। এরপর ‘গোবর্ধনানন্দ তিলদাগঞ্জ থেকে ‘ধর্মের গড়’ ময়নাগড়ে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। তারপর পূর্বপুরুষদের মতো ওডিশার সার্বভৌম গজপতিগণ কর্তৃক অনুমোদিত পৌষী পূর্ণিমায় মহাসমারোহে অভিষিক্ত হন।
প্রবাদ, এই উপলক্ষ্যে যজ্ঞার্থ ছয় মন সমিধ পোড়ানো হয়। সেই থেকে প্রতি বৎসর পৌষী পূর্ণিমায় মহাসমারোহে অভিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন হত যা ১৯৩৮-এ নারায়ণানন্দ বাহুবলীন্দ্রের সময় থেকে কুলদেবতা শ্রীশ্রী শ্যামসুন্দরজিউর পাদপদ্মে সমর্পিত। ইতিপূর্বে রাজা গোবর্ধন আরও একটি দুর্গ নির্মাণ করেন তিলদাগঞ্জে। যেখানে নারায়ণগড়ের রাজা শ্রীমধুসূদন বল্লভ ও শ্রীচন্দ্রপাল মহারাষ্ট্রের সৈন্য দ্বারা আক্রান্ত হয়ে সসৈন্যে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ময়নাগড়ে যেমন লোকেশ্বর শিব, তিলদাগঞ্জে তেমন তিলেশ্বর শিব। এই মন্দিরের অদূরে বাহুবলীন্দ্রদের পরিত্যক্ত রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এখনও দেখতে পাওয়া যায়। তবে ১৯৪৪ সালের বন্যা বালসীতাগড় চিরতরে গ্রাস করে।’(কিল্লা ময়নাচৌরা, ডঃ কৌশিক বাহুবলীন্দ্র।)
গ্রন্থের এই প্রতিবেদন থেকে তিলদাগঞ্জে এখনও গড় আছে কি না তা স্পষ্ট হল না। গ্রন্থে নারায়ণগড়ের রাজার নামটি আমাদের মনে হয় সঠিক লেখা হয়নি। কারণ, আমরা এই রাজপরিবারের গৃহদেবতার ইতিহাস অন্বেষণে দেখেছি তাঁরা ওডিশার রাজপরিবারের মাধ্যমে শ্রীচন্দন উপাধি লাভ করেছিলেন। আমাদের মনে হয়, নাম উল্লেখে একটু ভ্রান্তি আছে।
যাই হোক, আমরা দেখেছি শ্রীচৈতন্যদেবের প্রভাব এই পরিবারের ওপরও পড়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিবারে শ্রীকৃষ্ণ আরাধিত হবেন তাতে সন্দেহ নেই। এই শ্রীশ্রী রাধেশ্যামসুন্দরজিউ-এর প্রতিষ্ঠা বৈষ্ণবচরণ সামন্ত করে যাওয়াই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। নারায়ণানন্দ কেবল রাজ অভিষেককে দেবতার অভিষেকে পরিণত করেছিলেন কি?
বাহুবলীন্দ্র পরিবারের কুলদেবতা স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত অস্তিত্ব। এই দেবতাকে পূজা করলে পুত্রসন্তান লাভ হয়। অনেকের অনেকগুলি কন্যাসন্তান থাকায় একটি পুত্রসন্তানের কামনা থাকে। শ্যামসুন্দরজিউ-এর কাছে মানত করলে পুত্রসন্তান লাভ হয়। কিন্তু এখানে একটি শর্ত থাকে। সেটি হল নবজাতকের নাম রাখতে হবে শ্যামসুন্দর।
শ্যামসুন্দরজিউ-এর রাস উৎসব এই অঞ্চলের অত্যন্ত জমকালো উৎসব। বাহুবলীন্দ্র পরিবারের অধিকৃত এই ময়নাগড় দুটি পরিখার মাধ্যমে বেষ্টিত। পরিখা খুব গভীর না হলেও সেখানে রাসের সময় নৌকাবিহার করেন শ্যামসুন্দরজিউ। তাঁর এই নৌকাবিহার দেখার মতো উৎসব।
এই রাজ পরিবারের ইতিহাস আমাদের জানায় রাজ অন্তঃপুরে মেয়েদের খুব কঠোরভাবে পর্দা প্রথার প্রচলন ছিল। যে ঘাট দিয়ে শ্যামসুন্দর রাসলীলায় নৌকাবিহার করতে যেতেন সেই ঘাটে নববধূর পালকি শুদ্ধ নৌকা এসে থামত। সেখান থেকে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠা মহিলার দল একবার বধূকে অন্তঃপুরে নিয়ে গেলে সেই অন্তঃপুর ছেড়ে বের হওয়ার উপায় ছিল না। এমন কি নিজেদের ঘর ছেড়ে তারা অন্যের ঘরে গিয়ে আড্ডাও দিতে পারতেন না।
কিন্তু রাসের সময় যখন কাছারি ঘরে শ্যামসুন্দর দর্শন দিতেন, তখনই বাড়ির মেয়েরা তাঁকে দেখতে পেতেন। চিকের মধ্য দিয়ে রাসলীলা ও তার উৎসব দেখতে পেতেন বলে রাস বাহুবলীন্দ্র পরিবারে আনন্দ বহন করে আনত।
বর্তমান শ্যামসুন্দর মন্দিরের সম্মুখে একটি কাঁঠাল গাছ সকলের বিস্ময়ের উদ্রেক করে। বহু শতাব্দীপ্রাচীন এই কাঁঠাল গাছ যেন প্রাচীন দিনগুলির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রীশ্রী রাধেশ্যামসুন্দরজিউর মন্দির ছাড়াও শ্রীশ্রী লোকেশ্বরজিউর মন্দির আছে, ধর্মঠাকুরের থান প্রথম পরিখা আর দ্বিতীয় পরিখার মধ্যস্থলে। সেখানেই এক কোণে আছে সুফি পিরের দরগা। আরেক কোণে ধর্মঠাকুরের মোহান্তদের সমাধি মন্দির। দুই পরিখার বাইরে জনবসতির মধ্যেই দেখা যায় রাধেশ্যামসুন্দরজিউ-এর রাসমঞ্চ। দুটি পরিখা অতিক্রম করে সাধারণের কাছে উপস্থিত হন শ্যামসুন্দরজিউ। ধর্ম ভাবনার বিবর্তনের ধারাটি এই রাজপরিবারের ইতিহাসে ও ময়নাগড়ের পরিকাঠামোয় সুন্দরভাবে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে।
বাহুবলীন্দ্র রাজপরিবারের সেই জমকালো ঐতিহ্য শেষ হয়ে গিয়েছে বহুকাল আগে। লাউ সেনের ধ্বংসে পরিণত রাজবাড়ির মতো অগম্য না হলেও রাজমহলের অনেক অংশ এখন ব্যবহার করার অযোগ্য। একটি ঘরে বিচিত্র আকৃতির অনেকগুলি তাক। কোনওটা ত্রিভুজ, কোনওটা চতুর্ভুজ। জ্যামিতিক নিয়ম মেনে তাকগুলি কেন তৈরি হয়েছিল, তার কারণ জানা যায় না। একটি তালাবদ্ধ বিরাট ট্রাংক দেখে অনেকেই আশা করেন, হয়তো এর মধ্যে রয়েছে কিছু গুপ্তধন। ময়নাগড়ের ইতিহাসের সঙ্গে ভূত ও গুপ্তধন জড়িয়ে আছে আর তার সঙ্গেই জাগ্রত আছেন শ্রীশ্রী রাধেশ্যামজিউ আর লোকেশ্বর শিব।
