রাজ্যে ফের মৃত্যু বিএলও-র। এসআইআর কাজের চাপে মৃত্যু মেদিনীপুরের শালবনীর বিএলও-র। বৃহস্পতিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। অত্যাধিক কাজের চাপ, ভোটারদের নানা প্রশ্নের চাপ সামলাতে না পেরে এই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছেন বলে দাবি পরিবারের। অন্যদিকে, এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় পরিবার ও অন্যান্য সদস্যদের নাম না থাকায় মৃত হয়েছে রানাঘাটের এক বৃদ্ধের।
মৃত বিএলও-র নাম সুবিমল কারক। বয়স ৫৭। তিনি মেদিনীপুর বিধানসভার শালবনির বাঁকিবাঁধ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। লালগেরিয়া সাবলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুবিমলবাবু বিএলও হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রচুর ভোটার ফোন করতে থাকেন। এদিকে কাজের চাপ ছিলই। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কাজের চাপ সামলাতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাতেই মৃত্যু। পরিবারের একমাত্র জোরগেরে সদস্যের মৃত্যুতে সাংসার চলবে কী করে তা নিয়ে চিন্তায় পরিবার।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার জয়দেব দত্ত নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুতে হয়েছে। জানা গিয়েছে, বছর বাষট্টির বৃদ্ধের ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অনেকের নাম এসআইআর চূড়ান্ত তালিকায় নেই। তাতেই চিন্তায় ছিলেন জয়দেববাবু। সেই কারণেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের দাবি। দুই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে এলাকাগুলিতে। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই বিএলও থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মৃতুর খবর এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও খবর মিলছে। এবার মৃত্যু হল মেদিনীপুরের এক বিএলওর।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখ। সেই সময় রাজ্যের মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় নাম বাদ যায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ ভোটারের। ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল রাজ্যের মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ০৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জনে। কমিশনের দেওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, ফর্ম ৭ অর্থাৎ নাম বাতিলের ফর্ম জমা দেওয়ার পর নাম বাদ গিয়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের। তবে ফর্ম ৬ ও ৬-এতে নতুন করে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। ফর্ম ৮ নম্বরে যোগ হয়েছে ৬ হাজার ৬৭১ জন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
