বন্ধু সবুজ চিরদিন… স্ত্রী গরিলাদের মধ্যে দারুণ সখ্য! বলছে নয়া সমীক্ষা

বন্ধু সবুজ চিরদিন… স্ত্রী গরিলাদের মধ্যে দারুণ সখ্য! বলছে নয়া সমীক্ষা

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বন্ধুত্ব নিয়ে কি আর শুধু মানবসমাজে এত হইহই? মোটেই না, চারপেয়েদের জগৎও বন্ধুত্বময়! বিশেষত আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে বন্ধুকে নিয়ে আবেগের শেষ নেই। সম্প্রতি গরিলাদের উপর এক সমীক্ষায় বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি। স্ত্রী গরিলাদের মধ্যে নাকি দারুণ সখ্য! একবার কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব হলে চিরকাল তাকে মনে রাখে। আফ্রিকার ছোট্ট দেশে রোয়ান্ডার গরিলাদের উপর প্রায় ২০ বছর ধরে সমীক্ষার পর তাদের এই চরিত্র ধরা পড়েছে বলে দাবি জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষকের। সম্প্রতি তাঁদের সেই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে এক পত্রিকায়। এই নতুন তথ্য জানতে পেরে অবাক অনেকেই।

জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকরা রোয়ান্ডার ভলক্যানোজ ন্যাশনাল পার্কের গরিলাদের উপর সমীক্ষা চালিয়েছেন। তাতে তাঁদের পর্যবেক্ষণ, গরিলাদের মধ্যে স্ত্রী জাতি ভীষণ ঐক্যবদ্ধ। তারা পুরুষদের আদৌ পাত্তা দেয় না। নিজেদের মধ্যে সখ্য তৈরি হলে তা অত্যন্ত গভীর হয়। এমনকী সেই সখ্য আজীবন টিকে থাকে। রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভাষায় বলতে গেলে, মাঝে যদি ছাড়াছাড়িও হয়, তাহলে আবার দেখা হলে প্রাণের মাঝে জড়িয়ে ধরার আকুতি থাকে স্ত্রী গরিলাদের মধ্যে। তাদের এই চরিত্রের জন্য পার্কে নতুন কোনও মহিলা সদস্য এলে দ্রুত তার সঙ্গে মিশে যেতে পারে পুরনো সদস্যরা। সমীক্ষার এই ফলাফল থেকে গরিলা সমাজে আদানপ্রদান অনেক সুসংহত বলে মনে করা হচ্ছে।

স্ত্রী গরিলাদের আরও এক চরিত্রের কথাও সামনে এসেছে এই গবেষণায়। নৃতত্ত্ব বিভাগের গবেষণারত ভিক্টোর মার্টিজনাক জানাচ্ছেন, পাহাড়ি এলাকার স্ত্রী গরিলারা পুরুষদের একেবারেই এড়িয়ে চলে। এমনকী নিজেদের পিতৃপরিচয় জানতেও বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয় তারা। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের সঙ্গ কার্যত ত্যাগ করেন। মহিলাদের সংঘবদ্ধ করেন। এই কাজও হয় অনেকটা মানব সমাজের মতো। গবেষক রবিন মরিসনের মতে, মানুষ যেমন নিজের বন্ধুর বন্ধু বা পরিচিতকে নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে, গরিলারাও তেমনই। কোনও স্ত্রী গরিলা তার পরিচিতকে নিজের দলে টানার কাজটা করে সুচারুভাবে। ৫ বছর বা তার বেশি সময় তারা একসঙ্গে থাকাটা বেশ উপভোগ করে। তারপর যদি কেউ দল থেকে বেরিয়েও যায়, ফেরার রাস্তা খোলা রাখে বাকিরা। আর এখানেই বোধহয় বাকিদের চেয়ে স্বকীয় গরিলারা। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *