সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুসলিম বিশ্বকে কাছে টানতে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করেছে পাকিস্তান। এবার ভারত যদি আক্রমণ করে তাহলে ইসলামাবাদকে রক্ষা করবে সৌদি? সম্প্রতি একটি পাক সংবাদমাধ্যমে এই প্রশ্নেরই মুখোমুখি হয়েছিলেন সেদেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। উত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। এতে কোনও সন্দেহ নেই।”
খোয়াজা বলেন, “সৌদির সঙ্গে এই চুক্তিকে কোনও রকম আগ্রাসনের জন্য ব্যবহার করার ইচ্ছা আমাদের নেই। কিন্তু যদি বহিরাগত কোনও হুমকি আসে বা আক্রমণ হয়। তাহলে স্পষ্টতই এই চুক্তি কার্যকর হবে। সৌদির হোক কিংবা পাকিস্তান, কোনও একটি দেশে আক্রমণ হলে অপর দেশটি তাকে রক্ষা করবে।” প্রসঙ্গত, শুক্রবারই পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর তরফে বার্তা দেওয়া হয়, “যদি প্রয়োজন পড়ে তবে সৌদি আরবকে পাকিস্তান নিজের পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকার দেবে।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি আরবের প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমনের প্রতিরক্ষা চুক্তি সাক্ষর হয়। এর পরই যৌথ বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, “উভয় দেশের কারও বিরুদ্ধে যে কোনওরকম আগ্রাসনকে উভয়ের উপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিবৃতি অনুসারে, এই চুক্তি সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে প্রায় আট দশকের পুরনো ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের উপর ভিত্তি করে তৈরি। যা ভ্রাতৃত্ব এবং ইসলামী সংহতির বন্ধনের পাশাপাশি নিজেরদের কৌশলগত স্বার্থ এবং দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।
তবে এই চুক্তি ইজরায়েলকে নজরে রেখে সাক্ষর করা হয়েছে বলে অনুমান কূটনৈতিক মহলের। বর্তমানে মুসলিম রাষ্ট্রগুলির ত্রাস হয়ে উঠেছে ইজরায়েল। প্যালেস্টাইনের পাশাপাশি গত কয়েক মাসে তাদের হামলার মুখে পড়েছে ইরান, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন এমনকী কাতারও। এই অবস্থায় বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর একমাত্র দেশ হল পাকিস্তান। তারা যদি নিজেদের পরমাণু শক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে ভাগ করে নেয় তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলের জন্য তা নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, পাকিস্তান ভারতের চিরকালিন শত্রু হলেও সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে ভারতের। এই চুক্তি ভারতের জন্যও যথেষ্ট চিন্তার।
