সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সাদা বলের ক্রিকেটে একটি আইসিসি ট্রফি একটি এশিয়া কাপ ট্রফি জিতলেও টেস্ট ক্রিকেটে কোচ হিসাবে ‘চূড়ান্ত ব্যর্থ’ গৌতম গম্ভীর। তাঁর আমলেই ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চুনকাম হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ভারতীয় টেস্ট দলের কোচ হিসাবে জেসন গিলেপসি হতে পারেন আদর্শ। প্রাক্তন অজি তারকাকে যদি শুভমান গিলদের কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তাহলে কি রাজি হবেন? জানিয়েছেন প্রাক্তন পেসার নিজেই। তাছাড়াও পাকিস্তানের কোচের পদ থেকে কেন ইস্তফা দিয়েছিলেন, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন গিলেপসি।
এক সোশাল মিডিয়ায় এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এক ইউজার গিলেসপিকে বলেন, ‘জেসন, তোমার এখন ভারতের কোচ হওয়া উচিত। কারণ ওরা কেবল হারেনি, বরং ঘরের মাঠে দু’বার হোয়াইটওয়াশও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তোমাকে সত্যিই প্রয়োজন।’ এর উত্তরে বিনয়ের সঙ্গে প্রস্তাব খারিজ করে গিলেসপি বলেন, ‘নো থ্যাংকস।’
উল্লেখ্য, গম্ভীরের আমলে ভারত মাত্র ৭টি টেস্ট জিতেছে, ১০টি হেরেছে এবং দু’টি ড্র করেছে। ঘরের মাঠে ৯টি টেস্ট খেলে ৫টিতেই কুপোকাত হয়েছেন যশস্বী জয়সওয়ালরা। চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সাইকেলে এখনও পর্যন্ত ৯টি টেস্ট খেলেছে টিম ইন্ডিয়া। এর মধ্যে ৪ টেস্টে জয় পেলেও চারটিতে হেরে গিয়েছেন শুভমান গিলরা। একটি ম্যাচ ড্র করেছে ভারত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ওঠার দৌড়ে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের ভাবাচ্ছে কোচ গৌতম গম্ভীরের লজ্জার রেকর্ড। তবে ভারতের টেস্ট দলের কোচ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণে কেন রাজি নন, তার ব্যখ্যা অবশ্য করেননি গিলেসপি। অনেকেই মনে করছেন, এর জন্য দায়ী পাকিস্তানে তাঁর বীভৎস অভিজ্ঞতা। হয়তো সেই কারণেই কোনও দলের কোচিংয়ের ফেরার উৎসাহই পাচ্ছেন না জেসন গিলেপসি।
No thanks. https://t.co/TJgodRMkVJ
— Jason Gillespie (@dizzy259) January 1, 2026
২০২৪ সালে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধান কোচ ছিলেন এই অজি তারকা। সেখানে তিক্ত হয়েছিল গিলেসপির কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা। তাঁর আমলে বাংলাদেশের কাছে চুনকামের পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রত্যাবর্তন হয়েছিল পাকিস্তানের। ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল তারা। অথচ চূড়ান্ত ‘অপমানিত’ হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার ৮ মাসের মধ্যে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। গিলেসপি বলেন, ‘পাক বোর্ডের তরফে কোনও কমিউনিকেশনই ছিল না। পিসিবি ওদের সিনিয়র সহকারী কোচকে আচমকা সরিয়ে দিলেও আমাকে এ ব্যাপারে একটা কথাও বলেনি। এই পরিস্থিতিকে হেডকোচ হিসাবে আমার মোটেও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। যাতে আমি চূড়ান্ত অপমানিত হয়েছিলাম। এই অবস্থায় দায়িত্ব সামলানো যায় না। সেই কারণে পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলাম।’ অর্থাৎ অপমান সহ্য করতে না পেরেই পাক দলের কোচের পদ ছেড়েছিলেন তিনি। সেই ‘হতাশা’র রেশ এখনও চলছে। কারণ, পাকিস্তানের পর আর কোনও দলেরই কোচিংয়ে আসেননি প্রাক্তন অজি তারকা।
I used to be teaching the Pakistan Take a look at aspect. The PCB sacked our senior assistant coach with ZERO communication with me about it- as Head Coach I discovered this example fully unacceptable.
There have been numerous different points which left me fully humiliated.@stillnotoutpod https://t.co/AqATYAfiyg— Jason Gillespie (@dizzy259) January 1, 2026
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন
