ডিমেনশিয়া: কেবল বার্ধক্য নয়, একটি জটিল মানসিক অবস্থা – Uttarbanga Sambad

ডিমেনশিয়া: কেবল বার্ধক্য নয়, একটি জটিল মানসিক অবস্থা – Uttarbanga Sambad

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


ডিমেনশিয়া (Dementia) কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগের একটি সমষ্টিগত রূপ, যা মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়াকে স্বাভাবিক মনে করেন, কিন্তু ডিমেনশিয়া বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ নয়। এটি মস্তিষ্কের কোষ বা স্নায়ুর অবক্ষয়ের কারণে হওয়া এক জটিল অবস্থা।

লক্ষণসমূহ: ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে, তবে সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনা বা কথোপকথন ভুলে যাওয়া। অন্যান্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. পরিচিত কাজগুলো সম্পন্ন করতে অসুবিধা হওয়া (যেমন—রান্না করা বা পোশাক পরা)। ২. সময় ও স্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তি (নিজের বাড়িতেই পথ হারিয়ে ফেলা)। ৩. ভাষা ব্যবহারে সমস্যা এবং সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া। ৪. বিচার-বিবেচনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া। ৫. মেজাজ ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, যেমন—অকারণে সন্দেহ করা বা ভীত হয়ে পড়া।

কারণ: ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অ্যালঝেইমার রোগ (Alzheimer’s illness), যা প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। এছাড়া স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া হতে পারে।

চিকিৎসা ও যত্ন: দুর্ভাগ্যবশত, বেশিরভাগ ধরণের ডিমেনশিয়ার কোনো স্থায়ী নিরাময় বর্তমানে নেই। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে ওষুধ এবং বিভিন্ন থেরাপির মাধ্যমে লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং রোগীর জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত করা যায়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমানো যেতে পারে। ডিমেনশিয়া আক্রান্ত রোগীর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা, ধৈর্য এবং সহানুভূতিশীল যত্ন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *