রিমি শীল, কলকাতা: রাজগঞ্জের বিতর্কিত বিডিও’র আগাম জামিনের ভাগ্য হাইকোর্টে ঝুলে রইল।
বারাসতের নিম্ন আদালত থেকে আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর হলেও তার পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়ে রাজ্যের উচ্চ আদালতে প্রশ্ন উঠল। বিডিও’র আগাম জামিন খারিজ চেয়ে রাজ্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতেই নিম্ন আদালতের বিচারক কেস ডায়েরি না চাওয়ায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন। শুনানি চলাকালীন তিনি মন্তব্য করেন, ‘খুনের মতো গুরুতর অভিযোগে বিচারক কেস ডায়েরি চাইলেন না? যে মামলায় অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটার, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটার রয়েছেন, হাতের কাছে কেস ডায়েরি রয়েছে অথচ তা দেখতে চাইলেন না?’ নিম্ন আদালতের বিচারকের বিচক্ষণতা নিয়েও হাইকোর্টের বিচারপতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা জজ মাইন্ড অ্যাপ্লাই করেছিলেন? তিনি তাঁর বিচক্ষণতা ও বিবেচনা প্রয়োগ করেছিলেন?’ এই মামলার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গেও বিচারপতির মন্তব্য, ‘সোনা লুট ও ডাকাতি যেভাবে সম্পর্কযুক্ত তাতে ঘটনা বহুদূর যাবে।’ তবে কেন বিডিও’র আগাম জামিন খারিজ হওয়া উচিত নয়, সেই সম্পর্কে বিডিও’র আইনজীবী সৌরভ চট্টোপাধ্যায় হলফনামা দিতে চেয়েছেন।
দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনের ঘটনায় উত্তরবঙ্গের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম জড়ায়। ইতিমধ্যেই পাঁচজন হেপাজতে রয়েছেন। কিন্তু প্রশান্ত তদন্তকারীদের হাতের নাগালে আসেননি। আগে থেকেই তিনি নিম্ন আদালতে আগাম জামিন নিয়ে রেখেছেন। তবে এই ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার একাধিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেই তদন্তে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। এই ঘটনায় বিধাননগর গোয়েন্দা দপ্তরের হাতে তদন্তভার রয়েছে। বিডিও কীভাবে এই খুনের ঘটনায় সম্পর্কযুক্ত, তার বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারীদের কাছে রয়েছে বলে বিশেষ সরকারি আইনজীবী দেবাশিস রায় আদালতে জানান। সোনার গয়না নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিডিও এই ঘটনায় কীভাবে জড়িত তার একাধিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নম্বর জোগাড় করা, তাঁকে দিয়ে দোকান খোলানো সহ সমস্ত ঘটনা সিসিটিভির ফুটেজ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে। ঘটনার দিন কীভাবে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিউটাউন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হল, কীভাবে দেহ ফেলা হল সমস্তটাই সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়েছে। বিডিও’র গাড়িচালক রাজু ঢালির ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁর ফোনেও এই সংক্রান্ত বিভিন্ন ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ানও মিলেছে। ঘটনার দিন লাবণি, বাইপাস হয়ে নিউটাউন পর্যন্ত কীভাবে যাওয়া হল সবটাই তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। পরের দিন সকালে বিডিও বিমানে উত্তরবঙ্গের নিজ কর্মস্থলে চলে যান। সেই টিকিটও তদন্তকারীদের কাছে রয়েছে।
রাজ্যের তরফে দায়ের করা আগাম জামিন বাতিলের আবেদনে বিডিও’র বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪০ (৩), ৩০৩(২২), ১০৩(১), ২৩৮, ৬১(২) এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৪৮৩(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু প্রশান্তর আইনজীবীর তরফে কেন এই খুনের ধারা দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পাশাপাশি কেন এই মামলা ও আগাম জামিন বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়, তা নিয়ে হলফনামা দিতে চান। বিচারপতি এদিন তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘এই ঘটনায় সোনা লুট ও ডাকাতি সংযুক্ত রয়েছে। তাই অভিযুক্ত যেই হোক, মামলা অনেকদূর গড়াবে।’ বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, কেন তাঁর আগাম জামিন বাতিল হবে না সে বিষয়ে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে উত্তর দিতে হবে। অর্থাৎ শনিবারের মধ্যে তিনি হলফনামা দেবেন। পালটা বক্তব্য জানাতে হলে রবিবারের মধ্যে রাজ্য জবাবি হলফনামা দিতে পারবে। সোমবার অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর ফের মামলাটির শুনানি রয়েছে।
