নিউটাউনের অভিজাত সাপুরজি সুখবৃষ্টি আবাসনে সরবরাহ পানীয় জলের জীবাণু! আর দূষিত সেই জল পানে আবাসনের বাসিন্দা শিশু, বয়স্ক, মহিলা সহ একযোগে অনেকেই নানাবিধ রোগের কবলে পড়েছেন। আবাসিকদের অভিযোগ, দূষিত পানীয় জল পানে অনেকেই বমি, জ্বর, গায়ে ব্যথা সহ নানাবিধ সংক্রমণে ভুগছেন। যার জেরে এই মুহূর্তে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুরুতর এই অভিযোগে তুলে সোমবার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা অনেকেই আবাসনের ই–গেটের সামনে জমায়েত করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ বা এনকেডিএ প্রশাসন। এরপরেই প্রশাসনের তরফে সংগ্রহ করা হয়েছে নমুনা। এমনকী ওষুধ দেওয়ারও কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্যাঙ্ক পরিস্কারের কাজও আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
সুখবৃষ্টি আবাসনে কমবেশি ৫২২ টি টাওয়ার রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সমস্ত টাওয়ার মিলিয়ে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষের বসতি। পানীয় জলের সংক্রমণে ই–ব্লকের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই কোনও না কোনও সদস্য রোগে ভুগছেন। যার পিছনে আবাসন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাতে দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা। বাসিন্দাদের বক্তব্য, কর্তৃপক্ষ ওভারহেড ট্যাঙ্ক গুলি নিয়মিত পরিষ্কার করে না। ফলে জল দূষিত হয়েছে। দিনকয়েক ধরেই জলে পচা দুর্গন্ধ এবং জলে সঙ্গে কলের মুখ থেকে গাঢ় হলদে আভা পড়ছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সমস্ত টাওয়ার মিলিয়ে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষের বসতি। পানীয় জলের সংক্রমণে ই–ব্লকের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই কোনও না কোনও সদস্য রোগে ভুগছেন। যার পিছনে আবাসন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাতে দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা।
ভুক্তভোগী সুধীর মণ্ডল নামে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, জলের সংক্রমণের কবলে পড়ে দুই মেয়ে চিনারপার্ক সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বনশ্রী নাগের অভিযোগ, তিন বছরে আবাসনের জলাধার বা পাইপ লাইন পরিষ্কার হতে দেখিনি। ফলে জল দূষণ হয়ে দেড় বছরের সন্তান অসুস্থ হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আবাসন কর্তৃপক্ষের কারও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন:
নিউটাউন শহরে রোজকার নাগরিক পরিষেবার দায়িত্বে রয়েছে নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ বা এনকেডিএ প্রশাসন। এই সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সরকারিভাবে সরবরাহ জল কোনও রকম দূষিত হয়নি। তা হলে গোটা নিউটাউনে বাসিন্দারা সমস্যায় পড়তেন। এটা শুধু মাত্র ওই আবাসনের ই-ব্লকের ঘটনা। আবাসিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সরবরাহ ব্যবস্থায় গাফিলতি, নাকি আবাসনের সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ত্রুটি সে বিষয় খতিয়ে হচ্ছে। একইসঙ্গে ট্যাঙ্ক পরিস্কারের কাজও শুরু হয়েছে। এছাড়া একটা পাঁচ লাখ ও একটা আড়াই লাখ লিটার ক্যাপাসিটর রিজার্ভার পরিষ্কারের কাজও করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
সর্বশেষ খবর
