ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমতেই বিপাকে ইউনুস! তড়িঘড়ি ‘গোপন’ বাণিজ্যচুক্তি আমেরিকার সঙ্গে

ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমতেই বিপাকে ইউনুস! তড়িঘড়ি ‘গোপন’ বাণিজ্যচুক্তি আমেরিকার সঙ্গে

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


কয়েক দিন আগেই ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে ১৮ শতাংশে বার্তাও দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পরেই বিপাকে বাংলাদেশ। বস্ত্র ব্যবসায় আমেরিকার বাজার পুরোপুরি ধরে ফেলবে ভারত, এই আশঙ্কা থেকেই তড়িঘড়ি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলতে চলেছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার।

আরও পড়ুন:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। সূত্রের খবর, তার তিন দিন আগে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে আমেরিকা এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বাণিজ্যচুক্তি (বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি বা বিজেইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, চুক্তির খসড়ায় কী লেখা আছে, কোন কোন শর্তে চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে, এই সব বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ ফুরোনোর ঠিক আগেই কেন এই চুক্তি হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

চলতি মাসেই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেবে ভারত এবং আমেরিকা। চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা মার্চে। সূত্রের খবর, তার পর থেকেই আমেরিকায় পণ্য রপ্তানিতে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে ভারতকে। এই পরিস্থিতিতে পড়শি চিন, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের তুলনায় ভারতীয় পণ্যেই শুল্কহার সবচেয়ে কম হতে চলেছে আমেরিকায়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আশঙ্কা, এতে ভারতের বস্ত্র ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হবে। লোকসানের মুখে পড়তে পারেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভীষণ ভাবে নির্ভরশীল বস্ত্রশিল্পের উপর। বাংলাদেশে রপ্তানিকৃত রেডিমেড পোশাকের ৯০ শতাংশই যায় আমেরিকায়। কিন্তু ইউনুস সরকারের এই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তাঁরাই অন্ধকারে।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমই-এর অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক ইনামুল হক খান ‘প্রথম আলো’-কে বলেন, “চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা দরকার। কারণ, এই চুক্তির অনেকের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন। ওঁদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। অথচ সরকার একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচ্ছে।” বাংলাদেশের পণ্য রফতানিকারকদের পাশাপাশি সে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহ করা ব্যবসায়ীরাও চুক্তির শর্ত নিয়ে অন্ধকারে। ওই ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর না-ই করতে পারত। এ ক্ষেত্রে তাঁদের যুক্তি, নির্বাচনের পর বিজয়ী দল বা জোট সরকার গঠন করবে। চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে তাদের উপরেই।

আরও পড়ুন:

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় গত বছর এপ্রিলে। ট্রাম্প ২ এপ্রিল আমচমকাই ১০০ দেশের উপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশের জন্য শুল্কের হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে নয়া শুল্কনীতি কার্যকরের সময় তিন মাস পিছিয়ে দেয় আমেরিকা। তিন মাস পর ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের উপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তার পর আগস্ট মাসে তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। খন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছিলেন, চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি নিয়ে এই বিষয়ে সবিস্তার জানানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *