দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৮৭/৭ (মিলার ৬৩, ব্রেভিস ৪৫, বুমরাহ ১৫/৩)
ভারত: ১১১/১০ (দুবে ৪২, জানসেন ২২/৪)
দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী।
এই আহমেদাবাদেই ভেঙে ছিল ওয়ানডে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। এই আহমেদাবাদেই কি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আশা সুপার এইটে থেমে যাবে? দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৬ রানে হারল টিম ইন্ডিয়া। চাপ পড়তেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং। সেই সঙ্গে ঘাড়ের উপর চেপে বসল দেশের মাটিতেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আতঙ্ক। আর এতো শুধু হার নয়, তারকাখচিত টিমের জন্য রীতিমতো লজ্জাজনক। ১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে গেল ভারতের ইনিংস। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, সব দিকে টেক্কা দিয়ে গেল প্রোটিয়ারা। আর কোথাও গিয়ে শিক্ষা দিয়ে গেল, কীভাবে চাপ সামলাতে হয়।
এই বিষয়ে আরও খবর
আহমেদাবাদে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করাম। নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সাধারণত এই পিচে প্রচুর রান হয়, শিশিরও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। কিন্তু দু’টো বিষয় সম্ভবত মার্করামের কাছে স্পষ্ট ছিল। এক, বিশ্বকাপে রানের চাপ সামলে তাড়া করাটা সহজ নয়। দুই, ভারতের ব্যাটিং চাপের মুখে ভেঙে পড়েছে। এই ম্যাচেও দু’টোই ঘটেছে। সেই সঙ্গে ভারতকে সমস্যায় ফেলল বরুণ চক্রবর্তী, হার্দিক পাণ্ডিয়াদের রান দেওয়ার প্রবণতা।
তবে মার্করামের সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়ে ফেরানোর কাজটা শুরু করেছিলেন জশপ্রীত বুমরাহ (১৫/৩), অর্শদীপ সিংরা (২৮/২)। দ্বিতীয় ওভারেই কুইন্টন ডি’ককের উইকেট ছিটকে দেন বুমরাহ। তারপরের ওভারে অর্শদীপ ফেরালেন মার্করামকে। বুমরাহর ম্যাজিক ফিরল চতুর্থ ওভারেও। বলের গতির হেরফের করে রায়ান রিকেলটনকে ফেরালেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০ রান। ম্যাচের রাশ পুরোপুরি টিম ইন্ডিয়ার হাতে।
কিন্তু টপ অর্ডারের উইকেট হারিয়েও চাপে পড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। বরং পাওয়ার প্লে শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরলেন। তারপরই আক্রমণ করলেন শিবম দুবে, বরুণ চক্রবর্তীকে। বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন ডেভিড মিলার। ৩৫ বলে ৬৩ রান করে প্রোটিয়াদের ইনিংসকে শক্ত জমির উপর দাঁড় করিয়ে দিয়ে যান। অন্যদিকে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস করেন ৪৫। শেষের দিকে বুমরাহ-অর্শদীপরা যে চাপটা ফের তৈরি করেছিলেন, তা এক ওভারে ২০ রান দিয়ে বিসর্জন দিলেন হার্দিক। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হল ১৮৭ রানে।
South Africa are off to a profitable begin in Tremendous 8s! 👏
ICC Males’s #T20WorldCup SUPER 8 👉 #ZIMvWI | MON, 23 FEB, 6 PM pic.twitter.com/ePiAPRt6aQ
— Star Sports activities (@StarSportsIndia) February 22, 2026
আহমেদাবাদের পিচে এই রানটা তোলা কঠিন কাজ নয়। কিন্তু ভারতের ব্যাটিং চাপ সামলাতে পারলে তো! গ্রুপ পর্বেও দেখা গিয়েছে, যখন-তখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে সূর্যদের ব্যাটিং। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা তো আমেরিকা-পাকিস্তান নয়। তাছাড়া বিশ্বকাপে এই প্রথমবার রান তাড়া করতে নামল টিম ইন্ডিয়া। চাপ তো ছিলই, কিন্তু সেটা আরও বাড়াল ভারতের ওপেনিং জুটি। না, অভিষেক শূন্য রানে আউট হননি। এদিন শূন্য লেখা ছিল ঈশান কিষানের ব্যাটে। টানা চার ম্যাচে ভারতীয় কোনও না কোনও ওপেনারের ব্যাট থেকে রান আসেনি। পাকিস্তান ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বিপক্ষ অধিনায়ক প্রথম ওভারেই এসে উইকেট তুললেন। অভিষেক এদিন করলেন ১৫। একেবারেই স্বচ্ছন্দ নয়। কোথায়-কখন বল চালাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। বিশেষ করে অফ স্টাম্পের বল পড়লেই দিক হারাচ্ছেন। জানসেন গতির হেরফের করতেই আউট! অবশ্য করবিন বশ ক্যাচেরও প্রশংসা করতে হয়।
দু’টো বিষয় সম্ভবত মার্করামের কাছে স্পষ্ট ছিল। এক, বিশ্বকাপে রানের চাপ সামলে তাড়া করাটা সহজ নয়। দুই, ভারতের ব্যাটিং চাপের মুখে ভেঙে পড়েছে। এই ম্যাচেও দু’টোই ঘটেছে। সেই সঙ্গে ভারতকে সমস্যায় ফেলল বরুণ চক্রবর্তী, হার্দিক পাণ্ডিয়াদের রান দেওয়ার প্রবণতা।
দ্রুত দুই উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাও। কিন্তু তারা ধৈর্য্য ধরেছিল। ভারতীয় ব্যাটারদের সেই ধৈর্য্য কোথায়? তিলক বর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর- দুজনেই ক্রিজের বাইরে এসে মারতে গেলেন এবং ডি’ককের হাতে বন্দি হলেন। কোনও প্রয়োজন ছিল কি? অন্যদিকে লুঙ্গি এনগিডিদের সামলে অধিনায়ক সূর্যকুমার চেষ্টা করছিলেন ঠিকই। কিন্তু তা ১৮ বলের বেশি স্থায়ী হল না। এরপর যা হওয়ার তাই হল। হার্দিক পাণ্ডিয়া রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আউট হলেন। রানের খাতা না খুলে তাঁর পথ ধরলেন রিঙ্কু সিংও। নেহাত শিবম দুবে দু’চারটে বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন। নাহলে ভারতের রান ১০০-ও পেরোয় না। কেশব মহারাজ নিলেন ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট। ২২ রানে ৪ উইকেট জানসেনের। এনগিডি উইকেট পেলেন না ঠিকই, কিন্তু বোলিং বৈচিত্র্যে ভারতীয় ব্যাটিংকে শিকলবন্দি করে রাখলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভারতের ইনিংস থামল ১১১ রানে।
India’s 17-match profitable streak in ICC tournaments has come to an finish.
That is their first defeat since shedding to Australia within the 2023 World Cup Last at Ahmedabad 💔
AHMEDABAD AGAIN💔💔#INDvsSA pic.twitter.com/0ODYs3TDdw
— Vishal Yadav (@vmkvy95) February 22, 2026
পরের দু’টো ম্যাচে প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবারের বিশ্বকাপে চমকে দিয়েছে জিম্বাবোয়ে। অন্যদিকে ক্যারিবিয়ানরা বিশ্বজয়ের ‘ডার্ক হর্স’। সেমিফাইনাল স্বপ্ন হয়তো এখনও অধরা নয় ভারতের। অনেক জটিল অঙ্কও থাকবে। কিন্তু সবার আগে এই হারের আতঙ্ক ভুলতে হবে। সেটা গৌতম গম্ভীর যত তাড়াতাড়ি করতে পারবেন, তত মঙ্গল।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
