রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: এক মুম্বইকর ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আইপিএল, সর্বত্র পারফর্ম করেও টেস্ট বা টি-টোয়েন্টি, ভারতের কোনও দলেই জায়গা করে নিতে পারেননি। ইংল্যান্ড সিরিজের পর, এশিয়া কাপের টিমেও সুযোগ পাননি শ্রেয়স আইয়ার। এবার আর এক মুম্বইকরের ক্রিকেট-আকাশেও প্রবল দুর্যোগের মেঘ ঘনাতে শুরু করে দিয়েছে।
তাঁর নাম? রোহিত গুরুনাথ শর্মা। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর দেশের জার্সিতে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্মাটে খেলা ছেড়ে দিয়েছেন রোহিত। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর দুঃসহ ফর্ম চলছিল মাঝে। যার পর একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাঁকে অবসর নিতে হয়। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেটের ‘হিটম্যান’ নিজে টেস্ট থেকে অবসর না নিলে তাঁকে বাদ দিয়ে দেওয়া হত। অন্তত জাতীয় নির্বাচকরা তাঁকে তেমনই বার্তা দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। যে হয় নিজে সরে যাও, নইলে তোমাকে বাদ দিয়ে দল ঘোষণা করা ছাড়া রাস্তা নেই। টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর রোহিত এখন মাত্র একটা ফর্ম্যাটই খেলেন-ওয়ানডে। কিন্তু পরিস্থিতি যা, তাতে ক্রিকেটমহলের একাংশের মনে হচ্ছে, ওয়ানডে-তেও না রোহিতকে একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়।
এটা ঘটনা যে, ভারতের প্রাক্তন সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গে বর্তমানে খাটাখাটনি করছেন রোহিত। কিন্তু তাঁর ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া কিংবা খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। একই রকম ভাবে বিরাট কোহলিও ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, সেটা নিয়ে বড়সড় জিজ্ঞাসাচিহ্ন রয়েছে। শোনা গেল, ইতিমধ্যে ‘প্রোজেক্ট রোহিত’ শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রভাবশালী মহল। কেউ কেউ বলছেন, আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরই সম্ভবত অধিনায়ক রোহিত শর্মার শেষ পর্ব দেখে নেবে।
আগামী অক্টোবরে তিন মাচের ওয়ানডে এবং তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলতে যাবে ভারত। সেই সিরিজে নাকি রোহিতের সামনে সম্মানজনক অবসরের একটা পথ খুলে দেওয়া হবে। যদি তিনি নিজেই ছেড়ে দেন, ঠিক আছে। না হলে পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজ থেকে শুভমান গিলকে নতুন নেতা বেছে নেওয়া হবে। অর্থাৎ, টেস্টে সম্মানজনক প্রস্থানের রাস্তা পাননি রোহিত। কিন্তু যা লেখা হল, সেটা যদি হয় শেষ পর্যন্ত, তা হলে হয়তো তিনি ওয়ানডে থেকে সম্মানজনক বিদায় নেওয়ার একটা সুযোগ পাবেন। ওয়াকিবহাল মহলের একটা অংশের বক্তব্য হল, বিরাটের ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচকদের উপর ছাড়লেও রোহিত নিয়ে বিশেষ আর আগ্রহী নন ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর। আর গম্ভীরই যে এ মুহূর্তে জাতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী চরিত্র, তা নতুন করে না লিখলেও চলে।
