নীতীশ কুমার কি ফের বিহারের রাজনীতিতে বড় কোনও চমক দিতে চলেছেন? অন্তত পাটনার অলিতেগলিতে তেমনই গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে, দশমবার কুরসিতে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে পারেন নীতীশ। জেডিইউ সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে নাকি রাজ্যসভার প্রার্থী হয়ে দিল্লির রাজনীতিতে মনোনিবেশ করতে চান। কিন্তু তাহলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? সেটাই সবচেয়ে বড় সাসপেন্স।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র বলছে, নীতীশের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাঁর পক্ষে ধকল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি ছেড়ে তিনি রাজ্যসভায় যাবেন। জেডিইউয়ের অন্দরে নাকি তেমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিহারে ৫ আসনের জন্য রাজ্যসভার নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ার শেষদিন ৫ মার্চ। তার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। জেডিইউ সূত্র বলছে, নীতীশ রাজ্যসভায় চলে যাবেন। বদলে তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমার সোজা উপমুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেতে পারেন।
আরও পড়ুন:

সদ্যই সরকারিভাবে জনতা দল ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন নিশান্ত। সোজা উপমুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেতে পারেন তিনি। বিহারের রাজনীতিতে বার বার উঠে এসেছে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ। সব নেতাই চেষ্টা করেছেন পরবর্তী প্রজন্মকে রাজনীতির ময়দানে একটি পাকাপোক্ত জায়গা করে দিতে। তবে সেই ধারা থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল নীতীশের দল জেডিইউ। বাবা ১০ বারের মুখ্যমন্ত্রী হলেও এতদিন রাজনীতির ধার মাড়াননি ৫০ বছর বয়সী নিশান্ত। সবসময়ই প্রচারের আলো থেকে দূরে ছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগও ছিল না। নীতীশও এতদিন পরিবারতন্ত্রের ঘোর বিরোধী ছিলেন। এবার শোনা যাচ্ছে, তিনিও অন্য দলের ধারা মেনে ছেলেকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসাবে বাছতে চলেছেন।
কিন্তু এখন অবশ্যম্ভাবী প্রশ্ন, নীতীশ যদি সত্যিই ইস্তফা দেন তাহলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে কে বসবেন? জেডিইউয়েরই অন্য কোনও নেতা নাকি বিজেপির কেউ? জেডিইউয়ের শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লাল্লান সিং ইতিমধ্যেই পাটনা থেকে দিল্লিতে উড়ে গিয়েছেন। সুতরাং তাঁর নাম নিয়ে জল্পনা রয়েছে। আবার বিজেপির দীর্ঘদিনের নজর রয়েছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে। এবার কি গেরুয়া শিবিরের কেউ পাটনার কুরসিতে বসবেন? সেই জল্পনাও মাথাচাড়া দিচ্ছে। জল্পনা অবশ্য আরও একটা আছে। সেটা হল নিশান্তকেই আপাতত রাজ্যসভায় পাঠানো হবে। কিছুদিন বাদে তাঁকে সোজা নীতীশের পদে বসিয়ে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
