কথায় বলে, শখের তোলা আশি টাকা। কিন্তু সেই শখ যদি হয় রাজকীয় জীবনযাপনের, তবে পকেটের টান যে বেশ জোরালো হবে, তা বলাই বাহুল্য। আসলে মেজাজটাই আসল। বেড়াতে বেরিয়ে খরচের হিসেব কষলে বিলাসিতার পূর্ণ স্বাদ পাওয়া যায় না। ভারতের মাটিতেই এমন কিছু ঠিকানা রয়েছে, যেখানে এক রাতের খরচ সাধারণ মধ্যবিত্তের কয়েক বছরের উপার্জনের সমান। কিন্তু সেই খরচের বিনিময়ে যা মেলে, তা মূল্য ধরে বিচার না করাই ভালো। ইতিহাসের মুহূর্তকে নিজের জীবনে ধরে রাখার এ যেন এক বিরল সুযোগ।

আরও পড়ুন:
যোধপুরের উমেদ ভবন প্যালেস
নীল শহর যোধপুরের চিত্তর হিলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাসাদ আজও আভিজাত্যের শেষ কথা বলে। মজার বিষয় হল, এই প্রাসাদের একটি অংশে এখনও যোধপুরের রাজপরিবার বসবাস করে। এখানকার ‘মহারাজা স্যুইট’ বা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট’-এ এক রাত কাটানোর খরচ প্রায় ৮ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। তবে সাধারণ পর্যটকদের জন্য ৪০ হাজার টাকা থেকেও ঘরের ব্যবস্থা রয়েছে। ভিন্টেজ গাড়িতে চড়ে প্রাসাদে প্রবেশ এবং রাজকীয় তিলক সেবা দিয়ে অভ্যর্থনা আপনাকে নিমেষেই রাজারাসনে বসিয়ে দেবে। ৪ হাজারেরও বেশি মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি এই প্রাসাদের অন্দরমহলে পা রাখলে মনে হবে সময় কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছে। বিশালাকার ঝাড়লণ্ঠন আর ধবধবে সাদা মার্বেলের মেঝেতে রাজকীয় ছোঁয়া সর্বত্র।


আগ্রার ওবেরয় অমরবিলাস
তাজমহলকে সাক্ষী রেখে এক রাত কাটানো অনেকের কাছেই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবের রূপ দেয় ওবেরয় অমরবিলাসের ‘কোহিনূর স্যুইট’। এর জন্য রাত পিছু খরচ গুনতে হয় প্রায় ৮ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। এই রুমের সবথেকে বড় আকর্ষণ হল এর অবস্থান। বিছানা থেকে শুরু করে স্নানের ঘর— সব জানলা দিয়েই শাহজাহানের অমর সৃষ্টি আপনার সঙ্গী হবে। ভিড়ভাট্টা এবং দীর্ঘ লাইন এড়িয়ে একান্তে নিজের জানলা দিয়ে তাজমহলকে দেখার এমন সুযোগ আর কোথাও মেলা ভার। এখানকার পরিষেবা এতটাই নিখুঁত এবং ‘টেলিপ্যাথিক’ যে আপনার প্রয়োজনের কথা বলার আগেই তা হাজির হবে। মূলত বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং নামী তারকারাই এই স্যুইটের প্রধান অতিথি হয়ে আসেন।


জয়পুরের রামবাগ প্যালেস
রাজস্থানের জয়পুর মানেই রাজবাড়ি। কিন্তু রামবাগ প্যালেস হল তার মুকুট। এক সময়ের রাজনিবাস এখন পর্যটকদের জন্য আভিজাত্যের স্বর্গরাজ্য। এখানকার ‘গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট’-এ থাকতে গেলে পকেট থেকে খসবে ১০ লক্ষ টাকারও বেশি। দেওয়ালের সূক্ষ্ম কারুকাজ, সোনা দিয়ে বাঁধানো নকশা আর সিল্কের কার্পেট— সব মিলিয়ে এক এলাহি কারবার। বাগানে ঘুরে বেড়ানো ময়ূর আর প্রাসাদের অলিন্দে ইতিহাসের গন্ধ আপনাকে অন্য যুগে নিয়ে যাবে। এখানকার নিজস্ব রেস্তোরাঁ ‘সুবর্ণ মহল’-এ থালিতে পরিবেশন করা খাবার যেন সেই পুরনো রাজকীয় ভোজের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিকেলের চায়ের আসর থেকে শুরু করে প্রদীপ জ্বেলে সন্ধ্যা আরতি, প্রতিটি পদক্ষেপে এখানে রাজকীয় আভিজাত্য ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
