‘নর্থ-ইস্ট পার্টি?… মোমো, চিঙ্কি?’ উত্তর পূর্ব ভারতের মানুষদের কাছে এহেন ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ নতুন নয়! ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হোক কিংবা যে কোনও পরিসরে প্রায়শই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির বাসিন্দাদের বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে পড়ুয়ারা যখন বাইরের রাজ্যে কেউ কর্মসূত্রে আবার কেউ বা পড়াশোনা করতে আসেন। কখনও তাঁদের শারীরিক গড়ন নিয়ে রসিকতা করা হয়, আবার কখনও বা চেহারা, চোখ-মুখ নিয়ে বৈষম্যের শিকার হতে হয় তাঁদের। নিজস্ব নাম-পরিচয়ের পরিবর্তে ‘চিঙ্কি’, ‘চাইনিজ’ এইধরনের শব্দগুলোই যে ওঁদের সমার্থক হয়ে উঠেছে দিনে দিনে, তা বললেও অত্যুক্তি হয়। এবার এই ‘বৈষম্য সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অক্ষয় কুমার।
“মণিপুরের বাসিন্দা বলে আমাকেও বলা হয়, আমি নাকি চিন থেকে এসেছি। অন্যথায় আমাকে ‘চিঙ্কি’ কিংবা ‘মোমো’ বলেও ডাকেন অনেকে।”
আরও পড়ুন:
খিলাড়ি বর্তমানে ‘হুইল অফ ফরচুন’ রিয়ালিটি শোয়ের সঞ্চালনা নিয়ে ব্যস্ত। আর সেই শোয়েই উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের হয়ে সরব হলেন খিলাড়ি। জাতীয় টেলিভিশনের মঞ্চেই অক্ষয়ের স্পষ্ট বার্তা, “ওঁরাও আমাদের মতোই ভারতীয়।” সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট শোয়ের এক পর্বে প্রতিযোগী হিসেবে উত্তর-পূর্ব ভারতের জনৈক বাসিন্দা যোগ দিয়েছিলেন। মুম্বইয়ের রাস্তায় কীভাবে নিত্যদিন তিনি বিদ্রুপের শিকার হন, সেকথাই অক্ষয়ের সামনে ওই শোয়ে তুলে ধরেছিলেন ওই প্রতিযোগী। তিনি জানান, করোনাকালে তাঁকে ‘করোনা ভাইরাস’ বলে কটাক্ষ করে চিনে চলে যেতে বলে হত! এমনকী মাঝেমধ্যেই ‘চিনা-চাইনিজ’ বলে সম্বোধন করা হয় তাঁকে। প্রতিযোগীর মুখে একথা শোনার পরই খিলাড়ি যা করলেন, তা বর্তমানে চর্চার শিরোনামে।

অক্ষয় নিজের রূপটান শিল্পী কিমকে আমন্ত্রণ জানান মঞ্চে। যিনি আদতে মণিপুরের বাসিন্দা। কিমও সেই প্ল্যাটফর্মে নিজের সঙ্গে হওয়া বর্ণবিদ্বেষী ঘটনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, “মণিপুরের বাসিন্দা বলে আমাকেও বলা হয়, আমি নাকি চিন থেকে এসেছি। অন্যথায় আমাকে ‘চিঙ্কি’ কিংবা ‘মোমো’ বলেও ডাকেন অনেকে।” এরপরই মাঠে নামেন অক্ষয় কুমার। রূপটান শিল্পীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই ছেলেটি অনেকদিন ধরে আমার সঙ্গে কাজ করছে। ও আমার মেকআপ করে দেয়। আমার যত্ন নেয়। আমি একটা কথা বলে দিতে চাই যে, ওঁরা সবাই আমাদের মতোই ভারতীয়। আমি ইচ্ছে করে বিষয়টি জাতীয় টেলিভিশনের মঞ্চে নিয়ে এলাম, কারণ ওদের প্রায়শই এহেন কটাক্ষের শিকার হতে হয়। আমি, তুমি এবং এখানে যারা ব্যবসা করছে তাঁরাও ঠিক ততটাই ভারতীয়।” এরপরই কার্গিল যুদ্ধের সময়ে উত্তর-পূর্বের জওয়ানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন অক্ষয় কুমার। খিলাড়ির মন্তব্য, “ওঁরাও দেশের জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন। দেশকে রক্ষা করছেন। ওঁরাও ভারতীয়।” সেই পর্বের ভিডিও ভাইরাল হতেই অক্ষয় কুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
