বেড়াতে যাওয়ার নাম করে গাড়ি ধার নিয়েছিলেন ‘বন্ধু’। কিন্তু সেই গাড়ি ফেরত চাইতেই স্বরূপ বেরিয়ে পড়ে পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার সেই ব্যক্তির। গাড়ি ফেরত চাইলে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের সেন্ট্রাল লক আপে রেখে দেওয়ার হুমকি ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের। শুধু অবশ্য হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। গাড়ি ফেরত পেতে হলে ৫০ হাজার টাকা ‘তোলা’ দাবি করা হয়, এমনই অভিযোগ। বাধ্য হয়ে সাত হাজার টাকা ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে দেন, পুলিশের কাছে এমনই দাবি ওই অভিযোগকারীর। এই ব্যাপারে উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্তাকেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তাঁকে জেরার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর কলকাতার কেশবচন্দ্র স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা গত বছর তাঁর এক আত্মীয়র কাছ থেকে গাড়ি কেনেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই ওই ব্যক্তির পরিচিত সিভিক ভলান্টিয়ার বেড়াতে যাবেন বলে কয়েকদিনের জন্য গাড়িটি ধার নেন। গোয়েন্দা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় কর্মরত ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে ফেরাতে পারেননি অভিযোগকারী। গাড়ি নিয়ে অভিযুক্ত চলে যান। কিন্তু বহুদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও ওই সিভিক ভলান্টিয়ার গাড়ি ফেরত দেননি। পুলিশকে ওই অভিযোগকারী জানিয়েছেন যে, প্রথমে তিনি বলেন, তাঁর কাছে গাড়িটি নেই। কিন্তু চাপাচাপি করতেই শুরু হয় হুমকি। নিজের কর্মস্থল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের নাম করেই রোয়াব দেখাতে শুরু করেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। সরাসরি হুমকি দিয়ে ওই অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার বলেন, গাড়ি ফেরত চাইলেই তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে কোনও মামলায় গ্রেপ্তার করে সেন্ট্রাল লক আপে রেখে দেবেন।
এরপর একদিন অভিযোগকারীর স্ত্রীকে ফোনে হুমকি দিয়ে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার গাড়ি ফেরত পেতে গেলে ৫০ হাজার টাকা তোলা দিতে বলে বলে দাবি করেন। অত টাকা দিতে পারবেন না শুনে অভিযুক্ত গালিগালাজও করেন। শেষ পর্যন্ত গাড়ি ফেরত পেতে কেশবচন্দ্র স্ট্রিটের ওই বাসিন্দা সাত হাজার টাকা ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে দেন। কিন্তু টাকা দিলেও বহু অনুরোধের পরও ওই ব্যক্তি গাড়ি ফেরত পাননি। শেষ পর্যন্ত ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
