নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: প্রজনন নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে এখন খুশির হাওয়া দুটি শাবককে ঘিরে। হওয়াটাই স্বাভাবিক, কেননা দুই দশকের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বন্যপ্রাণীর শাবক জন্ম নিল। তাও আবার এক জোড়া। ১০ বছরের চিতাবাঘ ডালিয়ার দুটি শাবকের চোখ ফুটেছে ২১ দিন পর সোমবার। যা দেখে খুশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক থেকে এখানকার বনকর্মীরা।
খুশি বনকর্তারাও। উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি বলছেন, ‘চিতাবাঘটি ফালাকাটা ব্লকের দলগাঁও চা বাগান থেকে উদ্ধার হয়েছিল। চিতাবাঘটিকে আনার পর চিকিৎসক ও এখানকার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যিনি আছেন, তাঁরা বুঝতে পারেন চিতাবাঘটি গর্ভবতী। এরপর থেকেই বিশেষ নজরে রাখা হয়েছিল। দুটো শাবক সুস্থ আছে।’
২০০৫ সালে দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির পর প্রচুর বাঘ ও চিতাবাঘ বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করে এখানে আনা হয়েছে। কিন্তু ডালিয়ার আগে কোনও চিতাবাঘ বা বাঘ এই কেন্দ্রে বাচ্চার জন্ম দেয়নি।
কারণ, এখানে প্রজনন নিষিদ্ধ। কিন্তু এই নিষিদ্ধ কেন্দ্রেই ডালিয়া এখন মা। যেহেতু উদ্ধারের সময় ডালিয়া গর্ভবতী ছিল, ফলে প্রজনন সংক্রান্ত নিয়মভঙ্গ হয়েছে বলা যাচ্ছে না। যেহেতু বিড়াল প্রজাতির প্রাণীরা একটু এদিক-ওদিক হয়েছে বুঝতে পারলে নিজের শাবককে মেরে ফেলে, তাই এমন প্রাণীর শাবকদের জন্মের ৭ থেকে ২১ দিনকে ডেঞ্জার পিরিয়ড হিসেবে দেখা হয়। শাবক দুটির বয়স ২১ দিন হয়ে যাওয়াতেই মূলত খুশির হাওয়া এখানে। তবে এখনও ৬৯ দিন শাবক দুটিকে নজরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, অভিজ্ঞ বনকর্মী পার্থসারথি সিনহা, প্রাণী চিকিৎসক উৎপল শর্মা ও বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাসোয়ানের বিশেষ নজরে ছিল ডালিয়া। প্রথমবার দুটি শাবককে পেয়ে তাঁরা প্রত্যেকেই খুশি। মিনি চিড়িয়াখানার দরজা আরও প্রশস্ত হল বলে মনে করছেন অনেকে। প্রাণী চিকিৎসক উৎপল শর্মা বলেন, ‘মা ও শাবক ভালো আছে। তবে আরও কিছুদিন নজরে রাখা হবে।’
