আনম্যাপড শুনানিতে গরহাজির ৩ লক্ষের বেশি, তথ্যে অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশায় কমিশন

আনম্যাপড শুনানিতে গরহাজির ৩ লক্ষের বেশি, তথ্যে অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশায় কমিশন

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শনিবার তথ্যে অসঙ্গতির তালিকা টাঙানোর শেষ দিন। অথচ শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিএলওদের কাছে সফটওয়্যার না আসায় তালিকা টাঙানো নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে। আশা-আশঙ্কার দোলাচলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে বিএলও। শেষ মুহূর্তে সফটওয়্যার এলে এত কম সময়ের মধ্যে তালিকা ডাউনলোড করার পর প্রিন্টআউট নিয়ে কীভাবে বুথ, বিডিও অফিস বা মহল্লায় টাঙানো সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে আনম্যাপড-এর তালিকায় থাকা ৩ লক্ষের বেশি মানুষ শুনানিতে গরহাজির বলে কমিশন সূত্রের খবর। এদিকে তালিকা সংশোধনের কাজে গতি বাড়াতে আরও ২৯৪ জন সিনিয়র মাইক্রো পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়াও ফারাক্কার বিধায়ক মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুনানি কেন্দ্রে ভাঙচুর ও কমিশনকে হুমকির অভিযোগে এফআইআরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও ঘটনার পরেই এদিন স্থানীয় বিডিওকে চিঠি দিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন বিধায়ক। তবে শুনানি পর্বে আরও অশান্তির আশঙ্কায় কড়া পদক্ষেপ করল কমিশন। এবার শাস্তির আওতায় আনা হল জেলাশাসকদেরও। 

আরও পড়ুন:

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার ওই তালিকা প্রকাশের কথা। কমিশন জানিয়েছে, তথ্যগত অসঙ্গতির পাশাপাশি ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের তালিকাও প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ নামের তালিকা তারা প্রকাশ করার কথা। কিন্তু গোল পাকিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তথ্যে অসঙ্গতির তালিকা রয়েছে তাদের কাছে। কিন্তু শনিবার তালিকা প্রকাশের শেষ দিন হলেও রাত পর্যন্ত হাতে পাননি বিএলওরা। ফলে কোন প্রক্রিয়ায় ১ কোটি ২৬ লক্ষের নামের তালিকা একদিনের মধ্যে প্রকাশ করে টাঙান সম্ভব তা নিয়ে চুল ছিড়ছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের কর্তারা। কারণ, বিএলওদের শুনানি কেন্দ্রে হাজির থাকতে হচ্ছে। বহু সংখ্যক বিএলও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তাই আদৌ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ পালন সম্ভব নয় বলেই মনে কর্ছে কমিশনের একাংশ।

আরও পড়ুন:

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। সেই তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। আবার আনম্যাপড শুনানির একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে কমিশনের তথ্য বলছে, ১০ শতাংশ অর্থাৎ, প্রায় ৩ লক্ষ ২০ হাজারের কাছাকাছি ভোটার হাজিরাই হননি। এ বার যদি শুনানিতে হাজির না হওয়া নো ম্যাপিং ৩ লক্ষের নাম বাদ যায়, তবে ওই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬১ লক্ষ। ডাকা হলেও শুনানিতে যাননি ৩ লক্ষের বেশি ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার! ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের শুনানিতে তাঁদের নোটিস দিয়েছিল কমিশন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। সেই তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। আবার আনম্যাপড শুনানির একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে কমিশনের তথ্য বলছে, ১০ শতাংশ অর্থাৎ, প্রায় ৩ লক্ষ ২০ হাজারের কাছাকাছি ভোটার হাজিরাই হননি। এ বার যদি শুনানিতে হাজির না হওয়া নো ম্যাপিং ৩ লক্ষের নাম বাদ যায়, তবে ওই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬১ লক্ষ।

কমিশন সূত্রে খবর, দিনক্ষণ জানিয়ে প্রায় ৩২ লক্ষ ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এখন ওই শুনানি প্রায়ই শেষের মুখে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার শুনানিতে উপস্থিত হননি। এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ই কমিশন জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬। ওই সব ভোটাররা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে লিঙ্ক দেখাতে পারেননি। ‘নো-ম্যাপিং’ ছাড়াও তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে এমন ভোটারদেরও শুনানিতে ডেকেছে কমিশন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের শুনানির শেষ দিন। ওই মাসের ১৪ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তবে সেই সময়সীমা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন। তারা জানাচ্ছে, শুনানিপর্ব এখনও চলছে। নো ম্যাপিং কেউ যদি অংশ নিতে চান সেই সুযোগ দেওয়া হবে। না হলে নিয়ম মোতাবেক চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:

শুক্রবার কমিশন এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, শুনানি কেন্দ্রে হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের শারীরিক হেনস্থা করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তৎক্ষনাত কড়া আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। জেলাশাসকরা এই কাজ করবে। সেক্ষেত্রে জেলাশাসকদের মধ্যে গড়িমসি দেখা গেলে তাঁদেরকেও কড়া শাস্থির মুখে পরতে হবে। এদিন এসআইআর আতঙ্কে এক বৃদ্ধের মুত্যু হয়। জানা গিয়েছে, শুনানির নোটিস পেয়ে আতঙ্কে হৃদরোগে মৃত্যু হল ৭৫ বছরের আলি শেখের। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুরের নলবাট্টা গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে নামের বানান সংক্রান্ত ভুলের কারণে এসআইআর শুনানির নোটিস আসে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *