প্রচণ্ড রোদ। মাটিতে পড়ে ধনে পাতা ও সরষের বস্তা। বন্ধ কৃষক মাণ্ডিতে কেনাবেচা। হাউ হাউ করে কাঁদছেন কৃষক, বলা ভালো বিয়ের দোড়গোড়ায় থাকা এক মেয়ের বাবা। তাঁর কাতর আর্জি, “দয়া করে ফসল কিনুন। আগামিকাল আমার মেয়েটার বিয়ে। টাকার খুব প্রয়োজন। না হলে বিয়ে আটকে যাবে।”
হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলায়। নানখেদি কৃষক মাণ্ডিতে প্রতিদিনের মতো বাজার বসেছিল। অন্যান্য কৃষকদের মতো শ্রীপুরচকের এক কৃষকও তাঁর ফসল নিয়ে আসেন মাণ্ডিতে। প্রতিদিনের মতো মাণ্ডিতে কেনাবেচা শুরু হয়। কিন্তু সময় কিছুটা গড়াতেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত।
আরও পড়ুন:
গিরিরাজ সিং নামে এক কৃষক অভিযোগ তোলেন, কুইন্টাল প্রতি তাঁর ফসলের দাম ওঠে ৫হাজার ৭০০ টাকা। কিন্তু মাণ্ডির ইনস্পেক্টর রাজকুমার শর্মা রসিদে দাম লেখেন ৫ হাজার ৪০০ টাকা। কুইন্টাল প্রতি দাম ৩০০ টাকা দাম কম কেন? গিরিরাজ অভিযোগ জানাতেই তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন রাজকুমার। শুধু তাই নয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও অভদ্র আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। রাজকুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এর প্রতিবাদে ফসল কেনা বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।
এই কাণ্ডে মাথায় হাত পড়ে মেয়ের বিয়ে থাকা কৃষকের। ফসল বিক্রি হচ্ছে না দেখে কাঁদতে থাকেন কৃষক। কারণ তাঁর মেয়ের বিয়ে। বাড়িতে কথা দিয়েছেন, ফসল বিক্রি করে তাড়াতাড়ি ফিরবেন। বিক্রির টাকায় মেয়ের বিয়ে হবে। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “ফসল কিনুন। আমার মেয়ের বিয়ে। বিক্রি করতে না পারলে ওর বিয়ে আটকে যাবে।”
কিন্তু কেউই তাঁর কথা কেউ কানে তোলেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে কৃষকরা রাস্তায় ফসল ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাতে বিশাল যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তাঁরা কৃষকদের বুঝানোর পর তাঁরা বিক্ষোভ তুলে নেয়। মাণ্ডির ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে উচ্চমহলে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
