আগের রাতেও দিব্যি কথা বলেছেন, অথচ আজ আর আপনার মেসেজের উত্তর দিচ্ছে না সঙ্গী বা সঙ্গিনী! প্রথমটায় ভয় পেলেন, সব কিছু ঠিক আছে তো? সময় যেতে জানতে পারলেন, ঠিকই আছে। আরও সময় যেতে হয়তো অনুভব করলেন ধীরে, আপনার সঙ্গে তার সম্পর্কটি বাদে ঠিকই আছে সব কিছু! উল্টোদিকের মানুষ তার অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরছে ফিরছে। সমস্ত আনন্দ-উৎসবে যোগ দিচ্ছে। কেবল আপনার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে তার গুরুতর অনীহা।
কিন্তু কোনও সমস্যাই তো হয়নি আপনাদের মধ্যে। আপনার কোনও আচরণ খারাপ লেগেছে কি না, বারেবারে জিগ্যেস করেও তা জানতে পারেননি। বলা নেই, কওয়া নেই, আপনার জীবন থেকে যেন ভূতের মতো উবে গেল সে! সেক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, এমনটা কেবল আপনার সঙ্গেই হচ্ছে, তা নয়। নব্য প্রেমীদের ৭৫%-এর সঙ্গেই কমবেশি ঘটে গিয়েছে এমনটা। আধুনিক ডেটিং কালচারে এর নাম ‘ঘোস্টিং’।
আরও পড়ুন:


কেন? কী করলাম? কোথায় ভুল হয়ে গেল? ‘ঘোস্টেড’ মানুষরা এসব প্রশ্নই করে যায় বারবার। মনোবিদরা বলছেন, এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্য গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ‘ঘোস্টেড’ ব্যক্তি ভাবতে শুরু করে, সম্পর্ক ভাঙার পিছনে তারই কোনও অপরাধ রয়ে গিয়েছে। সে দোষী সাব্যস্ত করে নিজেকে। নিজের আচরণে নিজেই ভুল ধরে। আত্মবিশ্বাসহীনতা, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড়, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি অবসাদেরও জন্ম দিতে পারে এই সামান্য ‘ঘোস্টিং’।
এছাড়া সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত অনুভব করতে পারে মানুষ। এই প্রেমিক যুগলকে চিনতেন এমন চেনাপরিচিতরা যখন বিচ্ছেদের কারণ জিজ্ঞেস করে, তখন উত্তরে ‘ও আমাকে ঘোস্ট করেছে’ বলতে হীনবোধ করেন সকলেই। মনোবিদরা অবশ্য বলছেন, কোনও কিছুই আচমকা নয়! উলটোদিকের মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে কি-না, তা চেষ্টা করলে বোঝা যেতে পারে আগেই।
আপনার সঙ্গী কি দেখা করা বা ডেটে যাওয়ার প্ল্যান এড়িয়ে যাচ্ছে বারবার? অন্য সব বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, ঘুরতে যাওয়া- তার কাছে কি আপনার সঙ্গে সময় কাটানোর চাইতে বাকি সব কিছুই বেশি জরুরি? সেক্ষেত্রে হয়তো তার প্রায়োরিটির তালিকার প্রথমদিকে আপনার জায়গা নেই!
আপনার সঙ্গী যা বলছে আর যা করছে, দুইয়ের মধ্যে সাযুজ্য থাকছে তো? মুখে যা-ইচ্ছে-তাই বলতে পারে মানুষ। খেয়াল করতে হবে সে কী করছে। দীর্ঘদিন ধরে তার আচরণে যদি আপনার প্রতি তীব্র অবহেলা, আপনার সঙ্গে থাকতে অনীহা লক্ষ্য করেন, তবে ভেবে দেখুন এখনই।


অনলাইন থাকে, গেম খেলে অথবা সিরিজ দেখে, কিন্তু আপনাকে রিপ্লাই করে না! হয়তো আপনার জায়গা থেকে তার ব্যস্ততার সবটুকু বোঝা খুব সহজ হয় না সবক্ষেত্রে। কিন্তু তা বলে কি কখনোই আপনাকে উত্তর দেওয়ার মতো সময় পাবে না সে?
আপনাকে সময় দিতে না-পারার কারণ হিসেবে সে যা বলে, তা কি যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য? নাকি সামান্যতম ব্যস্ততা থাকলেও আপনাকে এড়িয়ে যাওয়াই তার স্বভাবসিদ্ধ? সেক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে সরাসরি কথা বলতে হবে উলটোদিকের মানুষের সঙ্গে। নয়তো হঠাৎই একদিন সে ঘোস্টিংয়ের পথ বেছে নিয়ে, ভালোবাসার মানুষকে ফেলে যেতে পারে অথৈ জলে!
ভালোবাসার মূল ভিত্তিই ভরসা ও বিশ্বাস। তাই উলটোদিকের মানুষকে অকারণ সন্দেহ করা কখনওই একমাত্র পথ নয়। তবে সত্যিই যাকে আপনি ভালোবাসেন, তার মনোভাবও আপনার প্রতি অনুরূপ কি না, তা যাচাই করে নেওয়াই যায়!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
