বন্ধ ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ, কীভাবে সংকটের মোকাবিলা করবে ভারত? মুখ খুলল মোদি সরকার

বন্ধ ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ, কীভাবে সংকটের মোকাবিলা করবে ভারত? মুখ খুলল মোদি সরকার

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


যা আশঙ্কা ছিল সেটাই হয়েছে। ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান বিশ্ববাণিজ্যে বিরাট ধাক্কা দিয়ে অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজে জাহাজ দেখলেই জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের বাজারে। যদিও ইরান সরকারের এই সিদ্ধান্তে এখনই বিচলিত নয় মোদি সরকার। খোদ কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরী বলছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত।

এই বিষয়ে আরও খবর

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল, যে কোনও সময় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ বন্ধ করতে পারে তেহরান। কিন্তু ইরানের এই পদক্ষেপ কেন ভারতের জন্য চিন্তার? ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়। ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকলে পোট্রোপণ্যের জোগান আটকাবে। ফলে বাড়তে পারে দাম। এর জেরে বিপাকে পড়তে পারে ভারত।

তবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরি বলছেন, “পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত। দেশ জুড়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও মজুতের অবস্থার ক্রমাগত মনিটরিং করার জন্য আমাদের মন্ত্রক ২৪ ঘণ্টার সক্রিয় কন্ট্রোল রুম প্রতিষ্ঠা করেছে।” পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর কথায়, “দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ অশোধিত তেল মজুত রয়েছে, তাতে সরকার নিশ্চিন্ত। গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষা করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলছেন, “আমরা ধীরে ধীরে সতর্কভাবে পরিস্থিতি অনুকূলে আনার চেষ্টা করছি।”

এই বিষয়ে আরও খবর

সূত্র বলছে, এই মুহূর্তে ভারতে ২৫ দিনের অশোধিত তেল মজুত আছে। সেই সঙ্গে বিকল্প উৎস থেকে আগামী দিনে কীভাবে তেল কেনা যায় সেটা নিয়েও কাজ শুরু করছে ভারত সরকার। সব মিলিয়ে যুদ্ধ যদি ৬-৮ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাতেও বিশেষ অসুবিধা হবে না ভারতের। হ্যাঁ, মূল্যবৃদ্ধির একটা সম্ভাবনা অবশ্য উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *