১০ বছর আগে এই ভারতের মাটিতেই টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে নেমেছিল দুই দল। ইডেন গার্ডেন্সে সেদিন লেখা হয়েছিল কামব্যাকের রূপকথা। শেষ ওভারে চারটে ছক্কা মেরে ইংল্যান্ডের নিশ্চিত বিশ্বজয় আটকে ট্রফি জিতে নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০ বছরের যন্ত্রণার বদলা নেওয়ার জন্য ভারতের মাটিতেই সুবর্ণ সুযোগ ছিল ইংরেজ বাহিনীর। কিন্তু নড়বড় করতে থাকা ব্রিটিশ সিংহরা আত্মসমর্পণ করল ক্যারিবিয়দের সামনে।
এই বিষয়ে আরও খবর
বুধবার ওয়াংখেড়েতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই মাঠেই আগের ম্যাচে দুর্বল নেপালের বিরুদ্ধে প্রায় হারতে বসেছিল ইংল্যান্ড। বুধবার টস জিতে ফিল্ডিং নেন ইংরেজ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। মাত্র ৮ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে শিমরন হেটমায়ার এবং রস্টন চেজের ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবিয়ানরা। তারপর ঝড় তোলেন শেরফান রাদারফোর্ড এবং জেসন হোল্ডার। ‘বাজবলের আবিষ্কর্তা’ ইংল্যান্ডকে একেবারে হাতে ধরে বাজবলেরই পাঠ দিলেন দুই ব্যাটার। রাদারফোর্ডের সংগ্রহ ৪২ বলে ৭৬ রান। হোল্ডার করলেন ১৭ বলে ৩৩।
একটা সময়ে বেশ চাপে পড়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ১৯৬ রানে গিয়ে থামল। বড় টার্গেট তাড়া করার শুরুটা ভালোই করেছিলেন ফিল সল্ট। ১৪ বলে ৩০ রান করে ভালো মঞ্চ গড়ে দেন। কিন্তু তারপর থেকেই ব্যর্থ বাজবলের প্রদর্শনী। জস বাটলার, টম ব্যান্টন, উইল জ্যাকস থেকে শুরু করে অধিনায়ক ব্রুক-কেউই লড়তে পারলেন না। অতি আগ্রাসন দেখাতে গিয়ে প্রত্যেকেই উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন। শেষ বেলায় স্যাম কুরান লড়াই করলেও শেষরক্ষা হল না। ফিল্ডিং হোক বা ব্যাটিং-দুটোতেই ভালো শুরু করেও ছন্দ ধরে রাখতে পারল না ইংল্যান্ড। নেপালের বিরুদ্ধে কোনওক্রমে জয় এসেছিল, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মুখ থুবড়ে পড়ল ব্রিটিশ বাহিনী।
এই বিষয়ে আরও খবর
বড় ব্যবধানে হেরে ইংল্যান্ডের সামনে এখন বেশ কঠিন অঙ্ক। পয়েন্ট টেবিলে তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। যেভাবে নেপালের বিরুদ্ধে রক্তচাপ বাড়িয়ে জিতেছে ইংল্যান্ড, তাতে স্কটল্যান্ড এবং ইটালির বিরুদ্ধে অঘটন ঘটার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুটো ম্যাচের একটাতেও হারলে বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারে তাদের। অন্যদিকে পরপর দুই ম্যাচ জিতে সুপার এইটা কার্যত নিশ্চিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সর্বশেষ খবর
