অজয়ের পাড়ে বিস্ফোরণ, সেনার নিষ্ক্রিয় করা মর্টার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের?

অজয়ের পাড়ে বিস্ফোরণ, সেনার নিষ্ক্রিয় করা মর্টার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের?

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


অবশেষে অজয় নদ থেকে উদ্ধার হওয়া মর্টারটি নিষ্ক্রিয় করল সেনা জওয়ানেরা। শনিবার সাতসকালেই পূর্ব বর্ধমানের পানাগড় সেনা ঘাঁটি থেকে ৮ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে পরিদর্শনের পর নিষ্ক্রিয় করে গোলাকার ধাতব বস্তুটি। উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টবর নানুরের সিঙি-ঘিদহ সংলগ্ন লাউডোহা গ্রামে অজয় নদীর চরে ভাসতে দেখা যায় রহস্যময় ওই মর্টার সদৃশ বস্তুটিকে। স্থানীয়রা প্রথমে সেটিকে দেখে কৌতূহলবশত ভিড় জমালেও দ্রুতই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়েই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বোলপুর থানার পুলিশ। বস্তুটি বিপজ্জনক হতে পারে ভেবে পুলিশ তা নজরদারিতে রাখে এবং পরবর্তীতে বম্ব স্কোয়াড ও সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধাতব গোলাকার বস্তুটি সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি মর্টার শেল হতে পারে। ব্রিটিশ আমলে পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম সংলগ্ন এলাকায় সামরিক মহড়া হত বলে ধারণা। এদিন সকালে সেনা জওয়ানের দল প্রথমে অজয় নদীর চরে একটি খাল তৈরি করে। পরে বালির বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখে বস্তুটি। এরপর নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে তা নিষ্ক্রিয় করা হয়। নিষ্ক্রিয়করণের সময় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। যা দেখে আতঙ্কিত হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন স্থানীয়রা। গ্রামবাসী স্বপন দাস ও শেখ শফিউল বলেন,” নদীর চরে প্রথমে গোলাকার ধাতব বস্তুটি দেখা যায়। দেখতে বিশাল এবং ভারীও ছিল। আমরা স্পর্শ করে দেখেছিও। পরে পুলিশ ও সেনা এসে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে। বিস্ফোরণের মতো শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ।”

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে, বিশ্বভারতীর ভূগোল বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন,”অজয় নদীর প্রবাহের দেখা গেছে, বন্যার জলে বিভিন্ন সময়ে বহু বস্তু ভেসে এসেছে। তবে এটি সম্ভবত ব্রিটিশ সেনাদের সামরিক মহড়ার কোনো অস্ত্র বলেই মনে হয়েছে। বহু বছর বালির নিচে চাপা পড়ে থেকে ভেসে উঠেছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনও।” যদিও সেনা আধিকারিকদের পক্ষ থেকে বস্তুটি আসলে কী এবং কতটা বিপজ্জনক ছিল, সে বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এদিন বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার সময় কৌতুহল বসে হাজির হন সিঙি-ঘিদহ সংলগ্ন লাউডোহা গ্রামের বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *