দ্বন্দ্ব নয়, বীরভূমে বিরাট ব্যবধানে জয়ই লক্ষ্য তৃণমূলের ‘সৈনিক’ কাজল-অনুব্রতর

দ্বন্দ্ব নয়, বীরভূমে বিরাট ব্যবধানে জয়ই লক্ষ্য তৃণমূলের ‘সৈনিক’ কাজল-অনুব্রতর

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


প্রার্থী ঘোষণা হতেই বীরভূমে তৃণমূল যেন একজোট। কোনও শিবিরে ভাগাভাগি নয়। কোনও দ্বন্দ্ব নেই। একুশের নির্বাচনে যেমন কোর কমিটির নেতৃত্বে লড়াই হয়েছিল। ছাব্বিশেও একইভাবেই লড়াইয়ে নামতে চলেছে জেলার কোর কমিটি। এবার বাড়তি শক্তি অনুব্রত মণ্ডল। গত লোকসভা এবং বিধানসভা, পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি জেলার বাইরে অন্যত্র ছিলেন। এবারে প্রার্থী তালিকায় যাঁরা রয়েছেন প্রবীণ-নবীন, পুরনো-নতুন সমন্বয় রেখেই নির্বাচিত হয়েছেন। এবারে জেলার ১১টি বিধানসভার মধ্যে তিনজন প্রার্থী নতুন মুখ। বাকি আটজনই প্রবীণ। যদিও প্রার্থী প্রকাশিত হওয়ার পর কিছু কিছু কর্মী যাঁরা আশা করেছিলেন প্রার্থী হবেন তাঁদের দলের অভ্যন্তরে কিছু ক্ষোভ ছিল। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণা হতেই সেসব যেন উড়ে গিয়েছে। তাঁরা একজোট হয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন।

এই বিষয়ে আরও খবর

মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা হতেই দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরা বার্তা দিচ্ছেন আমরা একজোট। বরং বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই প্রতিযোগিতায় নামতে চাইছেন সকলেই। প্রত্যেকটি বিধানসভাতেই জয় নিশ্চিত করছে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। শুধু ব্যবধান কত হবে বুথভিত্তিক অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে ব্লক সভাপতি ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। আগে যেটি হয়ে এসেছে, কারও নেতৃত্বে কারও প্রাধান্যে কার্যকলাপ পরিচালনা। এবার প্রার্থী নির্বাচন থেকে ঘোষণা সবটাই রাজ্য নেতৃত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে।

হাসন বিধানসভার প্রার্থী কাজল শেখ জানান, “শুধু নিজের এলাকা নয়, গোটা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভোটযুদ্ধে থাকব।” অনুব্রত বলছেন, “কেউ কারও উসকানিতে পা দেবেন না।”

নানুরের পাপুড়ির বাসিন্দা জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখকে প্রার্থী করা হয়েছে হাসন বিধানসভায়। আবার বোলপুরের বাসিন্দা নরেশচন্দ্র বাউড়িকে পাঁচ বছর পর আবারও পুরনো জায়গায় দুবরাজপুরে প্রার্থী করা হয়েছে। কারণ, গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার একটিমাত্র আসন দুবরাজপুরে জয়লাভ করেন বিজেপির অনুপ সাহা। পরাজিত হন তৃণমূলের যুব সভাপতি দেবব্রত সাহা। ২০১৬ সালে বোলপুরের নিচুপট্টি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নরেশচন্দ্র বাউড়ি দুবরাজপুর বিধানসভায় জয়লাভ করেন। আবারও পুরনো মুখকেই ভরসা করেছে দলের শীর্ষনেতৃত্ব।

অন্যদিকে সিউড়ি বিধানসভায় দীর্ঘদিনের বিধায়ক ছিলেন বিকাশ রায়চৌধুরী। তাঁর পরিবর্তে দল প্রার্থী ঘোষণা করেছে সিউড়ি পুরসভার পুরপ্রধান তথা বিধানসভার প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে। তবে প্রার্থী ঘোষণা হতে জেলাজুড়েই উল্লাস শুরু করেছেন দলীয় কর্মী সমর্থকেরা। এবং সকলেই প্রমাণ করতে চাইছেন তাঁদের কাছে প্রার্থী নয়, দলই শেষ কথা। সভাধিপতি তথা হাসন বিধানসভার প্রার্থী কাজল শেখ জানান, “শুধু নিজের এলাকা নয়, গোটা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভোটযুদ্ধে থাকব।” শুধু তিনি নন, জেলার কোর কমিটির সব সদস্যরা বিভিন্ন বিধানসভা ধরে ধরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মিছিল, পথসভা তালিকা সাজাতে ব্যস্ত। অনুব্রত মণ্ডল জানান,”দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যাঁকে প্রার্থী করেছেন তিনিই প্রার্থী। প্রতিটি আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রার্থী। চেনা মাঠ, কেউ যেন উসকানিতে পা না দেন।” তবে জোটবদ্ধ হয়েই জেলার ১১টি আসনেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে প্রাণপণ লড়াইয়ে নেমেছে তৃণমূল। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রত্যেকটি বিধানসভাতেই হবে অপ্রতিরোধ্য লড়াই। থাকবে না কোন দ্বন্দ্ব। কর্মী-সমর্থক সকলেই সৈনিক হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন জয়ের লক্ষ্যে।

এই বিষয়ে আরও খবর

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *