‘আদর্শ না মেনে কাশ্মীরে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছেন’, সিন্ধু চুক্তি বাতিলের নোটিসে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের

‘আদর্শ না মেনে কাশ্মীরে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছেন’, সিন্ধু চুক্তি বাতিলের নোটিসে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করে সরকারিভাবে পাকিস্তানকে নোটিস পাঠাল ভারত। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জলমন্ত্রকের সচিব সৈয়দ আলি মুর্তাজাকে চিঠি দিয়েছেন ভারতের জলশক্তি মন্ত্রকের সচিব দেবশ্রী মুখোপাধ্যায়। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বারবার সিন্ধু জলচুক্তিতে সংশোধন আনতে চেয়েছে ভারত। কিন্তু সেই পরিবর্তন না করে কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান। তাই অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করা হল।

১৯৬০ সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তি সই করে ভারত ও পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী, বিতস্তা ও চন্দ্রভাগার জলের উপরে পাকিস্তানের অধিকার ৮০ শতাংশ, ভারতের ২০ শতাংশ। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভারত ওই জল ব্যবহার করলেও তা আটকাতে পারবে না পাকিস্তান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই নয়াদিল্লির দাবি ছিল, সিন্দু জলচুক্তিতে সংশোধন করতে হবে। কারণ ভারতের নদীবাঁধ দেওয়া ইসলামাবাদের প্রবল আপত্তি। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নালিশ জানানো পাকিস্তানের কূটনৈতিক কৌশল হয়ে ওঠে। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে এই চুক্তিতে সংশোধন চেয়ে ইসলামাদকে কড়া নোটিসও পাঠায় ভারত।

তবে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারত চরম পদক্ষেপ করেছে পহেলগাঁও হামলার পর। বুধবার ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু চুক্তি বাতিল করা হল। যতদিন না পর্যন্ত পাকিস্তান সীমান্ত সন্ত্রাস থামাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর থাকবে না। এই পদক্ষেপকে যুদ্ধ ঘোষণার সমকক্ষ বলে তোপ দেগেছে পাকিস্তান। পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের উপর দোষ চাপিয়ে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছে ভারত, এমনটাই দাবি ইসলামাবাদের। তারা আরও বলে, সিন্ধু নদের প্রত্যেক ফোঁটা জলের উপর অধিকার রয়েছে পাকিস্তানের।

চুক্তি ঘিরে রণংদেহি পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারিভাবে জলচুক্তি বাতিলের কথা জানিয়ে চিঠি দিল ভারত। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, চুক্তির উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান। সীমান্ত সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে ইসলামাবাদ। অথচ ভারতের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও চুক্তি সংশোধন করছে না, বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করছে তারা। সেকারণেই এই চুক্তি বাতিল করেছে ভারত সরকার। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল এই চুক্তি। কিন্তু বিশ্বব্যাঙ্কের তরফে এই নিয়ে কিছু বলা হয়নি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *