নলেন গুড় খেলে হতে পারে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ! সত্যিটা জানালেন চিকিৎসকরা

নলেন গুড় খেলে হতে পারে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ! সত্যিটা জানালেন চিকিৎসকরা

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ঘণ্টাখানেক বাঁচে। আর ১০০ ডিগ্রিতে মাত্র ১৫ মিনিট! এটাই নিপা ভাইরাসের আয়ুর সীমারেখা। কিন্তু খেজুর বা তালের রস থেকে গুড় তৈরি হয় ১০০-১১০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। রস জ্বাল দেওয়া হয় ১-৩ ঘণ্টা ধরে। সুতরাং গুড়ে নিপা ভাইরাস থাকার কোনও দূরতম সম্ভাবনাও নেই। এমনটাই জানিয়ে দিলেন ভাইরোলজিস্টরা। তাঁদের স্পষ্ট অভয়, খেজুর বা তালের কাঁচা রস এইসময় খাবেন না। কিন্তু গুড়ে কোনও সমস‌্যা নেই। নিশ্চিন্তে গুড়ের তৈরি পিঠে-পুলি বা মিষ্টি খাওয়া চলতে পারে।

আরও পড়ুন:

দুই নার্স আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে ডালপালা মেলেছে নিপা আতঙ্ক। ডাক্তারবাবুরা বাদুড়ের সংস্পর্শে আসতে পারে এমন সব কিছুই এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এই তালিকার শীর্ষে আছে খেজুর ও তালের রস। খোলা থাকায় খেজুরে রসে বাদুড়ের লালা বা মল-মূত্র মিশতে পারে। কিন্তু বাস্তবটা হল, সংক্রমিত রস থেকে গুড় তৈরি হলেও তাতে নিপা থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই। এমনটাই জানিয়েছেন ভাইরোলজিস্ট ডা. সিদ্ধার্থ জোয়ারদার। আসলে নলেন গুড় শুধু পিঠে-পুলি নয়, মিষ্টি শিল্পেরও প্রাণভোমরা। সারা বছরই মানুষ নলেন গুড়ের মিষ্টি খেতে চায়। গুড়ের কারবারিদের দাবি, নিপা আতঙ্কে গুড়ের ব্যবসা একটু হলেও ঝাড় খেয়েছে। মরশুম থাকতে থাকতে এই ভুল ধারণা না কাটলে বিপদ। তঁাদের দাবি, ‘‘গুড় যতক্ষণ ধরে জ্বাল দেওয়া হয় তাতে বিষও জল হয়ে যাবে।’’

গুড়ে নিপা ভাইরাস থাকার কোনও দূরতম সম্ভাবনাও নেই। এমনটাই জানিয়ে দিলেন ভাইরোলজিস্টরা। তাঁদের স্পষ্ট অভয়, খেজুর বা তালের কাঁচা রস এইসময় খাবেন না। কিন্তু গুড়ে কোনও সমস‌্যা নেই।

গবেষণা বলছে, বাদুড় খাদ্য ও বাসস্থানের স্বল্পতাজনিত কারণে চাপে (স্ট্রেস) থাকলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে তার দেহে ভাইরাসের সংখ্যা বেড়ে যায়। সংখ্যাবৃদ্ধি হয় বলে ভাইরাস বাদুড়ের দেহ থেকে বেরিয়ে পড়ে অন্য পোষকের খোঁজে। এই স্পিল ওভারই যাবতীয় সমস্যার মূলে। সিদ্ধার্থবাবুর পর্যবেক্ষণ, বাদুড়ের লালারস, ঘাম ও মূত্রের মধ্যে দিয়ে দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে। এই সময় অন্তবর্তী পোশাক (ইন্টারমিডিয়েট হোস্ট) এবং মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। শূকর হল ইন্টারমিডিয়েট হোস্ট। বাদুড়ের মুখ দেওয়া খেজুর ও তালের রস বা ফল তখন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যম হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মত, এই সময় ন্যূনতম কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যেমন গৃহপালিত পশুর পরিচর্যার পর ভালো করে সাবান জলে হাত ধুয়ে নিতে হবে। খেজুর ও তালের রস সরাসরি না খেয়ে অন্তত আধঘন্টা রৌদ্রে রেখে অথবা ফুটিয়ে তার পরে খেতে হবে। খেজুড় ও তালের রস সংগ্রহ করা শিউলিদেরও বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

আরও পড়ুন:

যে কোনও জিনিস খাবার আগে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। সেটা সাবান জলে হলেই ভাল। জলে না ধুয়ে ফল খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। মাটিতে পড়ে থাকা ফল বা ‘কিছুটা খাওয়া’ ফল না খাওয়াই ভাল। বাজার থেকে কেনা ফল বা গাছের টাটকা ফলকে ধুয়ে খেতে হবে। খুব ভালো হয় ফলগুলোকে ৩-৫ মিনিট নুন জলে (১ লিটার জলে আধ চামচ নুন) ডুবিয়ে, পরে সাধারণ জলে ভালো করে ধুয়ে নিলে। তাতে নোনতা-স্বাদ আর থাকবে না। জীবাণু ও ভাইরাস নোনা-জলে বিনষ্ট হয়ে যাবে।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *