সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় ভোটের দিন ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তার আগেই ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। শহরে এলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এ দিন বিমানবন্দর থেকে গাড়ি বেরনোর সময়েই তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। এমনকী কৈখালীতে কনভয় যাওয়ার সময় তাঁকে কালো পতাকাও দেখানো হয় কালো পতাকাও। শুধু তৃণমূল নয়, এদিন বিমানবন্দরের বাইরে ভিআইপি রোডে বিক্ষোভ দেখান বামকর্মী সমর্থকরাও। যা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কড়া হাতে গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, সোমবার এবং মঙ্গলবার দফায় দফায় একাধিক বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। বৈঠক করবেন শাসকদল তৃণমূল-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে যেখানে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন রাজীব কুমার। এই প্রথম শাসকদলের হয়ে কোনও বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই প্রতিনিধিদলে থাকবেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

এছাড়াও রাজ্য প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিক থেকে এসপি, জেলাশাসকদের সঙ্গেও বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বৈঠক হবে বিএলওদের সঙ্গেও। দুইদিন ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারদের। তার আগে তিনি যেতে পারেন কালীঘাট মন্দিরে। এমনকী বেলুড় মঠেও যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখ। সেই সময় রাজ্যের মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় নাম বাদ যায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ ভোটারের। ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল রাজ্যের মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ০৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জনে। কমিশনের দেওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, ফর্ম ৭ অর্থাৎ নাম বাতিলের ফর্ম জমা দেওয়ার পর নাম বাদ গিয়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের। এখনও বিচারধীন ৬০ লক্ষ ভোটার। যা নিয়ে জনমানসে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কী বলেন সেই দিকে নজর সবার।
