ভোটবঙ্গে তো রঙ্গের অন্ত নেই। ইতিমধ্যে বেশ কিছু নমুনা সামনে আসছে। তার বেশিরভাগটাই গেরুয়া শিবিরের। কোনও প্রার্থী প্রচারে বেরিয়ে ভোটারের দাড়ি কেটে দিচ্ছেন, তো কেউ আবার ‘গোবলয়ের পার্টি’ তকমা সরিয়ে বাঙালিয়ানা প্রমাণে মাছ হাতে নিয়ে সারছেন প্রচার। তবে রবিবার সবচেয়ে বড় রঙ্গটা দেখা গেল খোদ বিরোধী দলনেতা তথা ভবানীপুর-নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যাহ্নভোজে। নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া শহিদ মিনারে এদিন মাছভাতে দুপুরের খাওয়া সারলেন শুভেন্দু। আবার সকালে বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দেখা গেল, হাতে বড়সড় কাতলা মাছ নিয়ে এলাকায় প্রচারে বার্তা দিচ্ছেন, বিজেপি আদৌ মাছ-মাংসের বিপক্ষে নয়।
এই বিষয়ে আরও খবর


আরও পড়ুন:
বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে বাংলার যে একটা জটিল সম্পর্ক, তা নিয়ে বহু কাটাছেঁড়া চলছে এবং চলবে। এই জটিলতার অন্যতম কারণ, গোবলয় কেন্দ্রিক রাজনীতি তথা মোদি-শাহ নেতৃত্বাধীন বিজেপির সঙ্গে বাংলার শত যোজন দূরত্ব। এই দলের একাধিক নেতানেত্রী থেকে শুরু করে সেলিব্রিটি সমর্থকের মুখে বাঙালির মৎস্যপ্রীতি সম্পর্কে কুকথাও কম শোনা যায়নি। বলিউডের নামী অভিনেতা পরেশ রাওয়াল তো বলেই ফেলেছিলেন, বাঙালির জন্য মাছ ভাজতে গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন কী? যদিও পরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে তাঁকে ক্ষমাও চাইতে হয়। একথাও ঠিক যে মোদি-শাহর রাজ্য গুজরাট এবং উত্তর-পশ্চিমের একটা বড় অংশের খাদ্যভ্যাস সম্পূর্ণ নিরামিষাশী হওয়ায় বাঙালির মাছপ্রীতি সেসব জায়গার বিজেপি নেতারা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু এটাই তো ভারত, নানা ভাষা, নানা মতের মতো খাদ্য বৈচিত্র্য।
সারাবছর অবশ্য এসব খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ঠাট্টা-রসিকতা যতই হোক না কেন, ভোটের সময় এসব ইস্যুকে তো রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে তুলে দেওয়া যায় না। অতএব, বাঙালির মন এবং সমর্থন টানতে আদ্যন্ত বাঙালি হয়ে উঠতে হবে বিজেপি প্রার্থীদের। তার অংশ খোদ হিন্দুত্বের রব তোলা শুভেন্দু অধিকারীর মাছেভাতে মধ্যাহ্নভোজ।


অন্যদিকে, বাঙালি ব্রাহ্মণ প্রার্থী শারদ্বতের মাছ হাতে সল্টলেকের আইএ ব্লকের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ভোটপ্রার্থনা করার পাশাপাশি বোঝানো, ‘আমি তোমাদেরই লোক’। হোক না ভোট বৈতরণী পেরনোর কৌশল, তবু বিজেপির এই মৎস্যপ্রীতি তো ছাব্বিশের নির্বাচনেই প্রথম দেখছে বঙ্গবাসী। তবে প্রশ্ন থাকছেই। মাছেভাতে পেট তো ভরবে, পদ্মের ভোটবাক্স ভরবে কি?
আরও পড়ুন:
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
