রাজ্যে এখনও বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ্যে আসেনি। তবু বাঁকুড়ায় এখনই ভোটের হাওয়া উঠে গিয়েছে। ধলডাঙ্গা মোড়ে ‘চা চক্র’ সেরে কাছাকাছি একটি ছোট্ট কর্মসূচিতেগিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ। চায়ের দোকানের বেঞ্চ থেকে উঠে কয়েক কদম দূরে, গেরুয়া পতাকা আর হাতে গোনা কর্মী-সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়েই দিলীপের ঘোষণা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন বিদায়ী বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা।
আরও পড়ুন:
দলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়নি। কিন্তু দিলীপের গলায় ছিল এমন এক আত্মবিশ্বাস, যেন সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সিলমোহর পেয়ে গিয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। দিলীপ অবশ্য নিজের মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “বর্তমান বিধায়ক। খুব বিশেষ কারণ না থাকলে জেতা কেন্দ্রে দল প্রার্থী বদলায় না।” নীলাদ্রিশেখর দানা নিজে অবশ্য সংযত। তিনি বলেন, “প্রার্থী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে দলীয় নেতৃত্বই। অর্থাৎ, সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলেও চূড়ান্ত কথা এখনও বাকি।” তৃণমূল অবশ্য এ নিয়ে কটাক্ষ ছুড়েছে।
বলে রাখা ভালো, এর আগে কল্যাণী এইমসে চাকরি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিধায়ক তাঁর মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেন। শুধু তিনিই নন, নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে বিজেপির দুই সাংসদ এবং দুই বিধায়ক-সহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে নদিয়ার কল্যাণীর এইমসে নিজেদের আত্মীয়দের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় এফআইআর। এফআইআরে নাম রয়েছে বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার, রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার, বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা, চাকদহ বিধানসভার বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ, কল্যাণী এইমসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রামজি সিং-সহ মোট ৮ জনের। ওই দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তভার নেয় সিআইডি। কল্যাণী থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ সংক্রান্ত নথিপত্র সিআইডিকে হস্তান্তর করার পর তদন্ত শুরু করে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা। বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
