যুদ্ধের আঁচে গ্যাস সরবরাহে ধাক্কা! উৎপাদন বন্ধ হওয়ার শঙ্কা জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত দার্জিলিং চা’য়ের

যুদ্ধের আঁচে গ্যাস সরবরাহে ধাক্কা! উৎপাদন বন্ধ হওয়ার শঙ্কা জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত দার্জিলিং চা’য়ের

রাজ্য/STATE
Spread the love


বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সরবরাহ অনিশ্চিত হতেই বিপর্যয়ের মুখে জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত বিশ্ববন্দিত দার্জিলিং চা! অর্গানিক চায়ের গুণগত মান ঠিক রেখে বাগানের পাতা শুকনো করতে এবং সেটা থেকে জলীয় বাষ্প শুষে নিতে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার হয়ে থাকে পাহাড়ে। দার্জিলিং চা উৎপাদকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লার সাহায্যে চা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করলে উৎপাদিত চায়ে বিষাক্ত অ্যানথ্রাকুইনোনের মাত্রা ৪.৩ থেকে ২৩.৯ গুণ বেশি হতে পারে। এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে যায়। স্বভাবতই বিদেশের বাজারে চা পাঠানো সম্ভব হয় না। ফার্স্ট ফ্লাসের মরশুমে সেরা চা উৎপাদনের সময় এখন! চা উৎপাদকদের শঙ্কা, প্রয়োজন মতো বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস না-মেলায় এবার চা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকী রপ্তানিতেও সমস্যা হতে পারে বলেও আশঙ্কা।  

আরও পড়ুন:

চা বণিকসভাগুলো সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং পাহাড়ে জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত ৮৭টি চা বাগান রয়েছে। তারমধ্যে অন্তত ১৫টি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। ৭২টি চালু বাগানের মধ্যে ৬০টিতে জৈব পদ্ধতিতে অর্থাৎ অর্গানিক চা চাষ হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, এখানে চা কারখানাগুলোতে চা প্রক্রিয়াকরণ এবং শুকানোর কাজে কয়লা অথবা কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করা হয় না। কারণ, কয়লা বা কাঠ পুড়িয়ে শুকানোর প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত চায়ে বিশেষত গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অ্যানথ্রাকুইনোন থাকে। এক চা শিল্পপতি জানান, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার চায়ে অ্যানথ্রাকুইনোনের মাত্রা ৪.৩ থেকে ২৩.৯ গুণ বেশি হতে পারে। এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে যায়। অ্যানথ্রাকুইনোন ক্যানসার সৃষ্টিকারী কার্সিনোজেনিক উপাদান। তাই স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও চা শুকানোর সময় কয়লা পোড়া ধোঁয়ায় অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন বাষ্প চা পাতায় জমা হয়। ওই চা বিদেশে রপ্তানি সম্ভব নয়। অথচ দার্জিলিং পাহাড়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দু’মাস ‘ফার্স্ট ফ্লাশ’-এর পাতা তোলা হয়। ওই পাতা থেকে অন্তত দুই মিলিয়ন কেজি চা তৈরি হয়। এটা মোট উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ।

এক চা শিল্পপতি জানান, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার চায়ে অ্যানথ্রাকুইনোনের মাত্রা ৪.৩ থেকে ২৩.৯ গুণ বেশি হতে পারে। এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে যায়। অ্যানথ্রাকুইনোন ক্যানসার সৃষ্টিকারী কার্সিনোজেনিক উপাদান। তাই স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও চা শুকানোর সময় কয়লা পোড়া ধোঁয়ায় অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন বাষ্প চা পাতায় জমা হয়। ওই চা বিদেশে রপ্তানি সম্ভব নয়।

ইন্ডিয়ান প্ল্যানটার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এটাই মরশুমের সেরা দার্জিলিং চা। সেটা জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডে রফতানি হয়। কিন্তু বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত হতে পাহাড়ের চা শিল্পে বিপদ গর্জেছে। নর্থবেঙ্গল টি প্রডিউসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা চা শিল্পপতি সতীশ মিত্রুকা বলেন, ”দার্জিলিং পাহাড়ের বিশ্ববন্দিত অর্গানিক চায়ের গুণগত মান ঠিক রেখে বাগানের পাতা শুকনো করতে এবং সেটা থেকে জলীয় বাষ্প শুষে নিতে কয়লার পরিবর্তে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার হয়ে থাকে। কারণ, চায়ের গুণমান পরীক্ষার রিপোর্টে অ্যানথ্রাকুইনোন পাওয়া গেলে সেটা ফেরত পাঠানো হবে।”

তিনি জানান, প্রতি কেজি অর্গানিক দার্জিলিং চা উৎপাদনে ৫ কেজি জ্বালানি গ্যাস দরকার। ১ লক্ষ কেজি তৈরি করতে প্রয়োজন ৫০ হাজার কেজি গ্যাস। ফার্স্ট ফ্লাশের মরশুমে প্রতিটি বাগানে উৎপাদন চালু রাখতে গড়ে প্রয়োজন ১ ইউনিট অর্থাৎ ২০ সিলিন্ডার বাণিজ্যিক গ্যাস। কিন্তু সেটা মিলছে না। সতীশবাবুর অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই চা বাগানে গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধিকাংশ চা কারখানায় ৬টি সিলিন্ডার পৌঁছায়নি। কবে বাকি সিলিন্ডার পৌঁছবে সেটা গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, “ওই কারণে বাগানের কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়েছে। এই পরিস্থিতি কয়েকদিন চললে অনেক চা বাগান বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, ফার্স্ট ফ্লাশের চা তৈরি করতে না-পারলে চা বাগান খোলা রেখে লাভ নেই।”

আরও পড়ুন:

একে দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন কমেছে ৭ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৫.৩০ মিলিয়ন কেজি উৎপাদন হয়েছে। ২০২৪ সালে একই সময়ে উৎপাদন  ছিল ৫.৭১ মিলিয়ন কেজি। ২০২৩ সালে ছিল ৬.০১ মিলিয়ন কেজি। তার উপর এবার বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের মন্দা দশার জেরে উৎপাদন ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী।

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *