খাস কলকাতায় এক তরুণীকে গাড়িতে তুলে মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ। এমনকী গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় বছর ১৮ এর এক তরুণকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশ। প্রায় দু’কিলোমিটার গাড়ি ধাওয়া করে একেবারে ফিল্মি কায়দায়’ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে ধৃত ওই তরুণকে জেরা শুরু করেছে পুলিশ। কেন এই ঘটনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রেমে বাধা পেয়েই অভিযুক্ত ওই তরুণ এই কীর্তি ঘটিয়েছে। যদিও অন্যান্যদিক গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে সমাজমাধ্যমে তাঁর থেকে অপেক্ষাকৃত বয়সে ছোট তরুণের পরিচয় হয়। সম্পর্ক কিছুটা গড়াতেই ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় অভিযুক্ত। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ওই তরুণী। শুধু তাই নয়, এরপর থেকে অভিযুক্ত ওই তরুণকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। যা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। জানা যায়, এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই শনিবার দুজনের দেখা করার কথা ছিল। সেই মতো দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরের রাজা রামমোহন রায় রোড (পূর্ব) এর বাসিন্দা ওই তরুণীকে অভিযুক্ত কলেজ ছাত্র নিজের গাড়িতে তুলে নেয়। শুরু হয় দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি!
আরও পড়ুন:
পুলিশের কাছে তরুণীর দাবি, ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে বাগির খাল এবং বেহালা চৌরাস্তার মধ্যে যাওয়ার সময় গাড়ির ভিতর আটকে রেখে তাঁকে ঘুসি ও পদাঘাত করে ওই তরুণ। এমনকী চলন্ত গাড়িতেই তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয় বলেও অভিযোগ। দেওয়া হয় গালিগালাজ ও হুমকি! এখানেই শেষ নয়। এর পর গাড়ি থামিয়ে ধাক্কা দিয়ে ওই তরুণীকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় বলেওন অভিযোগ। রাতে এক ট্রাফিক সার্জেন্ট তরুণীকে উদভ্রান্ত হয়ে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে উদ্ধার করেন এবং বেহালা থানায় নিয়ে যান। পুলিশ আধিকারিকদের গোটা ঘটনা খুলে বলেন আক্রান্ত ওই তরুণী। আর তা জানতেই বেহালা অঞ্চলের প্রত্যেকটি থানা এবং ট্রাফিক গার্ড সক্রিয়ভাবে তল্লাশি চালাতে শুরু করে। চলে নাকা চেকিং।
এর মধ্যে ডায়মন্ড হারবার রোড এবং বনমালী নস্কর রোডের সংযোগস্থল থেকে গাড়িটিকে পুলিশ আটক করে এবং হাতেনাতে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে শর্তসাপেক্ষে ওই তরুণের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
