দেশের প্রথম এআই সম্মেলনে মোদি সরকারের নাক কাটার জোগাড়! চিনা রোবটকে নিজেদের আবিষ্কার বলে চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের নাম ডুবিয়েছে নয়ডার গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ বিশ্ব মঞ্চে ভারতকে ‘অপমান’ উপহার দেওয়ার পরও নির্বিকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দোষ দিচ্ছে তাঁদের প্রচার বিভাগের প্রধানকে। গালগোটিয়াসের এই বিতর্কের পর গোটা এআই সম্মেলনকেই কটাক্ষ করছে বিরোধীরা। তবে বিতর্কের মধ্যে মুখ খুলেছে কেন্দ্র। জানিয়েছে, নিজেদের তৈরি নয়, এমন কিছু দেখানো যাবে না সম্মেলনে।
রাহুল গান্ধী সোশাল মিডিয়ায় বলছেন, “এই এআই সম্মেলনটা আসলে প্রচারে আসার ব্যর্থ চেষ্টা। ভারতের প্রতিভা ও তথ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার বদলে এই সম্মেলনে ভারতের তথ্য বিক্রি হচ্ছে। আর চিনা পণ্যকে ভারতের বলে দাবি করা হচ্ছে।” একা রাহুল নন, কংগ্রেসের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলি থেকেও পোস্ট করে কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করা হয়।
আরও পড়ুন:
বিতর্কের সূত্রপাত ‘ওরিয়ন’ নামক নজরদারি রোবো কুকুর নিয়েই সম্মেলনে গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা আসার পরে! একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যেখানে নেহা সিং নাম্নী এক অধ্যাপক দাবি করছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠাবন ৩৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণায়। তারই ফলশ্রুতি ওই যন্ত্র-সারমেয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঘুরে বেরিয়ে নিজে নিজেই নজরদারি চালাতে পারবে। এতেই হাসির রোল ওঠে। কেননা যে রোবো কুকুর নিয়ে এমন দাবি, তা আসলে চিনা যন্ত্রকুকুর। ‘ইউনিট্রি জিও২’ নামের ওই রোবটটি একটি বাণিজ্যিক পণ্য। দাম ২৮০০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় মোটামুটি ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। সেই কুকুরকেই নিজেদের তৈরি বলে চালানোর চেষ্টাতে বিপত্তি বাঁধে। চিনা সংবাদমাধ্যম ফাঁস করে দেয় গালগোটিয়াসের কীর্তি।
As a substitute of leveraging India’s expertise and knowledge, the AI summit is a disorganised PR spectacle – Indian knowledge up on the market, Chinese language merchandise showcased. https://t.co/5liaoX0XXp
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) February 18, 2026
বিতর্কের মুখে গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে বিতাড়িত করা হয়। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “নিজেদের তৈরি নয়, এমন কিছু দেখানো যাবে না সম্মেলনে। এই সম্মেলনে যা প্রদর্শিত হবে সেটা নিয়ে কোনওরকম বিতর্ক কাম্য নয়। ভুয়ো তথ্য ছড়ানোটা মোটেই বরদাস্ত করা হবে না।” পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাফাই হিসাবে বলে, তাঁদের প্রচার বিভাগের নেহা সিং ওই রোবট সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতেন না। এমনকী সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর মুখ খোলার অধিকারও নেই। অতি উৎসাহে ভুল তথ্য দিয়ে ফেলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
