বেশি প্রাপ্তির আশায় কর্পোরেট ডিপোজিটে লগ্নি? কী আশা করতে পারেন

বেশি প্রাপ্তির আশায় কর্পোরেট ডিপোজিটে লগ্নি? কী আশা করতে পারেন

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


সুদ কমেছে ধারাবাহিক ভাবে, ব্যাঙ্ক ডিপোজিট আর তেমন আকর্ষণীয় নয়। সাধারণ ইনভেস্টর কি তাহলে বেশি প্রাপ্তির আশায় কর্পোরেট ডিপোজিটে বিনিয়োগ করবেন? না কি ফিক্সড ইনকামের দুনিয়ায় অন্য কিছু খুঁজে নেবেন? এই মুহূর্তে কেমন ডিপোজিট নিলে ভালো হয়? উত্তর দিচ্ছেন ক‌্যাপিটাল মার্কেট ইন্টারমিডিয়ারি অরুণময় শূর।

আরও পড়ুন:

বেশি সুদের টান না ঝুঁকির খতিয়ান, কোন হিসাবটা বেশি জরুরি?

আমরা জানি যে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট আজ আর বিশেষ প্রাসঙ্গিক নয় অনেক ইনভেস্টরের কাছে। সুদের হার ধীরে ধীরে কমেছে। আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। যদি আরও কমে, তাহলে অবশ্যই অনেক বিনিয়োগকারীর নজর ঘুরবে কর্পোরেট ডিপোজিটের দিকে। নামেই বোঝা যায় এগুলি ব্যাঙ্কের নয়। বিভিন্ন কোম্পানি (যেগুলি ডিপোজিট মোবিলাইজেশন করে) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমানত তোলে। একটা নির্দিষ্ট বাজার আছে কর্পোরেট ডিপোজিটের। একাধিক বড় মাপের প্লেয়ার আছে এখানে, তারা যথেষ্ট সক্রিয়।

কী আশা করতে পারেন বিনিয়োগকারীরা?

দেখুন, কর্পোরেট ডিপোজিটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল তুলনামূলক ভালো সুদের হার। অনেক ব্যাঙ্ক FD বছরে যেখানে কেবল ৬.৫% থেকে ৭.৫% সুদ দেয়, সেখানে একগুচ্ছ শক্তিশালী NBFC (নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্স কোম্পানি) বা অন্য কর্পোরেট সংস্থা বেশি অফার করে। এখানে বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত অথবা নিয়মিত ইনকাম চান এমন বিনিয়োগকারীদের কথা এই প্রসঙ্গে বলছি। এঁদের কাছে ব্যাপারটা সুবিধাজনক হতে পারে। অনেক ডিপোজিটে বা ফিক্সড ইনকাম প্রকল্পে মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক সুদ নেওয়ার সুযোগ থাকে। এটি সুবিধাজনক হতে পারে, বিশেষ করে যদি ক্যাশ ফ্লো পরিকল্পনা থাকে।

আচ্ছা, অনেকে জানতে চান, কীভাবে বেশি সুদ দেওয়া সম্ভব হয়?

একটা কারণ সহজে বোঝা যায়। এটা পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের ডিপোজিটের মতো নয়। কর্পোরেট ডিপোজিটে কোনও সরকারি সিলমোহর নেই। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলি সরাসরি বাজার থেকে আমানত তোলে। বিনিয়োগকারীদের নজর কিছুটা টানতে একটু বেশি সুযোগ দিতে হয়। বেশি রিটার্ন চান সাধারণ মানুষ। তবে তাতে বেশি ঝুঁকি থাকতে পারে, খেয়াল রাখবেন। এটি একটা মৌলিক নিয়ম, সব জায়গাতেই কমবেশি প্রযোজ্য। এখানেও তাই।

কী ধরনের সতর্কতা দরকার?

আমরা অনেক সময় বলি কিছু ‘caveat’ সম্পর্কে। একটু বুঝিয়ে দিচ্ছি। তিনটি পয়েন্ট বলি।

এক, ডিফল্টের ঝুঁকি থাকতে পারে। মনে রাখা দরকার যে, ব্যাঙ্ক FD হলে, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত বিমা সুরক্ষা থাকে। DICGC-এর মাধ্যমে তা সম্ভব হয়, দরকার মনে করলে এই বিষয়ে আলাদা ভাবে জেনে নেবেন। কর্পোরেট ডিপোজিটে কিন্তু এমন সুরক্ষা নেই। কোম্পানি যদি আর্থিক সমস্যায় পড়ে তাহলে মূলধন ফেরত পেতে দেরি হতে পারে। তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

দুই, ক্রেডিট কোয়ালিটি এক জরুরি বিষয়। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই CRISIL, ICRA বা CARE (বা অন্য এজেন্সি) কোন ধরনের রেটিং দিয়েছে তা দেখে নিন। AAA রেটিং সব থেকে নিরাপদ মনে করা হয়। অবশ্য তাতে ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।

তিন, লিকুইডিটি সীমিত থাকতে পারে। আর অন্য কয়েকটি বিশেষ শর্ত থাকাও সম্ভব। মেয়াদপূর্তির আগে টাকা তুলতে গেলে (মানে pre-mature অবস্থায়) জরিমানা দিতে হতে পারে। এই জাতীয় বিষয় জেনে নিন।

অনেকে বলেন ডাইভার্সিফিকেশন দরকার। আপনার অভিমত কী?

ঠিকই। সমস্ত টাকা কেবল একটা কোম্পানির ডিপোজিটে রাখা কখনই খুব বুদ্ধিমানের কাজ নয়। একাধিক আমানত প্রকল্পে রাখুন। যাঁদের পোর্টফোলিওতে ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক FD আছে, তাঁরা ডেট ফান্ড দেখতে পারেন। অন্যান্য ‘নিরাপদ’ বিনিয়োগ কী রয়েছে, তা-ও পরখ করুন। নিজের মোট বিনিয়োগের একটা ছোট অংশ (ধরা যাক ২০%) কর্পোরেট ডিপোজিটে রাখতে পারেন অতিরিক্ত আয়ের জন্য। এটা কিন্ত সকলের জন্য খাটবে না। প্রত্যেক ডিপোজিটর আলাদা বলে আমি মানি।

শেষে আর একটা কথা বলি। কর্পোরেট ডিপোজিট আজ একমাত্র বিকল্প নয়। যদি মোটামুটি রিটার্ন চান, সঙ্গে সুরক্ষা চান, আর ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে চান, তাহলে সক্রিয় ডেট ইনভেস্টমেন্টের সুবিধা-অসুবিধা সব পরীক্ষা করে দেখুন। আমি বলতে চাই যে, শুধুমাত্র সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক ক্ষমতা দেখুন। তার সঙ্গে রেটিং কেমন, তা বুঝুন। এবং নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিচার করাও চাই।

আরও পড়ুন:

বিশেষ দ্রষ্টব‌্য: সঙ্গের চার্টে শ্রীরাম ফিনান্স লিমিটেডের সুদের হার জানানো হল। সর্বেশষ তথ্যের জন‌্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *