দীপালোক ভট্টাচার্য
এক
সাধারণত এত ভোরে ওঠেন না কোয়েলা। উঠে করবেনই বা কী? আরথ্রাইটিসের ব্যথায় চলাফেরা করাই দায়। তবে আজ অ্যালার্ম দিয়ে উঠেছেন। ঠিক সূর্যোদয়ের মুহূর্তে।
ছাদে এসে কোয়েলা বুঝলেন, ভোরে ওঠাটা বৃথা যায়নি। সে দেখা দিয়েছে। শেষ নভেম্বরে প্রতি বছরই দেখা মেলে তার। তবে এবছর মনে হচ্ছে আরও ঝকঝকে। শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয়। গোটা স্লিপিং বুদ্ধ যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।
গতকাল মেয়ে কোয়েলাকে ফোন করে বলেছিল, ফেসবুকে সবার পোস্ট করা ছবি দেখে আমারও খুব জলপাইগুড়ি যেতে ইচ্ছে করছে, মা। কিন্তু এখন তো আর যাওয়া সম্ভব নয়, বুঝতেই পারছ। শোনো, তুমি কাল ভোর ভোর উঠেই ছাদে যাবে। ক’খানা জব্বর ছবি তুলবে মোবাইলে। আমাকে পাঠাবে সেগুলো। আমি ফেসবুকে দেব। লিখব, হাত বাড়ালেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। আমাদের জলপাইগুড়ির ফ্ল্যাট থেকে।
ছাদের কার্নিশ ধরে দাঁড়িয়ে তন্ময় হয়ে উত্তর দিগন্তে তাকিয়ে আছেন কোয়েলা। হঠাৎ মনে হল, এই যাঃ, মোবাইলটাই তো আনা হয়নি।
পেছন ফিরে সিঁড়ির দিকে এগোতেই কোয়েলা বুঝলেন, চটিতে কিছু একটা লেগেছে। ভালো করে তাকাতেই বুঝলেন অঘটন যা ঘটার ঘটে গিয়েছে। গোটা চটিতে মাখামাখি সারমেয়র বিষ্ঠা।
সারা শরীর ঘিনঘিন করে উঠল ঘেন্নায়। ইচ্ছা ছিল ছাদবাগানের নিজের টব থেকে কয়েকটা রঙ্গন ফুল তুলে ঘরে ঢুকবেন কোয়েলা। সাথে করে ফুলের সাজিখানাও নিয়ে এসেছেন। এখন স্নান না করা অবধি সব মুলতবি রাখতে হবে। কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবিটাও আর তোলা হল না, এটাই আফসোস।
ছাদের ট্যাপকল খুলে ঘষে ঘষে পা ধুচ্ছেন কোয়েলা। পায়ের একপাটি চটির তলায় চেপ্টে আছে কুকুরের বিষ্ঠা। তবুও কোয়েলার মনে হচ্ছে পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। আর ইচ্ছে করে এ চটি পরতে?
ভালো করে খেয়াল করে কোয়েলা দেখলেন, ছাদের অনাচে-কানাচে দু-তিন জায়গায় ছড়িয়ে আছে বিষ্ঠা। আর ছাদে আসতে ইচ্ছে করে এসব দেখে?
রাগটা আবার ফিরে আসছে। কোয়েলা বুঝতে পারছেন, মাথার ভেতর ঘনিয়ে আসছে নিম্নচাপ। এই অবস্থাটাকে বড্ড ভয় পায় কোয়েলা। কাকে কী বলে দেবে রাগের মাথায়, হুঁশ থাকে না। উনি বেঁচে থাকতে হাসিমুখে এরকম কত ঝড় সামলেছেন, কোনও হিসাব নেই।
কুকুর নিয়ে যত আদিখ্যেতা! চটিটা শেষবারের মতো ট্যাপকলে ধুতে ধুতে মনে মনে গজগজ করলেন কোয়েলা। জনাকয়েক ফ্ল্যাটবাসী ইয়া সাইজের ল্যাব্রাডর, জার্মান শেফার্ড নিয়ে ছাদে আসবে কুকুর চরাতে। এসেই গলার বকলেস দেবে খুলে। ব্যাস, আর পায় কে? গোটা ছাদজুড়ে চলবে দাপাদাপি। সেসময় অন্য কেউ ছাদে থাকলে নির্ঘাত গায়ের ওপর চড়ে বসবে। কোয়েলা তো পারতপক্ষে ছাদে থাকে না ওরা থাকলে। আর ছুটির দিন হলেই ছানাদের স্নান করানোর বাহার দেখে পিত্তি জ্বলে যায় কোয়েলার। মায়েরাও বোধহয় এত যত্ন করে স্নান করায় না ছোট বাচ্চাদের। অনলাইনে বিশেষ রকমের শ্যাম্পু, বডি ক্রিম আসে। তবে যতই স্নান করাক। গা থেকে কেমন একটা বোঁটকা গন্ধ বেরোয় সবসময়। কাছে গেলেই অস্বস্তি হয় কোয়েলার।
‘গুড মর্নিং কোয়েলা দি’, পোষ্য ব্রুনোকে নিয়ে ছাদে এসেই বলল মুখার্জিবাবু। ‘তারপর সব ভালো তো? সকালসকাল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়, কী বলেন।’
‘ভালোই ছিলাম এতক্ষণ। কিন্তু সকালসকাল পা দিয়ে এসব মাড়ানোর পর আর কি ভালো থাকা যায় মুখার্জিদা?’ ছাদে পড়ে থাকা কুকুরের বিষ্ঠা দেখিয়ে বললেন কোয়েলা, ‘আচ্ছা বলুন তো, মিনিমাম একটা সিভিক সেন্স থাকবে না মানুষের? এখন আফসোস হচ্ছে, ছেলেমেয়েদের কথায় কী কুক্ষণে নিজের বাড়ি বিক্রি করে ফ্ল্যাটখানা নিলাম!’
‘আমি আগেই বলে রাখছি, আমার ব্রুনো কিন্তু ট্রেইন্ড। লাস্ট এক বছর ও টয়লেটেই পটি করে। ওর ট্রেইনার বলেছে খোলা জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করাতে। এই যে বল নিয়ে এসেছি’, হাতে ধরা ক্যাম্বিসের বল দেখিয়ে বললেন মুখার্জিবাবু, ‘ও, ভালো কথা, ওর ট্রেনার বলেছে, কমোডে করার ট্রেনিংও নাকি দেবে আমার ব্রুনোকে। জানেন, উকিলপাড়ার একখানা ল্যাব্রা নাকি কমোডের ফ্ল্যাশ অবধি করতে পারে নিজে। অ্যামাজিং, না?’
‘আচ্ছা, আমি একবারও কি অভিযোগ করেছি, ছাদে পড়ে থাকা এই মহার্ঘ বস্তুগুলোর মালিকানা আপনার ব্রুনোর?’ ছাদে পড়ে থাকা বিষ্ঠা দেখিয়ে বললেন কোয়েলা, ‘আমি শুধু দেখালাম। না, ব্রুনো ছাড়াও আরও কয়েকটা পোষ্য আছে এই আবাসনে, আর তাঁদের মালিক বা মালকিনরা হয়তো আপনার মতো সজাগ নয় এসব ব্যাপারে, এটাই ধরে নিতে হবে। আসলে আমরা তো আবাসনে থাকি। এটার সাথে বাড়ির একটা চরিত্রগত তফাত আছে, এ ব্যাপারটা অনেকেই আমরা ভুলে যাই, তাই না মুখার্জিদা? আমরা ভুলে যাই, ছাদটা কোনও একটা বা দুটো পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটা একটা কমন এরিয়া। সবার ব্যবহারের জন্য। আর একটু সহমর্মিতা কি আশা করা যায় না?’
ব্রুনোকে বাঁধনমুক্ত করলেন মুখার্জিবাবু। তারপর এতক্ষণ ধরে রাখা বলটা একটু দূরে ছুড়ে দিলেন। ব্রুনো ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে বলটা মুখে নিয়ে ফের হাজির হল মালিকের কাছে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি হেনে জরিপ করে নিল কোয়েলাকে। কোয়েলার ভীত চাহনি দেখে মুচকি হাসলেন মুখার্জিবাবু।
‘এটা ভুলে যাবেন না দিদি, এ ফ্ল্যাটে আরও কয়েকজনের পোষ্য আছে। তারাও ছাদে আসে পোষ্য সমেত। অবোলা জীব। বোঝেনই তো। করে ফেলেছে কম্মোটা। হয়তো মালিক খেয়াল করেনি। অথবা ইচ্ছে করেই পরিষ্কার করেনি। ফ্ল্যাটের ঝাড়ুদারকে তো আর এসব পরিষ্কার করার কথা বলা যায় না’ ব্রুনোকে বল ছুড়ে দিতে দিতে বললেন মুখার্জিবাবু, ‘এগুলো আমি আজ নিজের হাতে পরিষ্কার করব। আপনি সাক্ষী। তারপর দেখছি। এর একটা বিহিত আমি করবই।’
ব্রুনো মুখার্জিবাবুর ছুড়ে দেওয়া বল মুখে তুলে ছুটে আসছে কোয়েলার দিকে। আতঙ্কে দম বন্ধ হয়েছে কোয়েলার। হাঁটুর ব্যথা ভুলে কোয়েলা ছুটলেন সিঁড়ির দিকে। মনে মনে ভাবলেন, আজই মেয়েকে ফোন করে বলে দেবেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা চুলোয় যাক, আর ছাদমুখো হবেন না দিনকয়েক।
দুই
‘আমার প্রিয় আবাসনের বাসিন্দাদের জানাই গুড মর্নিং। কিন্তু আমার সকালটা আজ ভালো নয়। একেবারে যাচ্ছেতাই রকমের খারাপ। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমাকে অন্যের পোষ্যর পটি পরিষ্কার করতে হচ্ছে নিজের হাতে। যেটা আমার করার কথা নয়। আপনারা জানেন, আমার ব্রুনো কোনওসময়ই ছাদে মল ত্যাগ করে না।’
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মুখার্জিবাবু হাতে পিচবোর্ড নিয়ে ছাদে পড়ে থাকা কুকুরের বিষ্ঠা পরিষ্কার করছেন। মেঝেতে রাখা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ফের বলা শুরু করলেন, ‘আমার যতদূর মনে পড়ছে, মাসখানেক আগেই ছাদে একটা মিটিং হয়েছিল এই ইস্যুতে। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, যাঁদের পোষ্য আছে, তাঁরা, মানে আমরা আমাদের পোষ্যদের নিয়ে ছাদে আসতেই পারি। কিন্তু নিজেদেরকেই পটি পরিষ্কার করতে হবে। ফ্ল্যাটের সুইপার এই কাজটি করবে না। আমি আমার কথা রেখেছি। আমার একটাই রিকোয়েস্ট, এরকম করবেন না। আজ আপনাদের অপদার্থতার জন্য আমাকে কথা শুনতে হয়েছে। আর আমাকে ফ্ল্যাটের ফ্রি সুইপার ভেবে বসবেন না আবার।’
আবাসনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মুখার্জিবাবুর ভিডিওটা দেখে মনে মনে হাসলেন কোয়েলা। বুঝলেন, ঝড় আসছে।
আশঙ্কা ঠিক প্রমাণ হল কলিংবেলের শব্দে। দরজা খুলেই দেখতে পেলেন, তমালিকা আর শ্রীপর্ণা। একজন কোয়েলাদের উলটোদিকের ফ্ল্যাটে। অন্যজন নীচের ফ্লোরে। দুজনেই ল্যাব্রাডরের মালকিন।
‘আচ্ছা, মুখার্জিদা কি ব্যাপারটা ঠিক করলেন বলো বৌদি?’ শ্রীপর্ণা বলল, ‘নিজে সেফ খেলে তিরটা কেমন আমাদের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন বলো? আমি চালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমাদের জিনি গতকাল বিকালে ছাদে গিয়েছিল বটে, যেমনটা প্রতিদিন যায়। কিন্তু ও ওই কাজটি করেনি, বিশ্বাস করো।’
‘আরে আমার দুষ্টু গত চব্বিশ ঘণ্টায় একবারও ছাদে যায়নি। গতকাল রাতে পিকলুর বাবা দুষ্টুকে নিয়ে ক্লাবের মাঠে গেছিল। আর আমার সময় কোথায় বলো? অফিস, সংসারের কাজ, পিকলুর পড়াশুনো দেখা’, তমালিকা বলল, ‘দেখো বৌদি, মিথ্যে বলব না, আগে কয়েকবার দুষ্টু ছাদে পটি করেছিল, অস্বীকার করব না। পিকলুর বাবাই দুষ্টুকে মাঠে কিংবা ছাদে নিয়ে যায় বরাবর। দু’একবার করে ফেলে ওই কাজটি। আর জানোই তো, আলভোলা লোক। হয়তো খেয়াল করেনি। কিন্তু ওই মিটিংয়ের পর শুধরে গেছে।’
‘আচ্ছা, আমার কাছে তোরা এসব বলতে এসেছিস কেন বলতো? আমার কাছে কেন তোরা কৈফিয়ত দিচ্ছিস? আমি কি তোদের অবিশ্বাস করছি?’ কোলাপসিবেল গেট খুলতে খুলতে বললেন কোয়েলা, ‘আয় ভেতরে এসে কথা বলি। চা করি একটু? আজ রোববার। তমালির অফিস নেই। বস একটু।’
লিভিংরুমে ঢুকে ধপ করে সোফার ওপর বসল দুজনে। তমালিকা একটু হাঁফাচ্ছে। উত্তেজনায় একসাথে অনেক কথা বলে ক্লান্ত হয়ে গেছে। একটা বড় শ্বাস নিয়ে ফের বলতে শুরু করল, ‘আসলে মুখার্জিদার ভিডিও দেখে সবাই ভাবছে আমাদেরগুলোরই কাজ এসব। সেটাই স্বাভাবিক। ফ্ল্যাটে আমাদের তিনজনেরই পোষ্য আছে। মুখার্জিদারটা বাদ দিলে কাঠগড়ায় তোলার মতন বাকি রইল শুধু আমরা দুজন। আজ দুষ্টুর জন্য আমরা একসাথে দূরে কোথাও যেতে পারি না। ওর বাবার তো মনে হয় দুটো বাচ্চা। পিকলু আর দুষ্টু। দুটোই সমান ওর কাছে। এমন মায়া পড়ে গেছে না! এর মধ্যে এই খুচরা অশান্তিগুলো ভালো লাগে, বলো?’
কোয়েলা চা করে এনেছেন। ঘন দুধ দিয়ে কড়া করে। সুরুৎ করে গরম চা গিলে গলার স্বর খাটো করে তমালিকা বলল, ‘শোনো বৌদি, গতকাল ছাদে অন্য একটা জার্মান শেফার্ড দেখা গেছে, জানো বৌদি? আমার কর্তা দেখেছে। আমাদের ফ্ল্যাটের কারো না সেটা। চার তলার ভাড়াটিয়া ছেলেটা আছে না, আরে মা ছেলে মিলে থাকে, বুঝেছো তো? আরে, অতটা মেশে না কারো সাথে। ওই ছেলেটি ঘুরছিল কুকুরটাকে নিয়ে। তো, শোনার পর আমি অতটা গা করিনি। আত্মভোলা লোক কী দেখতে কী দেখেছে!’
‘আমি নাম বলব না, আর একজন দেখেছে ব্যাপারটা’, শ্রীপর্ণা হঠাৎ বলা শুরু করলো, ‘ওদের কোনও পোষ্য নেই, আমি নিশ্চিত। মহিলা হাসপাতালের নার্স, ছেলেটা এইচএস দিয়েছে। তো কারো সাথে তেমন কথা বলে না, মা ছেলে, বুঝেছো তো?’
‘তাহলে আর কী? সেক্রেটারিকে জানা ব্যাপারটা’, কোয়েলা বললেন।
‘চল শ্রীপর্ণা, আজ ছুটির দিন। অনুপদাকে ঘরে পাওয়া যাবে। সুযোগ যখন এসেছে, আমাদের ক্লিনচিট আমাদেরকেই জোগাড় করতে হবে, বুঝলি? নাহলে গোটা ফ্ল্যাট ভেবে নেবে আমাদের দুষ্টু আর জিনি ছাদে পটি করেছে’, তমালিকা বলল, ‘ওঠ, আর দেরি করিস না।’
তিন
বিকেলে ছাদে গণজমায়েত। আবাসনের সম্পাদক অনুপবাবুর ডাকে। কোয়েলা প্লাস্টিকে করে উল কাঁটা নিয়ে এসেছেন। রোদ নরম হতে শুরু করেছে সবে। এসময় রোদে পিঠ দিয়ে উল কাঁটা বোনার মজাই আলাদা।
‘নতুন করে আর কিছু বলার নেই। মুখার্জিদার ভিডিও এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীপর্ণা আর তমালিকার পালটা বক্তব্য আমরা ফ্ল্যাটের গ্রুপেই পেয়েছি। এখন আপনার কিছু বলার থাকলে বলুন’, ভাড়াটিয়া মহিলার দিকে তাকিয়ে বললেন অনুপবাবু।
‘কী আর বলি। ছেলেটা একা একা থাকে সারাদিন। আমার চাকরিটাও এমন, কোথাও যেতে পারি না। ওর উচ্চমাধ্যমিকের পর থেকে বায়না ধরল, একটা পাপ্পি কিনে দাও। কিছু একটা নিয়ে তো থাকতে হবে। আমি ভাবলাম ক’দিন পর যদি বাইরে পড়তে যায় কোথাও, তখন কী হবে? তো আমার এর মধ্যে টানা চব্বিশ ঘণ্টার ডিউটি ছিল। ছেলে কী করেছে, ওর বন্ধুর কুকুর নিয়ে ফ্ল্যাটে এসে হাজির। বন্ধুর বাবা-মা কী একটা কাজে বাইরে গেছিল। বাকিটা আপনারাই আন্দাজ করে নিন। আসলে ছেলেটা তো তেমন মিশতে পারে না কারো সাথে। তো, আপনারা যদি আপনাদের পোষ্যর সাথে একটু সময় কাটানোর পারমিশন দেন আমার ছেলেকে…’, ধরা গলায় বললেন ভাড়াটিয়া মহিলা।
সবাই প্রস্তুত হয়ে ছিল অনেক কিছু বলার জন্য। কিন্তু কী বলবে বুঝতে পারল না কেউ।
শেষ বিকেলের রোদে আবারো স্পষ্ট স্লিপিং বুদ্ধ। সবার চোখ সেদিকে। কোয়েলা মোবাইল বের করেছেন। যেমনই আসুক, একখানা ছবি তুলতেই হবে মেয়ের জন্য।
The submit ছাদনামা appeared first on Uttarbanga Sambad.
