অধিবেশন শেষে বাইরে এসে সবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং প্রহ্লাদ যোশী। রাহুল গান্ধী সম্পর্কেই কিছু একটা বলছিলেন তাঁরা। সেই সময় আচমকাই তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান কংগ্রেস নেতা। যা দেখে সেখানে আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না অশ্বিনী এবং প্রহ্লাদ! কার্যত ভূত দেখার মতো করে তড়িঘড়ি সেখান থেকে সরে গেলেন নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রী। রাহুল হাসতে হাসতে প্রহ্লাদকে দাঁড়াতেও বলেন। হাত ধরে তাঁকে বলেন, “আসুন না, একসঙ্গে কথা বলি!” কিন্তু কে শোনে কার কথা! রাহুলের হাত ছাড়িয়ে সেখান থেকে সরে গেলেন অশ্বিনী এবং প্রহ্লাদ।
বুধবার বিকেলের দিকে সংসদ চত্বরের এই নাটকীয় দৃশ্যপট ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে কংগ্রেসও কটাক্ষ করতে শুরু করেছে মোদি সরকারকে। অনেকের মতে, মোদি জমানায় এই দৃশ্য সত্যিই অবিশ্বাস্য! কারণ, রাহুলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিজেপি নানা সময়ে নানা কৌশল নিয়েছে। অন্তত তেমনই অভিযোগ কংগ্রেসের। কখনও রাহুলকে ‘পাপ্পু’ বলা, কখনও তাঁকে অপরিণত রাজনীতিক বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। কিন্তু এখন সময় যে কতটা বদলে গিয়েছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ বলে মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুন:
বুধবার সংসদে রাহুলের ভাষণে নানা বিষয় উঠে এসেছিল। ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি, এপস্টেইন ফাইলস-সহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। রাহুলের সেই ভাষণের জবাব দিতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিজেপির মন্ত্রীরা। তা করছিলেনও। প্রহ্লাদ, অশ্বিনীদের বক্তব্য, “বিরোধী দলনেতার উচিত, প্রমাণিত তথ্য হাতে নিয়ে কথা বলা।” আর সেই সময়েই তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান রাহুল। বিজেপির দুই মন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আচ্ছা ঠিক আছে। একসঙ্গে দাঁড়াই। একসঙ্গে কথা বলি।”
রাহুল একথা বলা মাত্রই সেখান থেকে সরে যান অশ্বিনী এবং প্রহ্লাদ। সেই সময় রাহুলের সঙ্গেই ছিলেন তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। দুই মন্ত্রী সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর রাহুল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “না, আমার কাছে তথ্য আছে। এপস্টেইন ফাইলগুলিতে হরদীপ পুরি এবং অনিল আম্বানির নাম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপর সরাসরি চাপ রয়েছে। এই চাপ না থাকলে কোনও প্রধানমন্ত্রী এমন (আমেরিকার সঙ্গে এই ধরনের বাণিজ্যচুক্তি) করতেন না। কৃষকদের সঙ্গে যা হয়েছে, ডেটা নিয়ে যা হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যা হয়েছে—স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোনও প্রধানমন্ত্রী এভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন না।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
