সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নয়া শ্রম আইন-সহ ১৭ দফা দাবিতে বন্ধের ডাক দিয়েছে শ্রমিক সংগঠন। বাংলা-সহ গোটা দেশে এই বন্ধের ব্যাপক প্রভাব দেখা গেল সকাল থেকে। ট্রেন অবরোধের পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় হাইওয়ে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক, ডাক-সহ বহু পরিষেবা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে এই বন্ধকে সমর্থন দিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা।
এদিন সকালে উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়া, বারাকপুর, শ্যামনগর স্টেশনে ট্রেন অবরোধ করেন বন্ধ সমর্থনকারীরা। সাতসকালে অবরোধে বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে একাধিক ট্রেন। ফলে সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে অফিসযাত্রীরা। নিম্নচাপের বৃষ্টির পাশাপাশি রেল অবরোধে নাকাল হন যাত্রীরা। পরে অবরোধ উঠিয়ে দেওয়া হয়। শিয়ালদহের দক্ষিণ শাখাতেও একাধিক জায়গায় ট্রেন অবরোধের চেষ্টা হয়। যাদবপুর স্টেশনে অবরোধ করা হয়। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হলদিয়া, আসানসোল, দুর্গাপুর-সহ একাধিক জায়গায় বন্ধ সমর্থনকারীরা রাস্তায় নেমেছিলেন। হাওড়ার ডোমজুড়ে বন্ধ সমর্থনকারীরা পথ অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের সরাতে গেলে শুরু হয় অশান্তি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় পুলিশ কর্মীদের। বন্ধ সমর্থনকারীদের সরাতে লাঠিচার্জ করতে হত পুলিশকে।
অন্যদিকে, বিহারেও এই বন্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়তে দেখা গিয়েছে। বিরোধী দল আরজেডির ছাত্র শাখা জাহানারাবাদে ট্রেন অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয়। এই বন্ধের সঙ্গেই বিহারে ভোটার লিস্ট সংশোধন ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হয়েছে কংগ্রেস ও আরজেডি। তেজস্বী যাদবের পাশাপাশি রাহুল গান্ধীও যোগ দিচ্ছেন এই বন্ধে। এছাড়াও এই বন্ধের ব্যাপক প্রভাব দেখা গিয়েছে বাম শাসিত কেরলে। কোনওরকম হামলা থেকে বাঁচতে হেলমেট মাথায় এখানে বাস চালাতে চালকদের।
তবে দেশের বাকি অংশে বন্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়লেও খুব একটা প্রভাব দেখা যায়নি রাজধানী দিল্লিতে। সকাল থেকে কিছুটা ট্রাফিকের সমস্যা থাকলেও স্বাভবিক রয়েছে যান চলাচল। এই বন্ধ প্রসঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, শ্রমিক-কৃষকদের স্বার্থ বিরোধী এই সরকার। সরকারের একের পর এক নীতি তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে। বার বার বলা সত্ত্বেও সরকার তাদের কথা কানে তুলছে না।
