‘আপনার সন্তানকে কেউ দায়ী করতে পারবে না’, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনায় মৃত পাইলটের বাবাকে আশ্বাস সুপ্রিম কোর্টের

‘আপনার সন্তানকে কেউ দায়ী করতে পারবে না’, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনায় মৃত পাইলটের বাবাকে আশ্বাস সুপ্রিম কোর্টের

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। দুর্ঘটনার জন্য ছেলেকে অহেতুক দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে বিমানটির চালক প্রয়াত ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালের বাবা ৮৮ বছরের পুষ্করাজ সবরওয়াল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর মামলাতেই কেন্দ্রের জবাব চাইল শীর্ষ আদালত। বৃদ্ধকে আশ্বস্ত করে শীর্ষ আদালত বলল, “কেউ আপনার সন্তানকে কোনও কিছুর জন্য দায়ী করতে পারবে না।”

পাঁচ মাস কেটে গিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১-এর মর্মান্তিক দুর্ঘটনার। যা প্রাণ কেড়েছিল ২৬০ জন মানুষের। এখনও সেই দুর্ঘটনার আসল কারণ প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে যা ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে পাইলটদের ভুলের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে। গত ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান আকাশে ওড়ার কয়েক সেকেন্ড পর ভেঙে পড়ে একটি মেডিক্যাল কলেজের উপর। ঘটনার তদন্তে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানটি যখন উপরে ওঠার জন্য গতি পাচ্ছে, তখনই দু’টি ইঞ্জিনের জ্বালানি ‘কাটঅফ’ মুডে চলে যায়। ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইঞ্জিন বন্ধের ঠিক আগের মুহূর্তে একজন পাইলট অপরজনকে বলেন, ‘ইঞ্জিন বন্ধ করলে কেন?’ অপর পাইলট জবাব দেন, ‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’ আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো দিয়েছে, তাতে দুর্ঘটনার দায় পাইলটের উপরে চাপানো হয়েছে।

ওই রিপোর্টকে কাঠগড়ায় তুলে মামলা দায়ের করেছিলেন সুমিত সবরওয়ালের বাবা পুষ্করাজ সবরওয়াল। তাঁর যুক্তি, ‘তদন্তের বর্তমান পদ্ধতিতে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত এবং পদ্ধতিগত কারণগুলি পর্যাপ্তভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। বা বাতিলও করা হয়নি। এমনভাবে নির্দিষ্ট অভিমুখের তদন্ত তথ্যগত ভুল দিক নির্দেশ করে। বিশেষ করে ক্রু সদস্যরা, যাঁরা আর আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন না, তাঁদের দায়ী করার ফলে দুর্ঘটনার মূল কারণে পৌঁছনোর প্রক্রিয়াও বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। যা ভবিষ্যতের উড়ান নিরাপত্তাকেও বিপণ্ণতার মুখে ফেলবে। ফলে গোটা বিষয়টিকে যেন নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করা হয়। সেজন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।

সেই মামলার প্রেক্ষিতে এবার কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সূর্য কান্ত পাইলটের বাবাকে বলছেন, “যে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। তবে এটার গ্লানি আপনার বয়ে নিয়ে বেড়ানোর কোনও অর্থ হয় না। কেউ আপনার সন্তানকে কোনও কিছুর জন্য দায়ী করতে পারবে না।” এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রের অসামরিক বিমান মন্ত্রক ও ডিজিসিএ-কে নোটিস পাঠানো হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *