সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীপাবলির আবহে মুক্তি পেয়েছে আদিত্য সরপোতদারের ছবি ‘থামা’। মানব ও অবমানবের দুনিয়ার এক গল্প বুনেছেন পরিচালক এই ছবিতে। বলিউডে হরর ঘরানার ছবি এর আগে তৈরি হলেও তা ছিল চিরাচরিত ভৌতিক গল্প। সাধারণত ভূতের ছবি বলতে আমরা যা জানি। কিন্তু এর বাইরেও যে নানা ধরনের অলৌকিক শক্তি বা ‘সুপারন্যাচারাল’ শক্তির উপস্থিতিও যে রয়েছে এবং হলিউডের পাশাপাশি সমানভাবে তা নিয়ে যে বলিউডও কাজ করতে দক্ষ তা প্রমাণ করে দিয়েছে ম্যাডক সুপান্যাচারাল ইউনিভার্স। সেই জার্নি শুরু হয়েছিল ‘স্ত্রী’ ছবির হাত ধরে। এই ফ্রাঞ্চাইজির নতুন ছবি ‘থামা’ও বেশ গা ছমছমে এক আবহ তৈরি করেছে প্রথা মেনে। কেমন হল আয়ুষ্মান খুরানা ও রশ্মিকা মন্দানা অভিনীত এই ছবি?
এমনিতেও দর্শক হরর-থ্রিলার ঘরানার ছবি দেখার জন্যও অত্যুৎসাহী থাকেন। আর সেই ইচ্ছাপূরণ করার মোটামুটি সব রসদ এই ছবিতে রয়েছে। ছবি সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায় আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত চরিত্রটি পেশায় সাংবাদিক। সেই চরিত্রের নাম অলোক, যে বন্ধু-সহকর্মীদের সঙ্গে পাহাড়ে ট্রেকিংয়ে গিয়ে পড়ে বড় এক বিপদে। আর সেই বিপদ থেকে বাঁচতে পালাতে গিয়ে অবমানবের ডেরায় হাজির হয় সে। দেখা হয় সেখানেই ‘তারকা’র সঙ্গে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন রশ্মিকা মন্দানা। তারকার জীবনযাত্রা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হলেও তা জানতে উৎসাহী হয়ে পড়ে আলোক। আর বিপদের হাত থেকে পালাতে গিয়ে আহত আলোকের সেবাশুশ্রূষা করে সারিয়ে তোলে। আর সেখানেই বারবার সে অজান্তেই আমন্ত্রণ জানিয়ে ফেলে বিপদকে। সুপারন্যাচারাল শক্তি তাকে ধাওয়া করতে ভোলে না। পাহাড় থেকে সুস্থ হয়ে শহরে ফিরলেও সঙ্গে নিয়ে তারকাকে। তার জীবনযাত্রা, হাবভাব কোনও কিছুই স্বাভাবিক মনে হয়নি অলোকের বাবার। কিন্তু কপালের লেখাকে খণ্ডাবে কে? ধীরে ধীরে আলোক-তারকার মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। আর এর মধ্যেই তারকা তার আগের জগতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ পায়। ভালোবাসার মানুষকে আটকাতে গিয়ে আলোকের জীবনে আসে বিরাট এক পরিবর্তন। তারকার মতোই হয়ে ওঠে আলোকের জীবন। আসে আমূল পরিবর্তন। তবে সেই পরিবর্তন ঠিক কী? তা জানতে ছবি দেখতেই হবে।
তবে ছবিতে নায়ক নায়িকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উজ্জ্বল উপস্থিতি নজর কারলেও এই ছবির নামভূমিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি। এই অবমানব দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিধর বলে দাবি করে সে নিজেকে। নিয়ম ভাঙা তার কাছে সাধারণ এক বিষয়। আয়ুষ্মান ও রশ্মিকার প্রেমে একপ্রকার বাধা হয়ে দাঁড়ায় সে। তাকে কি নিজের শক্তিবলে হারাতে পারবে আয়ুষ্মান ও রশ্মিকা অভিনীত চরিত্র, সেটাই দেখার। তবে মূলত হরর ঘরানার ছবি হলেও এই ছবিতে অ্যাকশন, কমেডি, রোম্যান্সের মতো উপজীব্যও রয়েছে পুরোদস্তুর। ছবিতে আয়ুষ্মানের বাবার চরিত্রে পরেশ রাওয়াল সমস্ত কৌতূকের জোগান দিতে একাই একশো। সঙ্গে ছবির সেট সত্যিই দেখার মতো। তবে এই ম্যাডক সুপারন্যাচারাল ইউনিভার্সের অন্তর্ভুক্ত নতুন এই ছবিতে ফিরে এসেছে ‘ভেড়িয়া’। পর্দায় ফুটে উঠেছে বরুণ ধাওয়ান অ আয়ুষ্মান খুরানার জোরদার লড়াই। ক্যামিও চরিত্রে নজর কেড়েছেন বাঙলার ছেলে, অভিনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একাহ্নেই শেষ নয়, ‘ভেড়িয়া’ ও ‘থামা’, দুই ছবির দুই চরিত্রকে নিয়ে আগামীতে ছবি তৈরি ইঙ্গিত ছবি শেষে দিয়েছেন পরিচালক। যেখান থেকে বোঝাই যাচ্ছে। এখানেই ‘থামা’র জার্নি শেষ নয়। নতুন কিছু আরও আসবে দর্শকের জন্য। ঝকঝকে চিত্রগ্রহণ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ছবিতে অন্যমাত্রা যোগ করেছে ‘পয়জন বেবি’ আইটেম ডান্সে মালাইকা ও নোরা ফতেহির শরীরী বিভঙ্গী হিল্লোল তৈরি করেছে। সবমিলিয়ে বলা যায় এই ছবিতে বিনোদনের সমস্ত রসদের জোগান দিয়েছেন পরিচালক। বড়পর্দায় এই ছবি অদ্ভুতুড়ে এক আবহ তৈরি করতে বেশ এগিয়ে।
