পিরিয়ডের ব্যথা কারও বেশি, কারও কম, গোপনে অন্য রোগ দানা বাঁধছে না তো?

পিরিয়ডের ব্যথা কারও বেশি, কারও কম, গোপনে অন্য রোগ দানা বাঁধছে না তো?

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


সব নারী সমানভাবে পিরিয়ডের ব্যথা অনুভব করেন না। সাম্প্রতিক সময়ে পিরিয়ডকালীন ছুটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ নতুন করে এই আলোচনাকে সামনে এনেছে। কেন কারও কাছে পিরিয়ড কেবল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, আর কারও কাছে তা অসহ্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে ওঠে?

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় জরায়ু সংকুচিত হয়, যাতে রক্তপাত স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে। এই সংকোচনের জন্য শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামে একটি রাসায়নিক তৈরি হয়। কারও শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন বেশি উৎপন্ন হলে সংকোচনও বেশি তীব্র হয়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তীব্র ব্যথা। তাই একই বয়স, একই জীবনযাপন হলেও দুই নারীর অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।

আরও পড়ুন:

why some women have more period pain than others explainedwhy some women have more period pain than others explained
ছবি: সংগৃহীত

তবে শুধু এই রাসায়নিকের মাত্রাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তীব্র পিরিয়ড পেইনের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু শারীরিক সমস্যা। যেমন এন্ডোমেট্রিওসিস, ইউটেরাইন ফাইব্রোসিস বা অ্যাডেনোমায়োসিস- এই ধরনের সমস্যাগুলো জরায়ুকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে, ফলে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। আবার হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও এই যন্ত্রণাকে বাড়াতে পারে।

অনেকেই মনে করেন, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস থাকলেই পিরিয়ড খুব কষ্টদায়ক হয়। বাস্তবে তা সবসময় সত্যি নয়। এই সমস্যায় সাধারণত মাসিক অনিয়মিত হয়, কিন্তু তীব্র ব্যথা তার প্রধান লক্ষণ নয়।

এছাড়া পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্য়থার জন্য় অনেক সময় দায়ী জীবনযাপনও। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন বা সঠিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্য়স্ত নন- তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, হালকা ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্য়াস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম- এই অস্বস্তি কমাতে পারে।

why some women have more period pain than others explainedwhy some women have more period pain than others explained
ছবি: সংগৃহীত

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সব পিরিয়ড পেনকে স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। যদি ব্যথা এতটাই বেশি হয় যে দৈনন্দিন জীবনযাপন বা কাজকর্ম ব্যাহত হয়, তাহলে সেটি শরীরের একটি সতর্কবার্তাও হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারণ নির্ণয় করা সম্ভব এবং ওষুধ বা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে অসুখ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

মাসিক একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, কিন্তু তার অভিজ্ঞতা সবার জন্য এক নয়। তাই একদিকে যেমন সবার জন্য একই নিয়মে ছুটি নির্ধারণ করা কঠিন, তেমনই যাদের সত্যিই কষ্ট বেশি, তাদের ছুটির প্রয়োজন বোঝাও সমান জরুরি।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *