গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ! ইয়েমেনে রাষ্ট্রসংঘের ২০ কর্মীকে পণবন্দি করল হাউথিরা

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ! ইয়েমেনে রাষ্ট্রসংঘের ২০ কর্মীকে পণবন্দি করল হাউথিরা

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইয়েমেনে ফের বিদ্রোহী হাউথি গোষ্ঠীর নিশানায় রাষ্ট্রসংঘ। রবিবার রাজধানী সানায় রাষ্ট্রসংঘের কার্যালয়ে হামলা চালায় ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা। কার্যালয় ভাঙচুর, লুটপাটের পাশাপাশি ২০ জন কর্মীকে পণবন্দি করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইয়েমেনে রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র জিন আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, সানার দক্ষিণ-পশ্চিমে হদা অঞ্চলে হামলা চালিয়েছিল হাউথিরা।

জিন বলেন, রবিবার যাঁদের অপহরণ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে ৫ জন ইয়েমেনের নাগরিক ও ১৫ জন বিদেশি। সকলকে মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এএবং সানায় রাষ্ট্রসংঘের সমস্ত দপ্তর হাউথিদের হাত থেকে উদ্ধার করতে ওই সশস্ত্র সংগঠন ও অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রসংঘের আরেক কর্তা বলেন, আটক কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), ইউনিসেফ এবং মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ)-সহ রাষ্ট্রসংঘের বেশ কয়েকটি শাখা সংগঠনের সদস্য। অপহরণের পাশাপাশি দপ্তরের ফোন, সার্ভার, কম্পিউটার-সহ অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

হাউথি নিয়ন্ত্রণাধীন সানা, উপকূলীয় শহর হোদেইদা এবং উত্তর ইয়েমেনের সাদা প্রদেশে শক্ত ঘাঁটি হাউথিদের। এখানে রাষ্ট্রসংঘের দপ্তরগুলিতে গত কয়েকমাসে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হাউথিরা। ৫০ জনের বেশি কর্মীকে অপহরণ করেছে তাঁরা। চলতি বছরের শুরুতে সাদায় হাউথিদের হেফাজতে মৃত্যু হয় আন্তর্জাতিক সংগঠন WFP-এর এক কর্মীর। হাউথিদের অভিযোগ ইয়েমেনে কর্মরত রাষ্ট্রসংঘের কর্মীরা ইজরায়েল ও আমেরিকার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করে এবং তাদের কাছে গোপন তথ্য সরবরাহ করে। যদিও বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাষ্ট্রসংঘ। দফায় দফায় কর্মীদের অপহরণের জেরে গত জানুয়ারিতে উত্তর ইয়েমেনের সাদা প্রদেশে রাষ্ট্রসংঘের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে হাউথি নিয়ন্ত্রণাধীন সানায় বিমান হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল সেনা। সেই হামলায় মৃত্যু হয় সানার হাউথি প্রধানমন্ত্রী আল-রাহাবির। এছাড়াও সেদিন মৃত্যু হয় একাধিক মন্ত্রীর। সশস্ত্র গোষ্ঠীর তরফে জানানো হয়, গত এক বছরে সরকারের কর্মদক্ষতা পর্যালোচনায় একটি কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাহাবি এবং অন্য মন্ত্রীরা। তখনই বিমান থেকে বোমাবর্ষণ শুরু হয়। ইজরায়েলের এই নিখুঁত অভিযানের পর ইয়েমেনের রাষ্ট্রসংঘের কার্যলয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে হাউথিরা। দাবি করা হয় এই দপ্তরগুলি গুপ্তচরবৃত্তিতে যুক্ত। সেবার ১১ জনকে অপহরণ করেছিল এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *