পুণেতে পুরুলিয়ার পরিযায়ীকে ‘খুন’ বজরং দলের, বিজেপি নেতাদের ‘বয়কট’ নিহতের পরিবারের

পুণেতে পুরুলিয়ার পরিযায়ীকে ‘খুন’ বজরং দলের, বিজেপি নেতাদের ‘বয়কট’ নিহতের পরিবারের

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


বিজেপিশাসিত পুণেতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে চলছে জোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বজরং দলের সদস্যরা খুন করেছে তাঁদের ঘরের ছেলেকে। তাই বিজেপির নেতা-মন্ত্রীর থেকে মুখ ফিরিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করবেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। তবে শুক্রবার ওই নিহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন রাজ্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Sukhen-Mahato
পুণেতে কাজ করতে গিয়ে নিহত পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো। নিজস্ব চিত্র

পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল বরাবাজারের তুমড়াশোলের বাঁধডি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন মাহাতোর পুণেতে কাজ করেন। পরিযায়ী শ্রমিকের খুনের ঘটনা সামনে আসে বুধবার রাতে। তারপরই পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নিহতের বাড়িতে যায়। পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। বৃহস্পতিবার বিজেপির তরফে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নিহতের বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। একথা নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের কানে যেতেই বিজেপিকে কার্যত ‘বয়কট’ করার কথা ঘোষণা করে ওই কুড়মি জনজাতির পরিবার।

Sukhen-Mahato
নিহত পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর বাড়ি। নিজস্ব চিত্র

এদিকে, এই খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে জঙ্গলমহলের সমস্ত কুড়মি সংগঠন। নিহত পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর কাকা দীনেশচন্দ্র মাহাতো বলেন, “আমাদের ফুটফুটে চাঁদের মতো ছেলেটাকে বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুণেতে বজরং দলের সদস্যরা নির্মমভাবে খুন করেছে। তাই আমরা বিজেপির কোনও নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব না। বাংলা ভাষাভাষী মানুষজন ভিনরাজ্যে সুরক্ষিত নন। বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই খুন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা সুবিচার চাইছি।”

Sukhen-Mahato-Mother
মেজ ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা চঞ্চলা মাহাতো। নিজস্ব চিত্র

তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই পরিবারের পাশে যে রয়েছেন তা বৃহস্পতিবার সকালেই X হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান। নিহতের বাবা ধীরেন মাহাতো বলেন, “পেটের দায়ে ছেলে মহারাষ্ট্রে গিয়েছিল কাজ করতে। এমন ঘটনা যে কোনোদিন ঘটবে তা ভাবতে পারিনি। অর্থের অভাবে আমি ছেলেদেরকে লেখাপড়া শেখাতে পারিনি। তাই মারাঠি ভাষা জানতো না। এই নিয়েই বোধহয় কোন কিছু হয়েছিল। ছেলে বাংলা ভাষায় হয়তো কোন কথা বলেছে। সেটা ওদের খারাপ লেগেছে। মারাঠি বলতে পারেনি। তার জন্যই আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।”

Sukhen-Mahato-Police
নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে পুলিশ। নিজস্ব চিত্র

পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, “যেকোনো মৃত্যু দুঃখজনক, বেদনাদায়ক, নিন্দনীয়। ওই ঘটনা শোনার পর আমি ওখানে কথা বলেছিলাম। স্থানীয় নেতৃত্বর সঙ্গে কথা বলেছি। জানানো হয়েছে তদন্ত হচ্ছে। পদক্ষেপ করা হবে। জঙ্গলমহলের প্রত্যেকটি জেলা থেকে ১ লক্ষ করে পরিযায়ী শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজে যায়। তাহলে কি উন্নয়ন হয়েছে? নিজেদের বিফলতা ঢাকতেই এভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে।” পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বলায় স্রেফ ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আমাদের প্রান্তিক কুড়মি জনজাতির ওই সন্তানকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। জঙ্গলমহল এই ঘটনা মেনে নেবে না।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *