ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আবারও খুন হয়ে গেলেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ স্রেফ বাংলা ভাষায় কথা বলাতেই রাজ্যের পিছিয়ে পড়া কুড়মি জনজাতির পরিযায়ী
শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বিজেপিশাসিত পুণেতে। বুধবার দুপুরে পুণের শিকারপুর থানার করেগাঁও ভিমা এলাকা থেকে ওই কুড়মি যুবকের রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। এই ঘটনায় পুণেতেই কাজ করা তাঁর দাদা তুলসিরাম মাহাতো ওই শিকারপুর থানায় খুনের অভিযোগ করেন।
পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কুড়মি পরিযায়ী শ্রমিকের নাম সুখেন মাহাতো (৩১)। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল বরাবাজারের তুমড়াশোলের বাঁধডিতে। ওখানকার ৭৮ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। নিহত ওই পরিযায়ী শ্রমিক তার দাদা তুলসিরাম মাহাতোর সঙ্গেই একই গাড়ির পার্টস তৈরির কোম্পানিতে কাজ করতেন। তাঁর ছোট ভাই কাজ করতেন একটি ওয়েল্ডিং কারখানায়। বুধবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় মহারাষ্ট্র পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুনের শিকারপুর থানার পুলিশ।
আরও পড়ুন:
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। ওই পরিযায়ী শ্রমিক আমাদের কুড়মি জনজাতির। বিজেপি এভাবে অত্যাচার চালিয়ে বাংলা দখল করতে পারবে না।” নিহতের ময়নাতদন্তের পর রাত আটটা নাগাদ তাঁর দাদা
৭০ হাজার টাকা খরচে অ্য়াম্বুল্যান্স করে তাঁর ভাইয়ের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসছেন। এদিকে এদিন রাতেই পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল ওই নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি রাজীবলোচন সরেন, বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো।


পুনের কোরেগাঁও ভিমার পাশে সনৎ বাড়ি এলাকায় ওই নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের কর্মস্থল ছিল। মঙ্গলবার বিকাল ৩ টার শিফটে তার ডিউটি যান তিনি। সেখান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার দাদা তুলসিরাম মাহাতো বলেন, “আমরা তিন ভাই পুনেতে কারখানায় কাজ করি। আমি আর মেজ ভাই সুখেন এক কোম্পানিতে। ছোট ভাই কাজ করে অন্য কোম্পানিতে। আমরা একসাথেই ভাড়া বাড়িতে থাকি। সুখেন ওইদিন বিকাল তিনটের শিফটে কাজে বার হয়। আমার ওই দিন নাইট শিফট ছিল। বুধবার সকালে এসে ঘটনার কথা জানতে পারি। বাবা মাকে জানিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। ভাইয়ের দেহ নিয়ে আমরা রওনা দিয়েছি। বাড়ি পৌঁছতে ৩৬ ঘন্টা সময় লাগবে। আমার কাছে বেশি টাকা পয়সা নেই। অ্যাম্বুলেন্স ৭০ হাজার টাকা নেবে। জানি না কি হবে। বাবা মাকে কি জবাব দেবো বুঝতে পারছি না। ” এই তিন ভাই ২০২২ সাল থেকে ওই একই কোম্পানিতে কাজ করে আসছেন। কোভিডের সময়ও তারা পুণেতে কাজ করতেন। লকডাউনে বাড়ি ফিরে আসার পর কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার তাঁরা কাজে যান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
